Acetylcysteine
ব্যবহার
অ্যাসিটাইলসিস্টেইন ব্যবহার হয়:
- কফ পাতলা করতে (মিউকোলাইটিক), যেমন ব্রঙ্কাইটিস, COPD, ব্রঙ্কিওক্টাসিস ও সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ঘন আঠালো কফ সহজে বের করতে;
- প্যারাসিটামলের মাত্রাতিরিক্ত সেবনের প্রতিষেধক হিসেবে, লিভার রক্ষায় হাসপাতালে স্যালাইনের মাধ্যমে;
- বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তে আরও কিছু ক্ষেত্রে, ইনহেলার, নেবুলাইজার বা ইনজেকশনের মাধ্যমে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাসিটাইলসিস্টেইন কফকে একসাথে ধরে রাখা রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে দেয়, ফলে কফ পাতলা হয় ও সহজে বের হয়। প্যারাসিটামলের মাত্রাতিরিক্ত সেবনে এটি গ্লুটাথায়োন ফিরিয়ে আনে; এই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে লিভার প্যারাসিটামলের ক্ষতিকর ভাঙনজাত পদার্থ নিষ্ক্রিয় করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- কফ পাতলা করতে, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী: সাধারণত দিনে ২ বা ৩ বার ২০০ mg, অথবা দিনে একবার ৬০০ mg।
- ১২ বছরের কম বয়সী: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- প্যারাসিটামলের মাত্রাতিরিক্ত সেবন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স স্যালাইনের মাধ্যমে দেন; মাত্রা ওজনের উপর নির্ভর করে।
- ইনহেলেশন বা নেবুলাইজার: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
এফারভেসেন্ট ট্যাবলেট বা গ্র্যানুল এক গ্লাস পানিতে পুরোপুরি গলিয়ে তারপর খান। খাবারের সাথে বা পরে খাওয়া যায়। প্রচুর পানি পান করুন। হালকা গন্ধকের গন্ধ স্বাভাবিক।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পরামর্শ ছাড়া কাশি দমানোর ঔষধের (যেমন কোডিন বা ডেক্সট্রোমেথরফান) সাথে খাবেন না, কারণ কাশি বন্ধ থাকলে পাতলা কফ জমে যেতে পারে। কিছু খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাসিটাইলসিস্টেইন থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খান। গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট (নাইট্রোগ্লিসারিন) এর সাথে মাথাব্যথা ও রক্তচাপ কমার প্রভাব বাড়তে পারে। অ্যাক্টিভেটেড চারকোল মুখে খাওয়া অ্যাসিটাইলসিস্টেইনের কাজ কমায়। আপনি যে সব ঔষধ খান, ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যাসিটাইলসিস্টেইনে এলার্জি থাকলে
- কফ পাতলা করার জন্য ২ বছরের কম বয়সী শিশু, প্রেসক্রিপশন ছাড়া
- পাকস্থলীতে সক্রিয় আলসার থাকলে (মুখে খাওয়ার ক্ষেত্রে, ডাক্তার অন্য সিদ্ধান্ত না নিলে)
প্যারাসিটামলের মাত্রাতিরিক্ত সেবনে সতর্কতা থাকলেও এই প্রতিষেধক দেওয়া হয়, কারণ এটি জীবন বাঁচায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুখে খেলে: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, বুকজ্বালা, পেটব্যথা এবং কম ক্ষেত্রে র্যাশ বা চুলকানি। ইনহেলেশনে: কাশি, সর্দি ও বুক চেপে আসা। হাসপাতালে স্যালাইনে: মুখ লাল হওয়া, র্যাশ, চুলকানি, শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ ও রক্তচাপ কমে যাওয়া, যা স্টাফ নজরে রাখেন।
এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, সারা শরীরে বা ফোসকাযুক্ত র্যাশ, বা রক্তবমি বা কালো পায়খানা।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামলের মাত্রাতিরিক্ত সেবনেও অ্যাসিটাইলসিস্টেইন দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে তথ্য কম; সাধারণত শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম মনে করা হয়, তবে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- হাঁপানি থাকলে (বিশেষ করে ইনহেলেশনে শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ হতে পারে) বা আগে পাকস্থলীর আলসার হয়ে থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- এফারভেসেন্ট রূপে সোডিয়াম থাকতে পারে; কম লবণের খাবার খেলে ডাক্তারকে জানান।
- কাশি দুর্বল হলে পাতলা কফ বের করতে ডাক্তার সহায়তার পরামর্শ দিতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মুখে বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কফ পাতলাকারক (মিউকোলাইটিক); প্যারাসিটামল বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। এফারভেসেন্ট ট্যাবলেট মুখ ভালোভাবে বন্ধ টিউবে রাখুন। ইনজেকশন ও ইনহেলেশন সলিউশন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Acetylcysteine এর সব ব্র্যান্ড