Peginterferon Alfa-2a
ব্যবহার
পেগইন্টারফেরন আলফা-২এ প্রাপ্তবয়স্ক ও কিছু শিশুর দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি (লিভারের ভাইরাস সংক্রমণ) চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। হেপাটাইটিস সি-তে সাধারণত রিবাভিরিনের মতো অন্য অ্যান্টিভাইরাল ঔষধের সাথে দেওয়া হয়। লিভার বিশেষজ্ঞ এটি প্রেসক্রাইব ও পর্যবেক্ষণ করেন।
কীভাবে কাজ করে
ইন্টারফেরন হলো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে শরীরের নিজস্ব তৈরি প্রোটিন। এই ঔষধে কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারফেরনের সাথে পলিইথিলিন গ্লাইকল (PEG) যুক্ত থাকে, ফলে এটি শরীরে বেশি দিন থাকে এবং সপ্তাহে মাত্র ১টি ইনজেকশন লাগে। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় করে এবং লিভার কোষে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি সাধারণত সপ্তাহে ১ বার চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, চিকিৎসক বা নার্স দেন, অথবা যথাযথ প্রশিক্ষণের পর রোগী নিজে দিতে পারেন। হেপাটাইটিসের ধরন, ভাইরাসের জিনোটাইপ, ওজন ও চিকিৎসায় সাড়া দেখে চিকিৎসক মাত্রা ও সময়কাল (প্রায়ই ২৪ থেকে ৪৮ সপ্তাহ) ঠিক করেন। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু ব্যবহার করুন, প্রতি সপ্তাহে একই দিনে দিন এবং ইনজেকশনের জায়গা বদলে বদলে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- থিওফাইলিন: এর মাত্রা বাড়তে পারে, পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
- টেলবিভুডিন: স্নায়ুর ক্ষতির (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি) ঝুঁকি, একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।
- জিডোভুডিন ও ডিডানোসিন (এইচআইভির ঔষধ): রক্তস্বল্পতা, লিভার বিকল হওয়া বা অন্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- মেথাডোন: এর মাত্রা বাড়তে পারে।
- অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্য ঔষধে রক্তকণিকা আরও কমতে পারে।
কারা খাবেন না
- ইন্টারফেরন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- অটোইমিউন হেপাটাইটিস থাকলে।
- গুরুতর বা জটিলতাযুক্ত লিভার রোগ (জটিল সিরোসিস) থাকলে।
- গুরুতর হৃদরোগ, বিশেষ করে গত ৬ মাসে অস্থিতিশীল হৃদরোগ থাকলে।
- নবজাতক ও ৩ বছরের কম শিশু (পণ্যে বেনজাইল অ্যালকোহল থাকে)।
- রিবাভিরিনের সাথে ব্যবহারে: গর্ভবতী নারী এবং যাদের সঙ্গী গর্ভবতী সেই পুরুষ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ফ্লুর মতো উপসর্গ (জ্বর, কাঁপুনি, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা) খুব সাধারণ, বিশেষ করে প্রথম কয়েকটি ইনজেকশনের পর। এছাড়া ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমা, চুল পাতলা হওয়া, ঘুমের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ, মন খারাপ, চুলকানি, ইনজেকশনের জায়গায় লাল হওয়া ও রক্তকণিকা কমে যাওয়া হতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তীব্র বিষণ্নতা বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, বুকে ব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, উচ্চ জ্বর, সংক্রমণের লক্ষণ, দৃষ্টির পরিবর্তন, শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না। রিবাভিরিনের সাথে ব্যবহারের সময় গর্ভবতী নারী বা যাদের সঙ্গী গর্ভবতী সেই পুরুষেরা এটি ব্যবহার করবেন না, কারণ রিবাভিরিন জন্মগত ত্রুটি ঘটায়; চিকিৎসা চলাকালে ও পরের কয়েক মাস দুজনকেই কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত, লিভার ও থাইরয়েড পরীক্ষা দরকার। আগে বিষণ্নতা বা মানসিক রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড রোগ, অটোইমিউন রোগ, চোখের সমস্যা বা কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান। চোখ পরীক্ষা করানো ভালো। মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা হতে পারে, গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি মাত্রায় দিলে তীব্র ক্লান্তি, ফ্লুর মতো উপসর্গ বা রক্তকণিকার অস্বাভাবিকতা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোমডুলেটর; অ্যান্টিভাইরাল; পেগিলেটেড ইন্টারফেরন।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না। আলো থেকে রক্ষা করতে আসল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Peginterferon Alfa-2a এর সব ব্র্যান্ড