Methyl Prednisolone
ব্যবহার
মিথাইলপ্রেডনিসোলোন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড) ঔষধ, যা প্রদাহ ও শরীরের অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া কমায়। গুরুতর এলার্জি, হাঁপানি ও সিওপিডির হঠাৎ বাড়াবাড়ি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অন্যান্য অস্থিসন্ধির প্রদাহ, লুপাস ও অন্যান্য অটোইমিউন রোগ, গুরুতর চর্মরোগ, অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, কিছু কিডনি ও রক্তের রোগ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের পুনরাবৃত্তি এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর শরীরের প্রত্যাখ্যান ঠেকাতে এটি ব্যবহার হয়। গুরুতর বা জরুরি ক্ষেত্রে এবং অস্থিসন্ধিতে দেওয়ার জন্য ইনজেকশন ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির তৈরি হরমোন কর্টিসলের মতো কাজ করে। ফোলা, লালচে ভাব ও ব্যথা সৃষ্টিকারী রাসায়নিক কমায় এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট: মাত্রা রোগের ওপর নির্ভর করে এবং ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়; প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ৪ থেকে ৪৮ mg এর মধ্যে, প্রায়ই বেশি মাত্রায় শুরু করে পরে কমানো হয়। খাবারের সাথে বা পরে, সাধারণত সকালে একবারে খান। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স নির্দেশমতো দেন। প্রায় ৩ সপ্তাহের বেশি বা বেশি মাত্রায় খেয়ে থাকলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধাপে ধাপে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও অ্যাসপিরিনের মতো ব্যথানাশক পাকস্থলীর ঘা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ফুরোসেমাইড ও হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের সাথে পটাশিয়াম আরও কমে যেতে পারে।
- এটি রক্তে শর্করা বাড়ায়, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধ ও ইনসুলিনের মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও ফেনোবার্বিটাল এর কার্যকারিতা কমায়; কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্লারিথ্রোমাইসিন ও কিছু এইচআইভির ঔষধ বাড়ায়।
- ওয়ারফারিনের প্রভাব বদলে দিতে পারে।
- বেশি মাত্রায় চিকিৎসা চলাকালীন জীবন্ত টিকা (লাইভ ভ্যাকসিন) নেওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
মিথাইলপ্রেডনিসোলোনে এলার্জি থাকলে এবং সারা শরীরে ছড়ানো গুরুতর ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসা না চললে। রোগপ্রতিরোধ দমনকারী মাত্রায় চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা নেওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বল্পমেয়াদে: ক্ষুধা বাড়া, মেজাজের পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি, রক্তে শর্করা বাড়া ও শরীরে পানি জমা। দীর্ঘমেয়াদে: ওজন বাড়া ও মুখ গোল হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হাড় পাতলা হওয়া, মাংসপেশির দুর্বলতা, চামড়া পাতলা হওয়া ও সহজে কালশিটে পড়া, ছানি বা গ্লুকোমা, সংক্রমণ বেশি হওয়া এবং শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যাওয়া।
কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা রক্তবমি, পেটে তীব্র ব্যথা, জ্বর বা গুরুতর সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, মেজাজের তীব্র পরিবর্তন বা এলোমেলো চিন্তা, রক্তে শর্করা খুব বেশি হওয়া (খুব পিপাসা, বারবার প্রস্রাব), অথবা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু তখনই ব্যবহার করুন যখন ডাক্তার মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি; দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় গর্ভের শিশুর বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়তে পারে। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; সাধারণ মাত্রায় সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিওর, পাকস্থলীর ঘা, যক্ষ্মা, অস্টিওপোরোসিস, গ্লুকোমা, লিভারের রোগ, মৃগী বা বিষণ্নতার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- জলবসন্ত, হারপিস জোস্টার বা হামে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন; সংস্পর্শে এলে ডাক্তার দেখান।
- স্টেরয়েড কার্ড সাথে রাখুন, বা যেকোনো ডাক্তার ও দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি স্টেরয়েড খাচ্ছেন।
- দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলা শিশুদের বৃদ্ধি নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি খেলে সাধারণত গুরুতর ক্ষতি হয় না। দীর্ঘদিন বেশি খেলে ওপরের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দেয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং দীর্ঘ কোর্স হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
গ্লুকোকর্টিকয়েড (কর্টিকোস্টেরয়েড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন হাসপাতাল বা ক্লিনিকের কর্মীরা সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Methyl Prednisolone এর সব ব্র্যান্ড