Nebivolol
ব্যবহার
নেবিভোলল উচ্চ রক্তচাপের (হাইপারটেনশন) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগীদের স্থিতিশীল হালকা থেকে মাঝারি হার্ট ফেইলিওরে অন্য ঔষধের সাথেও এটি দেওয়া হয়। রক্তচাপের জন্য হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের সাথে মিশ্র আকারেও পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
নেবিভোলল একটি বিটা ব্লকার, যা মূলত হৃৎপিণ্ডে কাজ করে। এটি হৃৎস্পন্দন ধীর করে এবং প্রতিটি স্পন্দনের জোর কমায়। এছাড়া রক্তনালীর দেয়ালে নাইট্রিক অক্সাইড নামের প্রাকৃতিক উপাদান বাড়িয়ে রক্তনালী শিথিল করে। এভাবে রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডের পরিশ্রম কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- উচ্চ রক্তচাপ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ৫ mg, প্রতিদিন একই সময়ে।
- ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ও কিডনির সমস্যা থাকলে: সাধারণত দিনে একবার ২.৫ mg দিয়ে শুরু; ডাক্তার ৫ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।
- হার্ট ফেইলিওর: খুব কম মাত্রায় শুরু করে প্রতি ১ থেকে ২ সপ্তাহে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- শিশু: ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
পানি দিয়ে গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। রক্তচাপে পুরো প্রভাব পেতে ১ থেকে ২ সপ্তাহ লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভেরাপামিল ও ডিলটিয়াজেম: হৃৎস্পন্দন খুব ধীর করে দিতে পারে; ডাক্তার না বললে একসাথে খাবেন না।
- অ্যামিওডারোন ও অন্যান্য হৃৎস্পন্দনের ঔষধ এবং ডিগক্সিন: হৃৎস্পন্দন অতিরিক্ত ধীর হওয়ার ঝুঁকি।
- ক্লোনিডিন: বিটা ব্লকার খাওয়ার সময় হঠাৎ ক্লোনিডিন বন্ধ করলে রক্তচাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
- ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন ও কুইনিডিন: নেবিভোললের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট: নেবিভোলল রক্তে চিনি কমে যাওয়ার সময় বুক ধড়ফড়ানির লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
- অন্যান্য রক্তচাপের ঔষধ, কিছু বিষণ্নতার ঔষধ ও অবেদনের ঔষধ: রক্তচাপ আরও কমাতে পারে।
- আইবুপ্রোফেনের মতো এনএসএআইডি ব্যথানাশক: রক্তচাপ কমানোর প্রভাব কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- নেবিভোলল বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- লিভার ফেইলিওর বা লিভারের কার্যক্ষমতা কম থাকলে।
- হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হলে (চিকিৎসার আগে মিনিটে ৬০ এর কম), পেসমেকার ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট ব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম থাকলে।
- হঠাৎ বা বেড়ে যাওয়া হার্ট ফেইলিওর, বা হার্ট ফেইলিওরজনিত শক থাকলে।
- রক্তচাপ খুব কম থাকলে।
- তীব্র হাঁপানি বা আগে তীব্র শ্বাসকষ্টের ইতিহাস থাকলে।
- চিকিৎসা না হওয়া ফিওক্রোমোসাইটোমা (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির বিরল টিউমার) থাকলে।
- হাত বা পায়ে রক্ত চলাচলের গুরুতর সমস্যা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, ঝিনঝিন ভাব, পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট ও গোড়ালি ফোলা। কম দেখা যায়: ধীর হৃৎস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ, হাত-পা ঠান্ডা, ঘুমের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন, মন খারাপ ও যৌন সক্ষমতা কমে যাওয়া।
অজ্ঞান হয়ে গেলে, নাড়ি খুব ধীর হলে, শ্বাসকষ্ট বা বুকে সাঁই সাঁই শব্দ, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা পা ফোলা বেড়ে গেলে (হার্ট ফেইলিওর বাড়ার লক্ষণ), অথবা তীব্র এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়; এটি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও হৃৎস্পন্দন কমাতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করবেন না, এতে বুকে ব্যথা বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। অপারেশনের আগে ডাক্তার বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি বিটা ব্লকার খান। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা, সোরিয়াসিস, হালকা হাঁপানি বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির কারণে গাড়ি চালানোয় সমস্যা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হওয়া, রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়া ও হার্ট ফেইলিওর হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিটা ব্লকার (রক্তনালী প্রসারক গুণসহ নির্বাচিত বিটা-১ ব্লকার)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Nebivolol এর সব ব্র্যান্ড