Niacin
ব্যবহার
নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩, যাকে নিকোটিনিক এসিডও বলে) মূলত বি-কমপ্লেক্স ও মাল্টিভিটামিনে থাকে, যা নিয়াসিনের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। তীব্র ঘাটতিতে পেলাগ্রা হয়, যাতে রোদে থাকা ত্বকে খসখসে র্যাশ, পাতলা পায়খানা ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বেশি মাত্রার প্রেসক্রিপশন নিয়াসিন রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়েছে, তবে শুধু ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে।
কীভাবে কাজ করে
শরীর নিয়াসিনকে এমন উপাদানে বদলায়, যা খাবার থেকে শক্তি পেতে এবং ত্বক, স্নায়ু ও পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে এনজাইমের দরকার হয়। বেশি মাত্রায় এটি লিভারে কিছু রক্তচর্বি তৈরিও কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাপ্লিমেন্ট: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী খান। প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে সাধারণত প্রায় ১৪ থেকে ১৬ mg দরকার হয়, যা বেশিরভাগ মাল্টিভিটামিনে থাকে। পেলাগ্রা ও অন্যান্য ঘাটতি: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। কোলেস্টেরলের চিকিৎসায় অনেক বেশি মাত্রা লাগে, যা শুধু ডাক্তারই শুরু করবেন ও বাড়াবেন। খাবারের সাথে খেলে পেটের অস্বস্তি ও মুখ লাল হওয়া কম হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
বেশি মাত্রায়: অ্যাটরভাস্টাটিনের মতো স্ট্যাটিনের সাথে মাংসপেশির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে; রক্তচাপের ঔষধের প্রভাব বাড়িয়ে মাথা ঘোরাতে পারে; রক্তে শর্করা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঔষধের কাজ কমাতে পারে; মদ ও গরম পানীয় মুখ লাল হওয়া বাড়ায়। কোলেস্টাইরামিন নিয়াসিন থেকে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
কারা খাবেন না
নিয়াসিনে এলার্জি থাকলে। সক্রিয় লিভারের রোগ, সক্রিয় পেপটিক আলসার বা রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে বেশি মাত্রা খাওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাপ্লিমেন্টের মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। বেশি মাত্রায় প্রায়ই মুখ ও শরীর গরম, লাল হয়ে চুলকানো (ফ্লাশিং), পেটে অস্বস্তি ও মাথাব্যথা হয়, এবং রক্তে শর্করা ও ইউরিক এসিড (গেঁটে বাত) বাড়তে পারে। চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, দুর্বলতাসহ মাংসপেশিতে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, বা গুরুতর এলার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার ও সাধারণ মাল্টিভিটামিনে থাকা স্বাভাবিক পরিমাণ নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বেশি মাত্রার নিয়াসিন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ছাড়া বেশি মাত্রার নিয়াসিন খাবেন না। ডায়াবেটিস, গেঁটে বাত, লিভারের রোগ থাকলে বা নিয়মিত মদ্যপান করলে সাবধানে ব্যবহার করুন। বেশি মাত্রার চিকিৎসার সময় ডাক্তার লিভারের পরীক্ষা ও রক্তে শর্করা দেখতে পারেন। পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রায় এক নিয়াসিন পণ্য থেকে অন্যটিতে বদলাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণ খেলে তীব্র ফ্লাশিং, মাথা ঘোরা, বমি ও রক্তচাপ কমে যেতে পারে। বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন বি৩ (পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন); বেশি মাত্রায় রক্তচর্বি নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Niacin এর সব ব্র্যান্ড