Progesterone
ব্যবহার
প্রোজেস্টেরন নারীদেহের একটি প্রাকৃতিক হরমোন। ঔষধ হিসেবে এটি ব্যবহার হয়:
- আইভিএফ এর মতো বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় জরায়ুর ভেতরের স্তরকে সহায়তা দিতে (লুটিয়াল ফেজ সাপোর্ট)।
- প্রোজেস্টেরনের ঘাটতিজনিত গর্ভপাতের আশঙ্কা বা বারবার গর্ভপাতের কিছু ক্ষেত্রে, এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি কমাতে, বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে মাসিক না হওয়া, অনিয়মিত মাসিক বা জরায়ু থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাতে।
- মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা (HRT) নেওয়া নারীদের জরায়ুর স্তর সুরক্ষায়।
কীভাবে কাজ করে
প্রোজেস্টেরন জরায়ুর ভেতরের স্তরকে প্রস্তুত ও বজায় রাখে, যাতে নিষিক্ত ডিম্বাণু সেখানে বসতে পারে এবং গর্ভধারণ টিকে থাকে। এটি জরায়ুর স্তরে ইস্ট্রোজেনের প্রভাবকেও ভারসাম্যে রাখে, ফলে মাসিক নিয়মিত হয় এবং HRT এর সময় স্তর অতিরিক্ত বাড়ে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রোজেস্টেরন মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল, যোনিপথে দেওয়ার ক্যাপসুল বা জেল এবং ইনজেকশন হিসেবে পাওয়া যায়। মাত্রা, ধরন ও চিকিৎসার মেয়াদ ব্যবহারের কারণের ওপর নির্ভর করে এবং ডাক্তার ঠিক করেন, তাই ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভাবস্থার চিকিৎসা সবসময় বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হয়। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন। মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল ঘুম ঘুম ভাব আনতে পারে বলে প্রায়ই রাতে শোয়ার সময় খাওয়া হয়। গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কাজ কমাতে পারে। কিটোকোনাজল ও আরও কিছু ঔষধ এর মাত্রা বাড়াতে পারে। এটি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা বদলানোর দরকার হতে পারে। পরামর্শ ছাড়া যোনিপথের প্রোজেস্টেরনের সাথে একই সময়ে যোনিপথে অন্য কোনো পণ্য ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- প্রোজেস্টেরন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে (কিছু ক্যাপসুলে চিনাবাদামের তেল থাকে; চিনাবাদাম বা সয়াতে এলার্জি থাকলে সেগুলো ব্যবহার করবেন না)।
- কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত।
- স্তন বা প্রজনন অঙ্গের ক্যান্সার থাকলে বা সন্দেহ হলে।
- বর্তমানে বা আগে রক্ত জমাট বাঁধা (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস, পালমোনারি এমবোলিজম), স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক।
- লিভারের গুরুতর রোগ।
- অসম্পূর্ণ গর্ভপাত বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ (একটোপিক)।
- পোরফাইরিয়া।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: স্তনে ব্যথা, পেট ফাঁপা, মাথাব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব বা মাথা ঘোরা (বিশেষ করে মুখে খাওয়ার ক্যাপসুলে), মেজাজের পরিবর্তন, মাসিকের মাঝে অল্প রক্ত দেখা, বমি বমি ভাব, এবং যোনিপথের ধরনে জ্বালা বা স্রাব। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: এক পায়ে ব্যথা, ফোলা বা গরম ভাব; হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট; হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, কথা বলায় বা দেখায় সমস্যা; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; যোনিপথে অতিরিক্ত রক্তপাত বা তলপেটে তীব্র ব্যথা; অথবা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা বা সময়ের আগে প্রসবের উচ্চ ঝুঁকির মতো নির্দিষ্ট কারণে, শুধু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রোজেস্টেরন ব্যবহার হয়। গর্ভধারণ নির্ণয়ের জন্য এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; ডাক্তার পরামর্শ দিলে তবেই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- ঘুম ঘুম ভাব ও মাথা ঘোরা হতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- বিষণ্নতা, মৃগীরোগ, মাইগ্রেন, হাঁপানি, হৃদরোগ বা কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, বা আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- HRT হিসেবে ইস্ট্রোজেনের সাথে ব্যবহারে স্তন পরীক্ষাসহ নিয়মিত চেকআপ দরকার।
- চিকিৎসার সময় যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা ক্লান্তি হতে পারে। গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শমতোই মাত্রা কমাবেন বা বন্ধ করবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নারী যৌন হরমোন (প্রোজেস্টোজেন)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন ও জেল ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Progesterone এর সব ব্র্যান্ড