Intravenous fat emulsion
ব্যবহার
ইন্ট্রাভেনাস ফ্যাট ইমালশন (লিপিড ইমালশন) শিরায় সরাসরি দেওয়া শক্তি ও অত্যাবশ্যক ফ্যাটি এসিডের উৎস। যেসব রোগী মুখে খেতে পারেন না বা অন্ত্র দিয়ে যথেষ্ট খাবার শোষণ করতে পারেন না, যেমন বড় অপারেশনের পর, গুরুতর অন্ত্রের রোগ বা গুরুতর অসুস্থতায় অথবা অকালপ্রসূত শিশুদের, তাদের প্যারেনটারাল পুষ্টির (স্যালাইনের মাধ্যমে খাবার) অংশ হিসেবে এটি দেওয়া হয়। এটি শুধু হাসপাতালে ব্যবহারের পণ্য।
কীভাবে কাজ করে
এতে চর্বির খুব ছোট কণা (সাধারণত সয়াবিন তেল, অলিভ অয়েল, মাছের তেল এবং/অথবা মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইড থেকে) ডিমের ফসফোলিপিড ও গ্লিসারলের সাথে মিশানো থাকে। রক্তে পৌঁছালে এই কণাগুলো খাবারের চর্বির মতোই ভাঙা হয় ও শক্তিতে পরিণত হয়, এবং শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না এমন অত্যাবশ্যক ফ্যাটি এসিড সরবরাহ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স ধীরগতির শিরাপথে ইনফিউশন হিসেবে এটি দেন, একা অথবা অ্যামিনো এসিড ও গ্লুকোজের সাথে পুষ্টি ব্যাগে মিশিয়ে। রোগীর ওজন, বয়স, শক্তির চাহিদা ও রক্তে চর্বির মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা দল মাত্রা ও গতি ঠিক করেন। চিকিৎসাকালে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হেপারিন একসাথে দিলে সাময়িকভাবে রক্ত থেকে চর্বি পরিষ্কার বাড়তে পারে।
- সয়াবিন তেলে ভিটামিন কে থাকে, যা ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- ইনফিউশনের সময় বা পরপরই নমুনা নিলে রক্তের চর্বি কিছু ল্যাব পরীক্ষার ফলে বাধা দিতে পারে।
- ফার্মাসিস্টের নির্দেশ অনুযায়ী শুধু সামঞ্জস্যপূর্ণ ঔষধ ও দ্রবণ এর সাথে মেশানো যাবে।
কারা খাবেন না
- ডিম, সয়াবিন, মাছ বা চিনাবাদামের প্রোটিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- রক্তে খুব বেশি চর্বি বা চর্বি বিপাকের গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- শক বা অস্থিতিশীল রক্তসঞ্চালন, গুরুতর রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায়।
- গুরুতর লিভার বিকল হলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনফিউশনের সময় সামান্য জ্বর, কাঁপুনি, মুখ লাল হওয়া, বমিভাব, মাথাব্যথা এবং পিঠ বা বুকে অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে রক্তে চর্বি ও লিভার পরীক্ষার মান বাড়তে পারে। খুব দ্রুত ইনফিউশনে জ্বর, লিভার বড় হওয়া, প্লাটিলেট কমা ও শ্বাসকষ্টসহ ফ্যাট ওভারলোড হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, হঠাৎ র্যাশ বা রক্তচাপ কমে গেলে চিকিৎসকরা ইনফিউশন বন্ধ করে জরুরি ব্যবস্থা নেবেন। এসব লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্যারেনটারাল পুষ্টির প্রয়োজন হলে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় মনে করলে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সতর্কতা
শুধু হাসপাতালের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা হয়। রক্তের চর্বি, সুগার, লিভারের কাজ, ইলেকট্রোলাইট ও রক্তকণিকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। নবজাতক ও অকালপ্রসূত শিশু, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, গুরুতর সংক্রমণ, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা ডায়াবেটিসে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। সংক্রমণ এড়াতে ইনফিউশন লাইন জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি বা খুব দ্রুত ইনফিউশনে ফ্যাট ওভারলোড সিনড্রোম হতে পারে। চিকিৎসা দল ইনফিউশন বন্ধ করে সহায়ক চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেনটারাল পুষ্টি পণ্য; শিরাপথে দেওয়ার লিপিড ইমালশন।
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে রাখুন। জমাবেন না; জমে গেলে ফেলে দিন। হাসপাতালের পণ্য: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ ও নাড়াচাড়া করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Intravenous fat emulsion এর সব ব্র্যান্ড