Midazolam
ব্যবহার
মিডাজোলাম একটি স্বল্পমেয়াদি ঘুমের ও শান্ত করার ঔষধ। এন্ডোস্কোপি, ছোট অপারেশন বা দাঁতের চিকিৎসার আগে ও সময়ে রোগীকে শান্ত ও তন্দ্রাচ্ছন্ন রাখতে, অজ্ঞান করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং আইসিইউতে শ্বাসযন্ত্রে থাকা রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে এটি ব্যবহার হয়। ট্যাবলেট কখনও কখনও তীব্র অনিদ্রার স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসায়, আর মুখের ভেতরে (গালের পাশে) দেওয়ার রূপটি দীর্ঘক্ষণ চলা খিঁচুনি থামাতে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
মিডাজোলাম বেনজোডায়াজেপিন গ্রুপের ঔষধ। এটি মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক শান্তকারী রাসায়নিক GABA এর কাজ বাড়ায়, ফলে উদ্বেগ কমে, ঘুম আসে, মাংসপেশি শিথিল হয় এবং খিঁচুনি থামে। ঔষধের প্রভাব থাকাকালীন ঘটনা অনেকের মনে থাকে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইনজেকশন শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ডাক্তার বা নার্স দেন, যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা যায়। মাত্রা বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে এবং ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়। ট্যাবলেট ও মুখের রূপটি শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো, যত কম সময় সম্ভব ব্যবহার করুন। নির্দেশের চেয়ে বেশি খাবেন না এবং অন্যকে দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, আফিমজাত ব্যথানাশক (যেমন মরফিন ও ট্রামাডল), অন্যান্য ঘুমের ঔষধ ও ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন একসাথে নিলে মারাত্মক তন্দ্রা ও শ্বাস ধীর হয়ে যেতে পারে।
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, ইরিথ্রোমাইসিন, ডিলটিয়াজেম, ভেরাপামিল, কিছু এইচআইভির ঔষধ ও গ্রেপফ্রুটের রস মিডাজোলামের মাত্রা বাড়িয়ে ঘুমের প্রভাব বেশি ও দীর্ঘ করে।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইন এর কার্যকারিতা কমায়।
যত ঔষধ খান, সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
মিডাজোলাম বা অন্য বেনজোডায়াজেপিনে এলার্জি, শ্বাসের গুরুতর সমস্যা, চিকিৎসাহীন গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া), মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (মাংসপেশি দুর্বলতার রোগ), তীব্র ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা ও গুরুতর লিভার অকার্যকারিতা থাকলে; তবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ডাক্তার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: তন্দ্রা, প্রক্রিয়ার সময়ের কথা মনে না থাকা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, হেঁচকি ও রক্তচাপ কমে যাওয়া। কেউ কেউ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা, শান্ত হওয়ার বদলে অস্থির বা উত্তেজিত হতে পারেন। দীর্ঘদিন ট্যাবলেট খেলে আসক্তি তৈরি হতে পারে।
শ্বাস ধীর বা অগভীর হলে, ঠোঁট নীল হলে, ডেকে জাগানো না গেলে, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হলে, বা মুখ ও গলা ফোলার মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার হয়। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে বা প্রসবের সময় দিলে নবজাতক নিস্তেজ ও ঘুমকাতুরে হতে পারে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; একবার নেওয়ার পর কতক্ষণ পরে দুধ খাওয়াবেন তা ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।
সতর্কতা
- নেওয়ার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না, গুরুত্বপূর্ণ কাগজে সই করবেন না এবং মদ খাবেন না। একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরুন।
- বয়স্ক, খুব অসুস্থ এবং ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, লিভার বা কিডনির রোগীদের বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি হলে গভীর ঘুম, বিভ্রান্তি, ভারসাম্য হারানো, রক্তচাপ কমা ও শ্বাস ধীর হয়ে যায়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে, বিশেষ করে মদ বা আফিমজাত ঔষধের সাথে। সাথে সাথে জরুরি সাহায্য নিন। হাসপাতালে শ্বাসের সহায়তার পাশাপাশি প্রতিষেধক ফ্লুমাজেনিল দেওয়া হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বেনজোডায়াজেপিন ঘুমের ঔষধ (স্বল্পমেয়াদি হিপনোটিক ও খিঁচুনিরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন হাসপাতালের কর্মীরা সংরক্ষণ ও ব্যবহার করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Midazolam এর সব ব্র্যান্ড