Silymarin & DL-Alpha Tocopherol
ব্যবহার
এই সাপ্লিমেন্টে মিল্ক থিসল (সিলিবাম ম্যারিয়ানাম) বীজের নির্যাস সিলিমারিনের সাথে ভিটামিন ই এর একটি রূপ ডিএল-আলফা টোকোফেরল মেশানো থাকে। চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসার পাশাপাশি লিভারের সহায়ক যত্ন হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়, যেমন ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহলজনিত লিভারের ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস এবং ঔষধ বা বিষাক্ত পদার্থজনিত লিভারের ক্ষতিতে। এর উপকারিতার প্রমাণ মিশ্র ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সীমিত; এটি লিভারের রোগ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
সিলিমারিন কয়েকটি উদ্ভিজ্জ উপাদানের মিশ্রণ (মূলত সিলিবিনিন), যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, লিভার কোষের পর্দা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, প্রদাহ ও ক্ষতচিহ্ন কমাতে পারে এবং লিভার কোষের মেরামতে সহায়তা করতে পারে। ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবণীয় একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ফ্রি র্যাডিকেলজনিত ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করে; অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভারে এটি নিয়ে গবেষণা হয়েছে। একসাথে এগুলো লিভারের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেবন করুন, সাধারণত খাবারের সাথে, যাতে ভিটামিন ই ভালোভাবে শোষিত হয়। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাবেন না, কারণ দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই ক্ষতিকর হতে পারে। অন্য চিকিৎসা ও পরামর্শমতো রক্ত পরীক্ষা চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভিটামিন ই, বিশেষ করে উচ্চ মাত্রায়, ওয়ারফারিন, অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সিলিমারিন রক্তে শর্করা কমিয়ে ইনসুলিন বা মেটফরমিনের মতো ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে এবং লিভারে প্রক্রিয়াজাত কিছু ঔষধের মাত্রা বদলাতে পারে। ভিটামিন ই কিছু কোলেস্টেরল ও ক্যান্সারের চিকিৎসার উপকার কমাতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন, সব চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- মিল্ক থিসল বা ডেইজি পরিবারের গাছ, যেমন র্যাগউইড, গাঁদা বা চন্দ্রমল্লিকায় অ্যালার্জি থাকলে
- ভিটামিন ই বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা ভিটামিন কে এর ঘাটতি থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
- স্তন, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের মতো হরমোন সংবেদনশীল রোগ থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত এটি ভালোভাবে সহ্য হয়। পেটের অস্বস্তি, বমিভাব, পাতলা পায়খানা, পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা ও ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই খেলে ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা ও রক্তপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, প্রস্রাব বা পায়খানায় রক্ত, তীব্র মাথাব্যথা, অথবা ত্বক বা চোখের হলুদ ভাব বাড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণে ভিটামিন ই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ, তবে এ সময় সিলিমারিনের নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য নেই। চিকিৎসক পরামর্শ দিলেই কেবল এই সংমিশ্রণ ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
লিভারের রোগের জন্য চিকিৎসকের সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা প্রয়োজন; এর বদলে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করবেন না। লিভারের সমস্যা থাকলে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন। পরিকল্পিত অপারেশনের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে সেবন বন্ধ করুন এবং সার্জনকে জানান যে আপনি ভিটামিন ই খাচ্ছেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবারে বেশি খেলে সাধারণত গুরুতর কিছু হয় না, তবে পেটের অস্বস্তি ও ডায়রিয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ই রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। কেউ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে বা কোনো শিশু ক্যাপসুল গিলে ফেললে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন অথবা প্যাকেটসহ নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিভার সুরক্ষাকারী সাপ্লিমেন্ট (ভিটামিন ই সহ ভেষজ নির্যাস)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Silymarin & DL-Alpha Tocopherol এর সব ব্র্যান্ড