Kanamycin
ব্যবহার
কানামাইসিন একটি অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক। বাংলাদেশে এটি মূলত চোখের মলম বা ড্রপ হিসেবে পাওয়া যায়, যা চোখের বাইরের অংশের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন ব্যাকটেরিয়াল কনজাঙ্কটিভাইটিস (পুঁজসহ চোখ ওঠা), চোখের পাতার কিনারার প্রদাহ (ব্লেফারাইটিস), পাতার গ্রন্থির সংক্রমণ ও কর্নিয়ার সংক্রমণে এবং কখনো চোখে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। ইনজেকশনযোগ্য রূপটি শুধু হাসপাতালে কিছু গুরুতর সংক্রমণে, যেমন কিছু ঔষধপ্রতিরোধী যক্ষ্মায়, ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
কানামাইসিন ব্যাকটেরিয়ার রাইবোজোমে (যে অংশ প্রোটিন তৈরি করে) যুক্ত হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া ত্রুটিপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করে এবং বাড়তে পারে না, ফলে মারা যায়। এটি অনেক গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ও স্ট্যাফিলোককাসের বিরুদ্ধে কাজ করে, কিন্তু ভাইরাস বা ছত্রাকের বিরুদ্ধে নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চোখের মলম: প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুরা সাধারণত নিচের পাতার ভেতরে ছোট একটি রেখা (প্রায় ১ সেমি) দিনে কয়েকবার লাগান, লেবেলের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। চোখের ড্রপ: সাধারণত আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা দিনে কয়েকবার, নির্দেশনা অনুযায়ী। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন এবং টিউবের মুখ চোখে লাগাবেন না। অন্য নির্দেশ না থাকলে পুরো কোর্স শেষ করুন, সাধারণত ৭ দিন পর্যন্ত। ইনজেকশন শুধু হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন, মাত্রা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
চোখে ব্যবহারে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম; ভিন্ন চোখের ড্রপের মাঝে প্রায় ৫ মিনিট বিরতি দিন এবং মলম সবশেষে দিন। ইনজেকশনের ক্ষেত্রে জেন্টামাইসিন, ভ্যানকোমাইসিন, অ্যামফোটেরিসিন বি, সিসপ্লাটিন এবং ফ্রুসেমাইডের মতো শক্তিশালী ডাইউরেটিকের মতো কিডনি বা শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়, এবং এটি অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারকের কাজ বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- কানামাইসিন বা জেন্টামাইসিন, নিওমাইসিন বা টোব্রামাইসিনের মতো অন্য অ্যামিনোগ্লাইকোসাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- ইনজেকশন: গর্ভাবস্থায় এবং মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে দেওয়া উচিত নয়, যদি না বিশেষজ্ঞ এটিকে অপরিহার্য মনে করেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখে ব্যবহারে: অল্প সময়ের জন্য জ্বালা, মলমের পর ঝাপসা দেখা, লালভাব, চুলকানি বা পাতা ফোলা (অ্যালার্জি হতে পারে)। দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। ইনজেকশনে: কিডনির ক্ষতি, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যের সমস্যা, যা স্থায়ী হতে পারে।
মুখ, চোখের পাতা বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, চোখে তীব্র ব্যথা বা দৃষ্টি হারালে, অথবা ইনজেকশনের ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তিতে পরিবর্তন, কানে শব্দ, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চোখের মলম বা ড্রপ থেকে খুব কম শোষিত হয়, তাই ডাক্তার পরামর্শ দিলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অল্প দিনের কোর্স ব্যবহার করা যেতে পারে। ইনজেকশন গর্ভের শিশুর শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে, তাই বিকল্প না থাকলে ছাড়া গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা হয়।
সতর্কতা
চোখের সংক্রমণের চিকিৎসার সময় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না। মলম অল্প সময় দৃষ্টি ঝাপসা করে; পরিষ্কার না দেখা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না। ২ থেকে ৩ দিনে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান। চোখের পণ্য অন্যের সাথে ভাগ করবেন না, এবং খোলার পর প্যাকে লেখা সময় পার হলে ফেলে দিন। ইনজেকশনের ক্ষেত্রে কিডনির কার্যকারিতা, ঔষধের মাত্রা ও শ্রবণশক্তি পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চোখে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই; বেশি মলম দিলে শুধু জ্বালা হতে পারে। ইনজেকশনের মাত্রাতিরিক্ত হলে কিডনি, শ্রবণশক্তি ও ভারসাম্যের ক্ষতি এবং শ্বাসের পেশি দুর্বল হতে পারে; হাসপাতালে, কখনো ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে, চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক (চোখের ও ইনজেকশনযোগ্য)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Kanamycin এর সব ব্র্যান্ড