Amino Acid Ketoanalogues
ব্যবহার
অ্যামিনো অ্যাসিড কিটোঅ্যানালগ ট্যাবলেট দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে (CKD) আক্রান্ত, এখনও ডায়ালাইসিস শুরু হয়নি এমন রোগীদের কম প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের সাথে ব্যবহার করা হয়। এটি কিডনির ওপর বর্জ্যের চাপ কমিয়ে প্রোটিনের প্রয়োজনীয় উপাদান জোগায় এবং কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস ধীর করতে ও ইউরেমিয়ার (রক্তে বর্জ্য জমা) লক্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
প্রতিটি ট্যাবলেটে কিটো অ্যাসিড (নাইট্রোজেন অংশ ছাড়া অ্যামিনো অ্যাসিড) এবং কিছু অত্যাবশ্যক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, সাধারণত ক্যালসিয়াম লবণ হিসেবে। শরীরে কিটো অ্যাসিড ইউরিয়ার মতো বর্জ্য থেকে নাইট্রোজেন নিয়ে অত্যাবশ্যক অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে পারে কিন্তু ইউরিয়া কম তৈরি হয়, তাই অপুষ্টি ছাড়াই খুব কম প্রোটিনের খাদ্য মেনে চলা যায়। এর ক্যালসিয়াম অন্ত্রে কিছু ফসফেটও আটকায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কিডনি বিশেষজ্ঞের নির্দেশমতো খান। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রচলিত মাত্রা দিনে প্রতি ৫ kg ওজনের জন্য প্রায় ১টি ট্যাবলেট (৭০ kg ওজনের জন্য দিনে ৩ বার ৪ থেকে ৮টি), তিন বেলার প্রধান খাবারে ভাগ করে। খাবারের সাথে একসাথে যাতে যায় সেজন্য খাওয়ার সময় ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের ঠিক করা কম প্রোটিনের খাদ্য ও ক্যালরির সাথেই এটি ব্যবহার করতে হবে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এর ক্যালসিয়াম একই সময়ে খাওয়া টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্যান্য কুইনোলোন, আয়রন ও লেভোথাইরক্সিনের শোষণ কমাতে পারে; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন। অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত ফসফেট বাইন্ডার আলাদা সময়ে খান। ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিজক্সিনের প্রভাব বাড়তে পারে। ভিটামিন D বা অন্য ক্যালসিয়াম খেলে ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে (হাইপারক্যালসেমিয়া)।
- অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের বংশগত রোগ থাকলে (যেমন ফিনাইলকিটোনুরিয়া, কারণ কিছু পণ্যে অ্যামিনো অ্যাসিডের উৎস থাকে)।
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও পেটের গোলমাল, বমি বমি ভাব বা পেট ভরা ভাব হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া, যাতে ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পিপাসা, বমি বমি ভাব ও বিভ্রান্তি হতে পারে।
তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, বমি, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, অথবা শরীর ফোলা ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য কম। গর্ভাবস্থায় কিডনি রোগে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা দরকার; ডাক্তার পরামর্শ দিলেই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট পরীক্ষা করা হয় এবং ভিটামিন D বা অন্য ক্যালসিয়ামের মাত্রা সমন্বয় করতে হতে পারে। খাদ্য পরিকল্পনা সঠিকভাবে মেনে চলুন; কম প্রোটিন ও যথেষ্ট ক্যালরি ছাড়া ট্যাবলেট ঠিকমতো কাজ করে না। নিয়মিত ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের সাধারণত প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহার করা হয় না। কিছু পণ্যে ফিনাইলঅ্যালানিন বা টাইরোসিন থাকে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে। ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন; রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের পুষ্টি সম্পূরক; অত্যাবশ্যক অ্যামিনো অ্যাসিড ও কিটো অ্যাসিড প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Amino Acid Ketoanalogues এর সব ব্র্যান্ড