Acemetacin
ব্যবহার
এসেমেটাসিন একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID)। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (মেরুদণ্ডের প্রদাহ) এবং মচকাসহ আঘাতের পরের ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমাতে, পাশাপাশি টেন্ডন ও গিরার প্রদাহে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে এসেমেটাসিন ইনডোমেটাসিনে পরিণত হয়। এটি সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম বন্ধ করে, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, ফোলা ও জ্বর সৃষ্টি করে; এটি কমলে ব্যথা ও প্রদাহ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: ৬০ mg দিনে দুই বা তিনবার, অর্থাৎ দৈনিক ১২০ থেকে ১৮০ mg, অথবা ডাক্তারের নির্দেশমতো। খাবারের সাথে বা পরপরই এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় সবচেয়ে কম সময় ব্যবহার করুন। শিশুদের জন্য সুপারিশকৃত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা অ্যাসপিরিনের মতো অন্য NSAID পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, কর্টিকোস্টেরয়েড ও সার্ট্রালিনের মতো SSRI রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- এটি রক্তচাপের ঔষধ ও মূত্রবর্ধকের কাজ কমাতে এবং এগুলোর সাথে কিডনির ক্ষতি বাড়াতে পারে।
- লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- এসেমেটাসিন, ইনডোমেটাসিন, অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID এ অ্যালার্জি (এগুলোতে হাঁপানি বা আমবাত হলেও)।
- বর্তমানে বা আগে পেটে আলসার বা রক্তক্ষরণ।
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, কিডনি বা লিভারের রোগ।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাস।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। কম সাধারণ: ঘুমঘুম ভাব, র্যাশ, শরীরে পানি জমা ও রক্তচাপ বাড়া। গুরুতর: পেটে আলসার ও রক্তক্ষরণ, কিডনির সমস্যা, দীর্ঘ ব্যবহারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক।
কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, বুকে ব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার পরামর্শ না দিলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন এবং শেষ ৩ মাসে কখনোই ব্যবহার করবেন না। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশকৃত নয়।
সতর্কতা
- বয়স্ক, হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন।
- মাথা ঘোরা বা ঘুমঘুম ভাব হলে গাড়ি চালাবেন না।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, এটি পাকস্থলীর ক্ষতি বাড়ায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঘুমঘুম ভাব, মাথাব্যথা এবং ক্ষেত্রবিশেষে খিঁচুনি বা কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID), ইন্ডোল অ্যাসেটিক এসিড জাতীয়।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Acemetacin এর সব ব্র্যান্ড