Lisinopril
ব্যবহার
লিসিনোপ্রিল ব্যবহার হয়:
- উচ্চ রক্তচাপে।
- হার্ট ফেইলিউরে, অন্য ঔষধের সাথে।
- হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে শুরু করে হৃৎপিণ্ডকে রক্ষায়, ডাক্তারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
- উচ্চ রক্তচাপসহ ডায়াবেটিসজনিত কিডনির সমস্যায়।
কীভাবে কাজ করে
লিসিনোপ্রিল একটি ACE ইনহিবিটর। এটি এমন একটি এনজাইমকে আটকে দেয়, যা দিয়ে শরীর এনজিওটেনসিন টু নামের একটি হরমোন তৈরি করে; এই হরমোন রক্তনালী সরু করে। ফলে রক্তনালী শিথিল ও প্রশস্ত হয়, রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডের কাজের চাপ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- উচ্চ রক্তচাপ (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে একবার ১০ mg দিয়ে শুরু (বয়স্ক, কিডনির সমস্যা আছে বা আগে থেকে ডাইউরেটিক খাচ্ছেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৫ mg বা কম)। সাধারণ নিয়মিত মাত্রা দিনে একবার ২০ mg; ডাক্তার প্রয়োজনে বদলাতে পারেন।
- হার্ট ফেইলিউর: সাধারণত দিনে একবার ২.৫ mg দিয়ে শুরু, ডাক্তার ধীরে ধীরে বাড়ান।
- হার্ট অ্যাটাকের পর ও ডায়াবেটিক কিডনি রোগে: ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী।
- শিশু: বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী।
প্রতিদিন একই সময়ে একবার খান, খাবারের আগে বা পরে। প্রথম ডোজে মাথা ঘুরতে পারে, তাই অনেক সময় রাতে শোয়ার আগে খেতে বলা হয়। ভালো বোধ করলেও খাওয়া চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাসিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প এবং পটাসিয়াম ধরে রাখা ডাইউরেটিক (স্পাইরোনোল্যাকটোন, এপলেরেনোন, অ্যামিলোরাইড) রক্তে পটাসিয়াম বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়াতে পারে।
- আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও অন্যান্য NSAID ব্যথানাশক এর কাজ কমাতে এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- স্যাকুবিট্রিল/ভ্যালসারটানের সাথে বা এটি বন্ধের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাবেন না।
- ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে অ্যালিসকিরেনের সাথে খাবেন না।
- ডাইউরেটিক ও অন্যান্য রক্তচাপের ঔষধের সাথে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের সাথে রক্তে শর্করা বেশি কমতে পারে।
কারা খাবেন না
- লিসিনোপ্রিল বা অন্য কোনো ACE ইনহিবিটরে এলার্জি থাকলে।
- আগে কখনও এঞ্জিওইডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা হঠাৎ ফুলে যাওয়া) হয়ে থাকলে, কারণ যা-ই হোক।
- গর্ভাবস্থায়।
- ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় অ্যালিসকিরেনের সাথে, বা স্যাকুবিট্রিল/ভ্যালসারটানের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথা ঘোরা (বিশেষ করে দাঁড়ানোর সময়), মাথাব্যথা, শুকনো খুসখুসে কাশি, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, এবং রক্ত পরীক্ষায় কিডনির কাজ বা পটাসিয়ামে পরিবর্তন।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যাওয়া, বা গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট।
- অজ্ঞান হওয়া বা তীব্র মাথা হালকা লাগা।
- বুকে ব্যথা বা দ্রুত ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন।
- চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, বা পেটে তীব্র ব্যথা।
- খুব কম প্রস্রাব হওয়া, বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সাথে পেশিতে দুর্বলতা (পটাসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে)।
- জ্বর, গলাব্যথা বা মুখের ঘা যা সারছে না।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না। এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসের পর। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা করলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানান, যাতে ঔষধ বদলানো যায়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বিশেষ করে নবজাতক বা অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে, এটি পরামর্শ করা হয় না; ডাক্তার অন্য ঔষধ বেছে নিতে পারেন।
সতর্কতা
- শুরুর আগে ও পরে নিয়মিত কিডনির কাজ ও পটাসিয়াম পরীক্ষা করান।
- বমি, ডায়রিয়া বা পর্যাপ্ত পানি না খেলে পানিশূন্যতা ও তীব্র মাথা ঘোরা হতে পারে; সেরে ওঠা পর্যন্ত ঔষধ বন্ধ রাখবেন কিনা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- অস্ত্রোপচার বা অ্যানেস্থেসিয়ার আগে ডাক্তার বা ডেন্টিস্টকে জানান যে আপনি এটি খাচ্ছেন।
- হৃৎপিণ্ডের ভালভ সরু হওয়া, কিডনির ধমনী সরু হওয়া, এবং কিডনি বা লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- মাথা ঘোরা এড়াতে বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে ধীরে উঠুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ খুব কমে যেতে পারে, তীব্র মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, হৃৎস্পন্দন কমে বা বেড়ে যাওয়া ও কিডনির সমস্যা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ACE ইনহিবিটর (রক্তচাপ কমানোর ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Lisinopril এর সব ব্র্যান্ড