ঔষধের ব্র্যান্ড

Nodep

Fluoxetine

  • প্রস্তুতকারক General Pharmaceuticals Ltd.
  • DGDA তে নিবন্ধিত
  • প্রেসক্রিপশন লাগবে
  • ১টি মাত্রা ও ধরন
  • ক্যাপসুল

মাত্রা, প্যাক ও দাম

দামগুলো DGDA প্রকাশিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP); ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলের দাম স্ট্রিপ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যেখানে DGDA দাম প্রকাশ করেনি, সেখানে বাজার দর দেখানো হয়েছে।

মাত্রাধরনপ্যাকদাম (MRP)
Fluoxetine 20 mgDGDA 240-0060-014ক্যাপসুল৩ x ১০ ব্লিস্টার প্যাক৳৩০স্ট্রিপ (১০টি)প্রতি ইউনিট: ৳৩বক্স (৩ x ১০): ৳৯০

কম দামের বিকল্প

একই ঔষধ, একই মাত্রা ও ধরন, অন্য কোম্পানির। সবচেয়ে কম দাম আগে। ব্র্যান্ড বদলানোর আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

দাম সর্বশেষ যাচাই: ১১

ঔষধটি সম্পর্কে

Fluoxetine

ব্যবহার

ফ্লুওক্সেটিন একটি বিষণ্নতারোধী (অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট) ঔষধ। এটি তীব্র বিষণ্নতা, অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD, বারবার একই চিন্তা বা কাজ করার রোগ), বুলিমিয়া নার্ভোসা (অতিরিক্ত খেয়ে পরে বমি করার খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ), প্যানিক ডিসঅর্ডার এবং কিছু ক্ষেত্রে মাসিকের আগে তীব্র মানসিক উপসর্গে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কিছু বড় শিশু ও কিশোর-কিশোরীর বিষণ্নতা বা OCD তেও এটি দেওয়া হয়।

কীভাবে কাজ করে

ফ্লুওক্সেটিন সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI) শ্রেণির ঔষধ। সেরোটোনিন মস্তিষ্কের একটি রাসায়নিক, যা মন-মেজাজ, দুশ্চিন্তা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই ঔষধ স্নায়ুকোষকে খুব দ্রুত সেরোটোনিন ফিরিয়ে নিতে দেয় না, ফলে তা বেশি সময় কাজ করতে পারে। প্রভাব ধীরে ধীরে আসে; মন ভালো হতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

চিকিৎসক যেভাবে লিখে দেবেন ঠিক সেভাবে খাবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতায় সাধারণত দিনে একবার ২০ mg দিয়ে শুরু করা হয়, সাধারণত সকালে; রোগ ও সাড়া অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা বদলাতে পারেন। পানি দিয়ে, খাবারের সাথে বা ছাড়া খাওয়া যায়। ভালো বোধ করলেও খাওয়া চালিয়ে যান, সাধারণত সেরে ওঠার পর অন্তত ৬ মাস বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না; সাধারণত ধীরে ধীরে মাত্রা কমানো হয়।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • সেলেজিলিন বা মোক্লোবেমাইডের মতো MAO ইনহিবিটর, লাইনেজোলিড বা মিথিলিন ব্লুর সাথে খাবেন না, এতে সেরোটোনিন সিনড্রোম নামের বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। MAO ইনহিবিটর বন্ধের অন্তত ১৪ দিন পর ফ্লুওক্সেটিন শুরু করুন, আর ফ্লুওক্সেটিন বন্ধের অন্তত ৫ সপ্তাহ পর MAO ইনহিবিটর শুরু করুন।
  • পিমোজাইড বা থায়োরিডাজিনের সাথে খাবেন না (হৃৎস্পন্দনের ছন্দে সমস্যার ঝুঁকি)।
  • ট্রামাডল, মাইগ্রেনের ট্রিপটান, লিথিয়াম, অন্য বিষণ্নতারোধী ঔষধ ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অ্যাসপিরিন, NSAID ব্যথানাশক ও ওয়ারফারিন রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ফ্লুওক্সেটিন কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতারোধী, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েনের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং ট্যামোক্সিফেনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
  • মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।

কারা খাবেন না

  • ফ্লুওক্সেটিনে অ্যালার্জি থাকলে।
  • বর্তমানে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে MAO ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
  • পিমোজাইড বা থায়োরিডাজিন খেলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বমিভাব, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা বা ঘুম ঘুম ভাব, অস্থিরতা, মুখ শুকানো, ক্ষুধা কমা, ডায়রিয়া, ঘাম, হাত কাঁপা, হাই তোলা এবং যৌন সমস্যা (আগ্রহ কমা, চরম পুলক দেরিতে হওয়া)। অনেকগুলো প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর কমে যায়।

কম দেখা যায় এমন সমস্যা: রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়া (বিভ্রান্তি, দুর্বলতা, বিশেষ করে বয়স্কদের), সহজে কালশিটে বা রক্তপাত, র‍্যাশ, খিঁচুনি, বাইপোলার রোগীদের ম্যানিয়া এবং হৃৎস্পন্দনের ছন্দে পরিবর্তন। শিশু, কিশোর ও তরুণদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার শুরুতে আত্মক্ষতির চিন্তা বাড়তে পারে।

নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে, অস্থিরতার সাথে উচ্চ জ্বর, মাংসপেশি শক্ত হওয়া বা কাঁপুনি ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন হলে (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম), খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া বা অনিয়মিত ধড়ফড়ানি, কালো পায়খানা বা রক্তবমি, কিংবা তীব্র র‍্যাশ বা মুখ ও গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে ফ্লুওক্সেটিন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। চিকিৎসা না করা বিষণ্নতারও ঝুঁকি আছে, তাই সিদ্ধান্ত একসাথে নিতে হয়। গর্ভের শেষ দিকে খেলে নবজাতকের সাময়িক শ্বাস বা খাওয়ার সমস্যা এবং বিরল ক্ষেত্রে ফুসফুসের রক্তচাপজনিত সমস্যা হতে পারে। ফ্লুওক্সেটিন বুকের দুধে যায়; দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করলে শিশুর খিটখিটে ভাব, কম খাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম লক্ষ রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন।

সতর্কতা

মৃগী, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস (রক্তে শর্করা বদলাতে পারে), গ্লুকোমা, লিভারের রোগ, রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে অথবা ইলেকট্রোকনভালসিভ থেরাপি নিলে চিকিৎসককে জানান। বিশেষ করে প্রথম কয়েক সপ্তাহে ও মাত্রা বদলের পর পরিবারের সদস্যরা মেজাজ খারাপ হওয়া, অস্থিরতা বা আত্মহত্যার চিন্তার দিকে নজর রাখবেন। এটি সতর্কতা কমাতে পারে, তাই প্রভাব বোঝার আগে গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে বমিভাব, বমি, অস্থিরতা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, ঝিমুনি, খিঁচুনি ও হৃৎস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে অন্য ঔষধ বা মদের সাথে খেলে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI) বিষণ্নতারোধী।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Fluoxetine এর সব ব্র্যান্ড

Fluoxetine এর অন্য ব্র্যান্ড

অন্য কোম্পানির একই জেনেরিক। ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ ছাড়া ব্র্যান্ড বদলাবেন না।

সব দেখুন

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।