Human immunoglobulin-G
ব্যবহার
হিউম্যান ইমিউনোগ্লোবুলিন জি (IgG) অনেক সুস্থ দাতার রক্তরস থেকে সংগ্রহ করা অ্যান্টিবডির দ্রবণ। শিরায় দেওয়া হলে (IVIG) এটি প্রাথমিক বা দ্বিতীয়ক রোগ প্রতিরোধ ঘাটতিতে বারবার সংক্রমণে ভোগা মানুষের অ্যান্টিবডি পূরণে এবং ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (ITP, প্লাটিলেট কমে যাওয়া), গিলেন-বারে সিনড্রোম, CIDP ও কাওয়াসাকি রোগের মতো কিছু রোগ প্রতিরোধজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিছু পণ্য মাংসপেশিতে বা চামড়ার নিচে দেওয়া হয়। এটি হাসপাতালের ঔষধ।
কীভাবে কাজ করে
IgG অ্যান্টিবডি অনেক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস চিনে ধ্বংস করতে সাহায্য করে, ফলে যারা নিজেরা যথেষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারেন না তারা তাৎক্ষণিক সুরক্ষা পান। রোগ প্রতিরোধজনিত ও প্রদাহজনিত রোগে উচ্চ মাত্রা অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে, যেমন শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিবডির কারণে প্লাটিলেট ধ্বংস বা স্নায়ুর ক্ষতি কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু চিকিৎসক বা নার্স এটি দেন, সাধারণত ধীরগতির শিরাপথে ইনফিউশন হিসেবে, কম গতিতে শুরু করে সহ্য হলে গতি বাড়ানো হয়। ওজন, রোগ ও রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন। পূরণ চিকিৎসা সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহে দেওয়া হয়। ইনফিউশনের সময় ও পরে রোগীকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হাম, মামস, রুবেলা ও জলবসন্তের মতো জীবন্ত টিকা ইমিউনোগ্লোবুলিনের পর ৩ মাস বা তার বেশি সময় ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে; টিকাদানকারীকে জানান।
- চিকিৎসার পর অ্যান্টিবডির রক্ত পরীক্ষার ফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
- একই ইনফিউশন লাইনে অন্য ঔষধ মেশানো যাবে না।
কারা খাবেন না
- হিউম্যান ইমিউনোগ্লোবুলিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- IgA-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডিসহ IgA ঘাটতি থাকলে, যদি না চিকিৎসক উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করেন।
- সরবিটল বা মাল্টোজযুক্ত কিছু পণ্য বংশগত ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতায় ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনফিউশনের সময় বা পরে মাথাব্যথা, কাঁপুনি, জ্বর, ক্লান্তি, মুখ লাল হওয়া, বমিভাব, পিঠ বা পেশিতে ব্যথা ও রক্তচাপের পরিবর্তন সাধারণ। বেশিরভাগই হালকা এবং ইনফিউশনের গতির সাথে সম্পর্কিত। বিরল কিন্তু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধা, কিডনির সমস্যা, ঘাড় শক্তসহ তীব্র মাথাব্যথা (অ্যাসেপটিক মেনিনজাইটিস) ও লোহিত কণিকা ভেঙে যাওয়া (হিমোলাইসিস) আছে।
শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া, পা ফুলে ব্যথা, শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা, খুব কম প্রস্রাব, গাঢ় প্রস্রাব বা ত্বক হলুদ হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান বা জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
বহু বছর ধরে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ইমিউনোগ্লোবুলিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং শিশুর ক্ষতির কোনো জানা প্রমাণ নেই। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে তবেই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
ইনফিউশনের আগে রোগীকে পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানো উচিত। বয়স্ক, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার। মানুষের রক্তরস থেকে তৈরি বলে সংক্রমণ ছড়ানোর খুব সামান্য তাত্ত্বিক ঝুঁকি আছে, যদিও দাতাদের পরীক্ষা করা হয় এবং ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচ নম্বর লিখে রাখা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি দিলে শরীরে তরল জমে যাওয়া ও রক্ত ঘন হওয়া হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক বা হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের। চিকিৎসা দল সহায়ক চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউন সিরাম ও ইমিউনোগ্লোবুলিন; স্বাভাবিক হিউম্যান ইমিউনোগ্লোবুলিন।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, অথবা প্যাকে যেমন লেখা আছে সেভাবে রাখুন। জমাবেন না। আলো থেকে দূরে রাখুন। হাসপাতালের পণ্য: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ ও নাড়াচাড়া করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Human immunoglobulin-G এর সব ব্র্যান্ড