Moxifloxacin
ব্যবহার
মক্সিফ্লক্সাসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ট্যাবলেট (ও হাসপাতালের স্যালাইন) সাইনুসাইটিস, দীর্ঘমেয়াদি ব্রংকাইটিস হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, বাইরে থেকে হওয়া নিউমোনিয়া এবং কিছু ত্বক ও পেটের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, সাধারণত যখন অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয়। চোখের ড্রপ ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিসে (চোখ লাল ও চটচটে) এবং চোখের অপারেশনের পরে সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহার হয়, কখনও ডেক্সামেথাসনের সাথে। সর্দি, ফ্লু বা অন্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
এটি ব্যাকটেরিয়ার জিনগত উপাদান কপি করার জন্য দরকারি দুটি এনজাইম (ডিএনএ জাইরেজ ও টপোআইসোমারেজ IV) বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ১ বার ৪০০ mg, সংক্রমণ অনুযায়ী ৫ থেকে ১৪ দিন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে। চোখের ড্রপ: সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ৩ বার ১ ফোঁটা করে প্রায় ৭ দিন, বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। স্যালাইন হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ট্যাবলেট দেওয়া হয় না। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সুক্রালফেট শোষণ আটকে দেয়: এগুলোর অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে বা ৮ ঘণ্টা পরে ট্যাবলেট খান।
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল, ইরিথ্রোমাইসিন, কিছু মানসিক রোগের ঔষধ ও কিছু বিষণ্ণতার ঔষধ, বিপজ্জনক অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড টেন্ডনের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
- এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে, এবং আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশকের সাথে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
মক্সিফ্লক্সাসিন বা অন্য কোনো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে। ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে আরও: ১৮ বছরের কম বয়সী, গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, লম্বা QT বা অন্য গুরুতর হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, সংশোধন না করা কম পটাশিয়াম, লিভারের গুরুতর রোগ, এবং আগে কোনো কুইনোলোনে টেন্ডনের সমস্যা হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও স্বাদের পরিবর্তন। চোখের ড্রপ: চোখে হালকা জ্বালা, চুলকানি বা পানি পড়া। দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: টেন্ডনে ব্যথা, ফোলা বা ছিঁড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় (বিশেষ করে গোড়ালির পেছনে), হাত-পায়ে জ্বালা, ঝিমঝিম বা অবশ ভাব হয়, বুক ধড়ফড়, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অজ্ঞান হওয়া, হঠাৎ তীব্র বুক, পিঠ বা পেটব্যথা, গুরুতর এলার্জি বা ফোসকাসহ র্যাশ, তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন বা অস্বাভাবিক মেজাজ পরিবর্তন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। ডাক্তারের পরামর্শে চোখের ড্রপ ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা
বয়স ৬০ এর বেশি হলে, স্টেরয়েড খেলে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়ে থাকলে, অথবা মৃগী, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, ডায়াবেটিস (রক্তে শর্করা বাড়তে বা কমতে পারে) বা অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম থাকলে বিশেষ সাবধানে ব্যবহার করুন। কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। মাথা ঘুরলে গাড়ি চালাবেন না। চোখের সংক্রমণে ড্রপ ব্যবহারের সময় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দ্রুত চিকিৎসা নিন। বেশি খেলে মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি ও হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে, যার জন্য হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পরে আর ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Moxifloxacin এর সব ব্র্যান্ড