Azathioprine
ব্যবহার
অ্যাজাথায়োপ্রিন একটি ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট, অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করার ঔষধ। কিডনির মতো প্রতিস্থাপিত অঙ্গ প্রত্যাখ্যান প্রতিরোধে এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমেটোসাস, অটোইমিউন হেপাটাইটিস, ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজিজ (ক্রোনস ডিজিজ ও আলসারেটিভ কোলাইটিস) এবং কিছু ত্বক, রক্ত ও পেশির রোগসহ অটোইমিউন ও প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। এটি স্টেরয়েডের প্রয়োজনও কমাতে সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে অ্যাজাথায়োপ্রিন এমন পদার্থে রূপান্তরিত হয়, যা দ্রুত বিভাজিত কোষে ডিএনএ তৈরিতে বাধা দেয়। এতে মূলত সেই শ্বেত রক্তকণিকা (লিম্ফোসাইট) বৃদ্ধি ধীর হয়, যারা রোগপ্রতিরোধী আক্রমণ ও প্রদাহ ঘটায়। সম্পূর্ণ প্রভাব দেখা দিতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা রোগ, শরীরের ওজন, রক্ত পরীক্ষার ফল ও TPMT নামের এনজাইমের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে, এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো খেতে হয়। পেটের অস্বস্তি কমাতে সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খাবারের সাথে বা পরে, পানি দিয়ে আস্ত ট্যাবলেট গিলে খাওয়া হয়। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে ঔষধ বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (রক্তকণিকা ও লিভার পরীক্ষা) প্রয়োজন, বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাসে।
- পরিচর্যাকারীরা ভাঙা বা গুঁড়ো ট্যাবলেট হাতে ধরা এড়িয়ে চলবেন; ধরার পর হাত ধুয়ে ফেলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালোপিউরিনল ও ফেবুক্সোস্ট্যাট অ্যাজাথায়োপ্রিনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে অস্থিমজ্জার বিপজ্জনক ক্ষতি করতে পারে; ফেবুক্সোস্ট্যাট এর সাথে ব্যবহার করা যাবে না, আর অ্যালোপিউরিনল প্রয়োজন হলে চিকিৎসক অ্যাজাথায়োপ্রিনের মাত্রা অনেক কমিয়ে দেবেন। কো-ট্রাইমক্সাজল, মেথোট্রেক্সেট, ক্লোজাপিন ও কিছু এসই ইনহিবিটরের মতো রক্তকণিকা কমানো ঔষধ এই ঝুঁকি বাড়ায়। এটি ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে। জীবন্ত টিকা (যেমন বিসিজি, মুখে খাওয়ার পোলিও, হাম, রুবেলা, ইয়েলো ফিভার) এড়িয়ে চলতে হবে।
কারা খাবেন না
- অ্যাজাথায়োপ্রিন বা মার্কাপ্টোপিউরিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- TPMT এনজাইমের কার্যকারিতা খুব কম বা অনুপস্থিত থাকলে, যদি না বিশেষজ্ঞ খুব কম মাত্রার নির্দেশ দেন।
- জীবন্ত টিকা নেওয়ার সময়।
- গর্ভাবস্থায়, যদি না বিশেষজ্ঞ মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া, সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া এবং লিভার পরীক্ষার পরিবর্তন। চুল পাতলা হওয়া, র্যাশ, গিঁট ও পেশিতে ব্যথা এবং অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকের ক্যান্সার ও লিম্ফোমার ঝুঁকি সামান্য বাড়ে।
জ্বর, গলা ব্যথা, মুখে ঘা বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ বা রক্তক্ষরণ, তীব্র ক্লান্তি বা ফ্যাকাশে ভাব, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, তীব্র পেটব্যথা, অথবা শুরুর অল্প দিনের মধ্যে জ্বর, মাথা ঘোরা, র্যাশ ও পেশিতে ব্যথাসহ হঠাৎ প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কিছু রোগে ঔষধ বন্ধ করা মা ও শিশুর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থায় অ্যাজাথায়োপ্রিন চালিয়ে যাওয়া হতে পারে। নিজে থেকে বন্ধ করবেন না; গর্ভধারণের পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; চিকিৎসকের পরামর্শে ও শিশুকে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রায়ই বুকের দুধ খাওয়ানো যায়।
সতর্কতা
শুরুর আগে TPMT পরীক্ষা করা হতে পারে। সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ দ্রুত জানান। কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন, সানস্ক্রিন ও সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করান। জলবসন্ত বা শিংগলসে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং সংস্পর্শে এলে চিকিৎসককে জানান। লিভার বা কিডনির রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন। ভিন্ন পরামর্শ না থাকলে চিকিৎসার সময় নারী-পুরুষ উভয়েরই নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে অস্থিমজ্জার তীব্র ক্ষতি হয়ে সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ ও রক্তস্বল্পতা এবং বমিভাব, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে রক্তকণিকা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট (পিউরিন অ্যান্টিমেটাবলাইট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Azathioprine এর সব ব্র্যান্ড