Zinc Sulfate
ব্যবহার
জিংক সালফেট একটি জিংক সাপ্লিমেন্ট। শিশুদের ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইনের (ওআরএস) সাথে এটি দেওয়া হয়; এতে অসুখের মেয়াদ কমে এবং আবার হওয়ার সম্ভাবনা কমে। অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, অন্ত্র ও লিভারের কিছু রোগ এবং শিরায় খাবার পাওয়া রোগীদের জিংকের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহার হয়। অ্যাক্রোডার্মাটাইটিস এন্টেরোপ্যাথিকা নামের একটি বিরল বংশগত রোগে এবং কখনও উইলসন রোগে ডাক্তার এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
জিংক একটি খনিজ, যা শরীরের অনেক এনজাইমের কাজে লাগে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ক্ষত সারা, শরীরের বৃদ্ধি, স্বাদ ও ঘ্রাণ এবং অন্ত্রের ভেতরের আবরণ মেরামতে এটি সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা হিসাব করা হয় এলিমেন্টাল জিংক (আসল জিংকের পরিমাণ) হিসেবে; প্যাকেটে দেখে নিন।
- শিশুর ডায়রিয়া, ওআরএসের সাথে: ৬ মাসের কম বয়সী শিশু দিনে ১০ mg; ৬ মাস বা বেশি বয়সী শিশু দিনে ২০ mg; ১০ থেকে ১৪ দিন, ডায়রিয়া থেমে গেলেও।
- প্রাপ্তবয়স্কদের জিংকের ঘাটতি: সাধারণত দিনে ২৫ থেকে ৫০ mg, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- অন্যান্য রোগ ও ইনজেকশন: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।
খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খাওয়া ভালো; পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের সাথে খান। ছোট শিশুদের জন্য দ্রবণীয় ট্যাবলেট সামান্য পানি বা বুকের দুধে গুলিয়ে দেওয়া যায়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
জিংক টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেনিসিলামিনের শোষণ কমায়; এগুলোর সাথে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন। আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট জিংকের শোষণ কমাতে পারে। দীর্ঘদিন জিংক খেলে কপারের শোষণ কমে।
কারা খাবেন না
জিংক সালফেট বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা বা অস্বস্তি এবং মুখে ধাতব স্বাদ, বিশেষ করে খালি পেটে খেলে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে কপারের ঘাটতি হয়ে রক্তস্বল্পতা ও স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে।
শিশু বারবার বমি করে কিছুই পেটে রাখতে না পারলে, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে (খুব নিস্তেজ, চোখ বসে যাওয়া, প্রস্রাব খুব কম বা না হওয়া), বা পায়খানায় রক্ত গেলে; অথবা কারও মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ পরামর্শকৃত মাত্রায় নিরাপদ। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
জিংক ওআরএসের বিকল্প নয়; ডায়রিয়া হলে শিশুকে ওআরএস ও স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খাবেন না। কিডনি রোগে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি খেলে তীব্র বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও মাথা ঘোরা হতে পারে। চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (ট্রেস এলিমেন্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Zinc Sulfate এর সব ব্র্যান্ড