Hydrocortisone
ব্যবহার
হাইড্রোকর্টিসোন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড, অর্থাৎ শরীরের নিজস্ব স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের কৃত্রিম রূপ। এটি ত্বকের ক্রিম ও মলম, ট্যাবলেট এবং ইনজেকশন হিসেবে পাওয়া যায়।
- ত্বকে: হালকা থেকে মাঝারি একজিমা, ডার্মাটাইটিস, পোকার কামড় এবং চুলকানি ও প্রদাহযুক্ত ত্বকের সমস্যা।
- ট্যাবলেট: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি যথেষ্ট কর্টিসল তৈরি না করলে (অ্যাডিসন রোগ, অ্যাড্রিনাল ইনসাফিশিয়েন্সি) হরমোনের ঘাটতি পূরণে এবং কিছু প্রদাহজনিত রোগে।
- ইনজেকশন: জরুরি অবস্থায়, যেমন মারাত্মক অ্যালার্জি, তীব্র হাঁপানির টান ও অ্যাড্রিনাল ক্রাইসিস, এবং অন্যান্য গুরুতর প্রদাহে।
কীভাবে কাজ করে
হাইড্রোকর্টিসোন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে ও প্রদাহ কমায়, ফলে লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানি কমে যায়। যাদের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ করে না, তাদের শরীরে ঘাটতি থাকা হরমোনের জায়গা এটি পূরণ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্রিম বা মলম (সাধারণত ১%): আক্রান্ত ত্বকে দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগান। মুখে ৭ দিনের বেশি নয়, আর অন্য জায়গায় ডাক্তারের পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না।
- অ্যাড্রিনাল ইনসাফিশিয়েন্সিতে ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে ১৫ থেকে ৩০ mg কয়েক ভাগে, বড় ডোজটি সকালে, ডাক্তারের নির্দেশমতো। হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স দেন; মাত্রা রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ট্যাবলেট ও ইনজেকশনের ক্ষেত্রে: রিফামপিসিন, ফেনিটোইন ও কার্বামাজেপিন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে, আর রিটোনাভির, ইট্রাকোনাজোল ও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন বাড়াতে পারে। এটি রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে (ডায়াবেটিসের ঔষধের ওপর প্রভাব পড়ে), আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো ব্যথানাশকের সাথে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়, ডাইইউরেটিকের সাথে পটাশিয়াম কমায় এবং ওয়ারফারিনের প্রভাব বদলাতে পারে। বেশি মাত্রায় চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলুন। ত্বকের ক্রিমে সাধারণত এমন সমস্যা হয় না।
কারা খাবেন না
- হাইড্রোকর্টিসোন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- ত্বকের ঔষধ: চিকিৎসা না করা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ (যেমন ঠোঁটের ঘা বা জলবসন্ত), ব্রণ, রোজেশিয়া এবং কাটা ত্বকে, যদি না ডাক্তার বলেন।
- ট্যাবলেট: চিকিৎসা না করা গুরুতর সংক্রমণে, যদি না ডাক্তার একে জরুরি মনে করেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প দিন ত্বকে ব্যবহারে সাধারণত সমস্যা হয় না; দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া, স্ট্রেচ মার্ক বা ত্বকের রং বদলাতে পারে। ট্যাবলেট ও ইনজেকশনে ক্ষুধা ও ওজন বাড়া, মেজাজ বদল, ঘুমের সমস্যা, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ বাড়া এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে হাড় ও মাংসপেশি দুর্বল হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট), কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, পেটে তীব্র ব্যথা, গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, অথবা ট্যাবলেট বন্ধের পর খুব দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও বমি হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অল্প দিনের জন্য ত্বকের ক্রিম সাধারণত গ্রহণযোগ্য। ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন দেওয়া যায়, যেমন অ্যাড্রিনাল ইনসাফিশিয়েন্সিতে, যার চিকিৎসা বন্ধ রাখা যাবে না। দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনে ক্রিম লাগাবেন না।
সতর্কতা
- কয়েক সপ্তাহের বেশি খাওয়ার পর ট্যাবলেট হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তারের পরামর্শে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে।
- স্টেরয়েড কার্ড সাথে রাখুন অথবা যেকোনো ডাক্তার, দাঁতের ডাক্তার বা সার্জনকে জানান যে আপনি স্টেরয়েড নিচ্ছেন।
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পাকস্থলীর আলসার, অস্টিওপোরোসিস, গ্লুকোমা, বিষণ্নতা, যক্ষ্মা থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- আগে জলবসন্ত বা হাম না হয়ে থাকলে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, সংস্পর্শে এলে ডাক্তার দেখান।
- ডাক্তার না বললে ব্যান্ডেজ বা ডায়াপারের নিচে ত্বকের ঔষধ ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি খেলে সাধারণত বিপদ হয় না। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় ব্যবহারে কুশিং সিনড্রোম হতে পারে (মুখ গোলাকার হওয়া, ওজন ও রক্তে শর্করা বাড়া, ত্বক পাতলা হওয়া)। বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে কোনো শিশু খেয়ে ফেললে, ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (গ্লুকোকর্টিকয়েড); ত্বকে ব্যবহারের মৃদু শক্তির কর্টিকোস্টেরয়েড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। ক্রিম জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Hydrocortisone এর সব ব্র্যান্ড