Heparin Sodium
ব্যবহার
হেপারিন সোডিয়াম একটি অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট (রক্ত পাতলা করার ঔষধ)। ইনজেকশন হিসেবে এটি পায়ের শিরায় (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস) ও ফুসফুসে (পালমোনারি এমবলিজম) রক্ত জমাট প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়, হার্ট অ্যাটাক ও অস্থিতিশীল এনজাইনায়, হার্ট অপারেশন, ডায়ালাইসিস ও রক্ত সঞ্চালনের সময় এবং শিরার ক্যানুলা খোলা রাখতে ব্যবহৃত হয়। কম শক্তির হেপারিন জেল ও ক্রিম ত্বকে কালশিটে দাগ, উপরিভাগের শিরার প্রদাহ ও ফোলায়ও ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
হেপারিন রক্তের প্রাকৃতিক প্রোটিন অ্যান্টিথ্রম্বিনের কাজ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান, বিশেষ করে থ্রম্বিন ও ফ্যাক্টর Xa কে নিষ্ক্রিয় করে। এতে নতুন জমাট তৈরি হয় না এবং পুরোনো জমাট বড় হয় না, আর শরীর ধীরে ধীরে সেগুলো ভাঙে। এটি সরাসরি জমাট গলায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স শিরায় (ইনজেকশন বা টানা স্যালাইন) বা চামড়ার নিচে দেন। মাত্রা প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে ঠিক করা হয় এবং APTT এর মতো রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা দেখে বদলানো হয়। ত্বকের জেল: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ২ থেকে ৩ বার পাতলা করে লাগান, অথবা লেবেলের নির্দেশনামতো; খোলা ক্ষত বা রক্তপাতের জায়গায় লাগাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন, অ্যাপিক্সাবান ও রিভারক্সাবানের মতো অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, অ্যাসপিরিন ও ক্লোপিডোগ্রেলের মতো অ্যান্টিপ্লেটলেট এবং আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- জমাট গলানোর ঔষধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- গ্লিসাইরিল ট্রাইনাইট্রেট স্যালাইন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- ACE ইনহিবিটর ও পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্টের মতো পটাশিয়াম বাড়ানো ঔষধের সাথে রক্তে পটাশিয়াম আরও বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- হেপারিন বা শূকরজাত পণ্যে অ্যালার্জি থাকলে।
- বর্তমানে বা আগে হেপারিনজনিত থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (হেপারিনের কারণে অনুচক্রিকা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া) হলে।
- চলমান গুরুতর রক্তক্ষরণ, তীব্র রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা অনুচক্রিকা খুব কম থাকলে।
- সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, বা মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা চোখে অপারেশন হলে।
- তীব্র অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় কালশিটে দাগ বা ব্যথা, মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, অনুচক্রিকা কমে যাওয়া, লিভার এনজাইম ও পটাশিয়াম বাড়া হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে হাড় দুর্বল হতে পারে। ত্বকের জেলে হালকা লালভাব বা চুলকানি হতে পারে।
অস্বাভাবিক বা বেশি রক্তপাত, প্রস্রাবে রক্ত বা কালো মল, রক্তবমি, তীব্র মাথাব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা, পায়ে নতুন ব্যথাযুক্ত ফোলা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, অথবা মুখ বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
হেপারিন গর্ভফুল পার হয় না, তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থায় এটি পছন্দের রক্ত পাতলা করার ঔষধ। এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে যায় না, তাই বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়।
সতর্কতা
- ইনজেকশন চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (জমাট বাঁধার পরীক্ষা, অনুচক্রিকা ও পটাশিয়াম) দরকার।
- যেকোনো প্রসিডিউরের আগে প্রতিটি চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসককে জানান যে আপনি হেপারিন নিচ্ছেন।
- লিভার বা কিডনির রোগ, বয়স্ক এবং পাকস্থলীতে ঘা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে রক্তক্ষরণ হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়, এবং প্রোটামিন সালফেট হেপারিনের প্রভাব উল্টে দিতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট (আনফ্র্যাকশনেটেড হেপারিন)।
সংরক্ষণ
প্যাকে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। ত্বকের জেল ৩০°C এর নিচে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Heparin Sodium এর সব ব্র্যান্ড