Mecobalamin
ব্যবহার
মেকোবালামিন (মিথাইলকোবালামিন) হলো ভিটামিন বি১২ এর সক্রিয় রূপ। এটি স্নায়ুর সমস্যা (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি), যেমন হাত-পায়ে অবশ ভাব, ঝিমঝিম, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতিসহ, চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি ও এর কারণে হওয়া রক্তস্বল্পতাতেও (মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া) এটি ব্যবহার হয়; এই ঘাটতি নিরামিষ খাবার, বেশি বয়স, পাকস্থলীর সমস্যা বা দীর্ঘদিন মেটফরমিন বা অ্যাসিড কমানোর ঔষধ খাওয়ার কারণে হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
সুস্থ লোহিত কণিকা তৈরি এবং স্নায়ুর সুরক্ষামূলক আবরণ গঠন ও মেরামতের জন্য ভিটামিন বি১২ দরকার। মেকোবালামিন আগে থেকেই শরীরের ব্যবহারযোগ্য রূপে থাকে, তাই এটি সরাসরি স্নায়ুকোষে কাজ করে সেগুলোকে সেরে উঠতে ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫০০ mcg দিনে তিনবার খাবারের পর, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। কিছু পণ্য ১৫০০ mcg দিনে একবার। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশি বা শিরায় দেন, সাধারণত শুরুতে ৫০০ mcg সপ্তাহে তিনবার, পরে কম ঘন ঘন, ডাক্তারের নির্দেশমতো। স্নায়ুতে পুরো উপকার পেতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে। শিশুদের ক্ষেত্রে: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মেটফরমিন, অ্যাসিড কমানোর ঔষধ (যেমন ওমিপ্রাজল ও র্যানিটিডিন), কলচিসিন এবং দীর্ঘদিন ক্লোরোম্যাফেনিকল ভিটামিন বি১২ এর মাত্রা বা কাজ কমাতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপান শোষণ কমায়। শুধু ফলিক অ্যাসিড খেলে বি১২ এর ঘাটতি ঢাকা পড়ে যেতে পারে, তাই রক্তস্বল্পতা থাকলে দুটোরই মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।
কারা খাবেন না
মেকোবালামিন, কোবালামিন (ভিটামিন বি১২) বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কখনও ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটের গোলমাল, মাথাব্যথা বা হালকা র্যাশ হতে পারে। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা শক্ত ভাব হতে পারে।
গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, বিশেষ করে ইনজেকশনের পর, দ্রুত চিকিৎসা নিন: মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দ, অজ্ঞান ভাব বা সারা শরীরে চাকা চাকা ফুলে ওঠা।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ভিটামিন বি১২ দরকার। সাধারণ মাত্রা নিরাপদ ধরা হয়; চিকিৎসার জন্য বেশি মাত্রা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান।
সতর্কতা
- অবশ ভাব ও ঝিমঝিমের অনেক কারণ থাকতে পারে; কারণ জানতে ডাক্তার দেখান, বিশেষ করে যদি বাড়তে থাকে।
- প্রায় এক মাস পরেও কাজ না করলে নিজে চালিয়ে না গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- লেবার্স রোগ (একটি বংশগত চোখের রোগ) থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন বি১২ ব্যবহার করবেন না।
- পারদ বা পারদযুক্ত যৌগ নিয়ে কাজ করলে পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভিটামিন বি১২ এর বিষাক্ততা খুব কম, অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম; বেশি খেয়ে ফেললে বা কোনো শিশু ট্যাবলেট গিলে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন বি১২ (পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, সক্রিয় কো-এনজাইম রূপ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে (আলোতে মেকোবালামিন নষ্ট হয়) ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট আসল প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Mecobalamin এর সব ব্র্যান্ড