Nitrofurantoin
ব্যবহার
নাইট্রোফুরানটোইন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা মূত্রথলির জটিলতাহীন সংক্রমণের (নিচের মূত্রনালীর সংক্রমণ, সিস্টাইটিস) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধেও কম মাত্রায় এটি দেওয়া হয়। কিডনির সংক্রমণ বা রক্তে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণে এটি উপযুক্ত নয়, কারণ মূত্রনালীর বাইরে এটি কার্যকর মাত্রায় পৌঁছায় না।
কীভাবে কাজ করে
নাইট্রোফুরানটোইন প্রস্রাবে ঘনীভূত হয়। ব্যাকটেরিয়া এটিকে এমন পদার্থে বদলে ফেলে যা তাদের ডিএনএ, প্রোটিন ও কোষপ্রাচীর ক্ষতি করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, মূত্রথলির সংক্রমণ: সাধারণত দিনে ৪ বার ৫০ mg (সাধারণ ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট), অথবা দিনে ২ বার ১০০ mg (মডিফাইড-রিলিজ ক্যাপসুল); মহিলাদের ৩ দিন, পুরুষদের ৭ দিন বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- বারবার সংক্রমণ প্রতিরোধে: সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে দিনে ১ বার ৫০ থেকে ১০০ mg, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- বমি ভাব কমাতে ও শোষণ ভালো করতে খাবার বা দুধের সাথে খান। পুরো কোর্স শেষ করুন।
- শিশু: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইসিলিকেটযুক্ত অ্যান্টাসিড শোষণ কমায়; আলাদা সময়ে খান। প্রোবেনেসিড ও সালফিনপায়রাজোন প্রস্রাবে এর মাত্রা কমায় ও রক্তে বাড়ায়। ন্যালিডিক্সিক এসিডের মতো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কমাতে পারে। কিছু প্রস্রাবের সুগার পরীক্ষায় ভুল পজিটিভ ফল আসতে পারে।
কারা খাবেন না
- কিডনির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকলে, কারণ তখন ঔষধ ভালো কাজ করে না এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হয়।
- G6PD এর ঘাটতি (লোহিত কণিকা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি)।
- ৩ মাসের কম বয়সী শিশু।
- গর্ভাবস্থার শেষ দিক (৩৮ সপ্তাহ থেকে), প্রসববেদনা ও প্রসবের সময়।
- অ্যাকিউট পরফাইরিয়া, বা নাইট্রোফুরানটোইন বা একই ধরনের ঔষধে এলার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, খাবারে অরুচি, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামি হতে পারে, এটি ক্ষতিকর নয়।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর, কাঁপুনি বা বুকে ব্যথা হয় (ফুসফুসের প্রতিক্রিয়া, যা কয়েক দিনে বা দীর্ঘ ব্যবহারে হতে পারে); হাত-পায়ে অবশ ভাব, ঝিমঝিম বা দুর্বলতা; চামড়া বা চোখ হলুদ; ফোসকা বা চামড়া ওঠার মতো তীব্র র্যাশ; মুখ বা গলা ফোলা; অথবা তীব্র বা রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম ও মাঝামাঝি সময়ে ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করা যায়, তবে শেষ দিকে (৩৮ সপ্তাহ থেকে) ও প্রসবের সময় এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এটি নবজাতকের লোহিত কণিকার ক্ষতি করতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; শিশুর বয়স ১ মাসের কম হলে বা G6PD ঘাটতি থাকলে এড়িয়ে চলুন, অন্যথায় ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ফুসফুস, লিভার ও স্নায়ুর নিয়মিত পরীক্ষা দরকার; নতুন কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে জানান।
- বয়স্ক, এবং ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, ভিটামিন বি বা কিডনির সমস্যা থাকলে স্নায়ুর ক্ষতির ঝুঁকি বেশি।
- ২ থেকে ৩ দিনে উন্নতি না হলে, বা জ্বর, পিঠ বা কোমরের পাশে ব্যথা হলে ডাক্তার দেখান, কারণ এটি কিডনির সংক্রমণ হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন; প্রচুর পানি খেলে শরীর থেকে ঔষধ বের হতে সাহায্য করে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রনালীর সংক্রমণের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (নাইট্রোফুরান অ্যান্টিবায়োটিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Nitrofurantoin এর সব ব্র্যান্ড