Nimodipine
ব্যবহার
সাবঅ্যারাকনয়েড হেমোরেজ, অর্থাৎ মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণ (সাধারণত অ্যানিউরিজম ফেটে যাওয়ায়) হওয়ার পর রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়া (ভ্যাসোস্পাজম) এবং তা থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি প্রতিরোধ ও কমাতে নিমোডিপিন ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
নিমোডিপিন একটি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, যা মূলত মস্তিষ্কের রক্তনালিতে কাজ করে। রক্তনালির দেয়ালের পেশিতে ক্যালসিয়াম ঢোকা বন্ধ করে এটি নালিগুলোকে শিথিল ও খোলা রাখে, ফলে মস্তিষ্কে বেশি রক্ত পৌঁছায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। বড়দের মুখে খাওয়ার সাধারণ মাত্রা ৬০ mg প্রতি ৪ ঘণ্টা পরপর, রক্তক্ষরণের ৪ দিনের মধ্যে শুরু করে ২১ দিন পর্যন্ত, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো। ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, ভালো হয় খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে। ইনজেকশন রূপটি চিকিৎসক বা নার্স স্যালাইনের মাধ্যমে দেন। জাম্বুরার (গ্রেপফ্রুট) রস এড়িয়ে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
গ্রেপফ্রুটের রস, ইরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজোল, কিছু এইচআইভি ঔষধ ও সিমেটিডিন নিমোডিপিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও ফেনোবারবিটাল এর কার্যকারিতা অনেক কমিয়ে দেয়। অন্যান্য রক্তচাপের ঔষধের সাথে রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- নিমোডিপিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- রিফামপিসিন বা মৃগীরোগের ঔষধ কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন বা ফেনোবারবিটাল নিলে।
- সাম্প্রতিক (১ মাসের মধ্যে) হার্ট অ্যাটাক বা অস্থির অ্যানজাইনা থাকলে, যদি না চিকিৎসক অন্য সিদ্ধান্ত নেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রক্তচাপ কমে যাওয়া, মুখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা ধীর হওয়া, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি ও গোড়ালি ফোলা হতে পারে। লিভার এনজাইম বাড়তে পারে।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, তীব্র মাথা ঘোরা বা মুখ ফোলা ও শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। নিমোডিপিন বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসার সময় সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
সতর্কতা
বিশেষ করে যাদের রক্তচাপ কম বা মস্তিষ্কে ফোলা আছে, তাদের রক্তচাপ ঘনিষ্ঠভাবে দেখা হয়। লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়, কম মাত্রা লাগতে পারে। মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট কখনো গুঁড়া করে শিরায় দেওয়া যাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া, মুখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা ধীর হওয়া ও বমিভাব হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার (ডাইহাইড্রোপাইরিডিন), মস্তিষ্কের রক্তনালি প্রসারক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Nimodipine এর সব ব্র্যান্ড