Faropenem
ব্যবহার
ফেরোপেনেম মুখে খাওয়ার একটি অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- গলা, সাইনাস, কান ও টনসিলের সংক্রমণ;
- বুকের সংক্রমণ, যেমন ব্রঙ্কাইটিস বেড়ে যাওয়া ও হালকা নিউমোনিয়া;
- ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ;
- মূত্রনালির সংক্রমণ;
- কিছু দাঁত ও স্ত্রীরোগের সংক্রমণ।
সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত না হলে সাধারণত এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ফেরোপেনেম একটি পেনেম, কার্বাপেনেমের সাথে সম্পর্কিত বিটা-ল্যাকটাম ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। পেনিসিলিন প্রতিরোধী অনেক এনজাইমের বিরুদ্ধেও এটি কার্যকর থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সংক্রমণ অনুযায়ী সাধারণত দিনে ২ বা ৩ বার ১৫০ থেকে ৩০০ mg, ৫ থেকে ১০ দিন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন মতো।
- কিডনির সমস্যায়: ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন।
খাবারের পরে পানি দিয়ে খান। ডোজগুলো সমান বিরতিতে খান এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন, যাতে সংক্রমণ ফিরে না আসে ও ঔষধ প্রতিরোধী জীবাণু না তৈরি হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফেরোপেনেম রক্তে সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েটের (মৃগীরোগের ঔষধ) মাত্রা কমাতে পারে, এতে খিঁচুনি হতে পারে; তাই সাধারণত একসাথে খাওয়া হয় না। প্রোবেনেসিড ফেরোপেনেমের মাত্রা বাড়াতে পারে। ফুরোসেমাইডের মতো প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধে কিডনির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আপনি যে সব ঔষধ খান, ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ফেরোপেনেমে এলার্জি থাকলে
- আগে পেনিসিলিন, সেফালোস্পোরিন বা কার্বাপেনেমে গুরুতর এলার্জি হয়ে থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া বা নরম পায়খানা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও র্যাশ। কম ক্ষেত্রে: মাথাব্যথা, চুলকানি ও লিভারের রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন।
এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বিশেষ করে জ্বর বা পেট মোচড়ানোসহ (চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে); মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা; শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ বা শ্বাসকষ্ট; গুরুতর বা ফোসকাযুক্ত র্যাশ; বা ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তার তথ্য সীমিত। ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই ব্যবহার করুন। বুকের দুধে কতটা যায় তা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- বয়স্ক, কিডনির রোগী এবং কোলাইটিসের মতো অন্ত্রের সমস্যার ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- অ্যান্টিবায়োটিকের দরকার নেই এমন ছোট সংক্রমণে এটি ব্যবহার করবেন না; এতে ঔষধটি ভবিষ্যতেও কাজ করবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি ও ডায়রিয়া হতে পারে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিক (পেনেম)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Faropenem এর সব ব্র্যান্ড