L-Ornithine L-Aspartate
ব্যবহার
এল-অরনিথিন এল-অ্যাসপার্টেট (সংক্ষেপে এলওএলএ) লিভারের রোগে ব্যবহৃত হয়, মূলত হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথির চিকিৎসা বা প্রতিরোধে। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত লিভার রক্ত থেকে অ্যামোনিয়া সরাতে পারে না, ফলে অ্যামোনিয়া জমে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এবং বিভ্রান্তি, ঘুম ঘুম ভাব, মনোযোগের অভাব বা হাত কাঁপা দেখা দেয়। সিরোসিস ও ফ্যাটি লিভারের মতো দীর্ঘমেয়াদি লিভারের সমস্যায় চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড, অরনিথিন ও অ্যাসপার্টেট সরবরাহ করে। লিভার ও পেশিতে এগুলো অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়া ও গ্লুটামিনে রূপান্তরে সাহায্য করে, যা কম ক্ষতিকর এবং শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। রক্তে অ্যামোনিয়া কমলে সচেতনতা ও অন্যান্য লক্ষণের উন্নতি হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
খাওয়ার গ্র্যানুলস বা ট্যাবলেট: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী; প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ৩ g (একটি স্যাশে পানি বা জুসে গুলে) দিনে ১ থেকে ৩ বার খাবারের পর, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী। ইনজেকশন বা ইনফিউশন: হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় দেন, মাত্রা ও গতি চিকিৎসক ঠিক করেন। ল্যাকটুলোজের মতো লিভারের অন্য চিকিৎসা পরামর্শমতো চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে জানা নেই। লিভারের রোগীরা প্রায়ই কয়েকটি ঔষধ খান এবং ঘুমের ঔষধের মতো কিছু ঔষধ বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, তাই সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
এতে অ্যালার্জি থাকলে বা গুরুতর কিডনি বিকলতা থাকলে (যেমন সিরাম ক্রিয়েটিনিন বেশি) চিকিৎসক অন্যভাবে সিদ্ধান্ত না দিলে ব্যবহার করবেন না। অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের কিছু বিরল জন্মগত রোগে এটি উপযুক্ত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বিশেষ করে খাওয়ার রূপে বমি বমি ভাব, বমি, পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে। ইনজেকশনে ইনফিউশনের জায়গায় ব্যথা বা জ্বালা এবং দ্রুত দিলে বমি বমি ভাব হতে পারে।
বিভ্রান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব বেড়ে গেলে, রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপত্তার যথেষ্ট তথ্য নেই। চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলে তবেই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
বিশেষ করে বেশি মাত্রায় কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা উচিত। হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি গুরুতর অবস্থা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান দরকার; এই ঔষধ চিকিৎসায় সহায়তা করে, লিভারের রোগ সারায় না। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। কিছু গ্র্যানুলসে চিনি বা মিষ্টিকারক থাকে; ডায়াবেটিস থাকলে লেবেল দেখুন। ঘুম ঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি থাকলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
পেটের অস্বস্তি ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো প্রভাব ভালোভাবে জানা নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিভার সুরক্ষাকারী, অ্যামোনিয়া কমানোর উপাদান (অ্যামিনো অ্যাসিড প্রস্তুতি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
L-Ornithine L-Aspartate এর সব ব্র্যান্ড