Oxytocin
ব্যবহার
অক্সিটোসিন একটি হরমোন জাতীয় ঔষধ, যা প্রসবের সময় ব্যবহার হয়। চিকিৎসাগত কারণে প্রসববেদনা শুরু (ইনডাকশন) করাতে বা দুর্বল প্রসববেদনা জোরালো করতে, শিশু ও গর্ভফুল বের হওয়ার পর জরায়ু সংকুচিত করতে, এবং প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (পোস্টপার্টাম হেমোরেজ) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি দেওয়া হয়। অসম্পূর্ণ বা মিসড গর্ভপাতের চিকিৎসায় অন্য চিকিৎসার সাথেও এটি ব্যবহার হতে পারে। এটি শুধু হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অক্সিটোসিন মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত প্রাকৃতিক হরমোনের কৃত্রিম রূপ। এটি জরায়ুর পেশিকে আরও জোরে ও ঘন ঘন সংকুচিত করে। প্রসবের পর এই সংকোচন জরায়ুর রক্তনালি চেপে ধরে রক্তক্ষরণ কমায়। এটি স্তন থেকে দুধ বের হতেও সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অক্সিটোসিন শুধু ডাক্তার, মিডওয়াইফ বা নার্স দেন, মাংসপেশিতে বা শিরায় ইনজেকশন হিসেবে, অথবা শিরায় ধীরে স্যালাইনের (ইনফিউশন) মাধ্যমে। প্রসববেদনা শুরু বা জোরালো করতে স্যালাইনের গতি কম দিয়ে শুরু করা হয় এবং চিকিৎসক দল নির্দেশ অনুযায়ী তা ঠিক করেন, সাথে প্রসববেদনা ও শিশুর হৃৎস্পন্দন নিবিড়ভাবে দেখা হয়। শিশু জন্মের পর জরায়ু সংকুচিত করতে ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঠেকাতে প্রায়ই মাংসপেশিতে একটি ইনজেকশন (সাধারণত ১০ IU) দেওয়া হয়; প্রয়োজনে আরও মাত্রা নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
জরায়ুমুখ নরম করা বা প্রসববেদনা শুরু করার প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ঔষধ (যেমন মিসোপ্রোস্টল বা ডাইনোপ্রোস্টোন) এর প্রভাব বাড়ায়; এগুলো একসাথে দেওয়া হয় না, চিকিৎসক দল নিরাপদ বিরতি রাখেন। কিছু অ্যানেস্থেটিক গ্যাস এর প্রভাব কমাতে ও হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু অ্যানেস্থেসিয়ার সাথে রক্তনালি সংকুচিত করার ঔষধ দিলে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলা (QT দীর্ঘ করা) ঔষধে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
কারা খাবেন না
- যখন স্বাভাবিক প্রসব উপযুক্ত নয়, যেমন প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (গর্ভফুল জরায়ুমুখের ওপর), শিশুর অস্বাভাবিক অবস্থান, বা নাড়ি আগে বের হয়ে আসা।
- শিশুর মাথা শ্রোণির তুলনায় বড় হলে, বা প্রসবের পথে বাধা থাকলে।
- প্রসব কাছাকাছি না হলেও শিশুর কষ্টের (ডিস্ট্রেস) লক্ষণ থাকলে।
- আগে থেকেই খুব জোরালো বা ঘন ঘন প্রসববেদনা থাকলে।
- গুরুতর প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা গুরুতর হৃদরোগ (বিশেষজ্ঞ অন্যভাবে সিদ্ধান্ত না নিলে)।
- অক্সিটোসিনে এলার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা, মুখ লাল হওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে, এবং শিরায় দ্রুত বেশি মাত্রা দিলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। খুব জোরালো বা ঘন ঘন প্রসববেদনায় শিশুর অক্সিজেন কমে যেতে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে জরায়ু ছিঁড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বেশি তরলসহ স্যালাইন দিলে শরীরে পানি জমে রক্তে সোডিয়াম কমে যেতে পারে (মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, ঝিমুনি, খিঁচুনি)।
পেটে তীব্র একটানা ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মুখ ফুলে যাওয়া বা র্যাশ, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি হলে সাথে সাথে ডাক্তার বা মিডওয়াইফকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অক্সিটোসিন শুধু গর্ভাবস্থার শেষে প্রসবের জন্য বা প্রসবের পরে, অথবা গর্ভপাতের চিকিৎসায়, নিবিড় চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার হয়। বুকের দুধে খুব সামান্য যায় এবং তা শিশুর পাকস্থলীতে ভেঙে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়।
সতর্কতা
পুরো সময় মা ও শিশুকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। আগে সিজারিয়ান বা জরায়ুর অন্য অপারেশন হয়ে থাকলে, অনেকবার সন্তান প্রসব হয়ে থাকলে, যমজ বা খুব বড় জরায়ু হলে, এবং হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যায় বাড়তি সতর্কতা দরকার। দীর্ঘ স্যালাইনের সময় তরল গ্রহণ ও প্রস্রাবের হিসাব রাখা হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি অক্সিটোসিনে খুব জোরালো বা একটানা প্রসববেদনা, শিশুর কষ্ট, জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শরীরে পানি জমা হতে পারে। চিকিৎসক দল সাথে সাথে স্যালাইন বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অক্সিটোসিক (জরায়ু সংকুচিত করার হরমোন), পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ অংশের হরমোন।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে 2 থেকে 8°C তাপমাত্রায়, আলো থেকে দূরে রাখুন; জমাবেন না। কিছু পণ্য লিফলেটে যেমন বলা আছে সেভাবে সীমিত সময় কক্ষ তাপমাত্রায় রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Oxytocin এর সব ব্র্যান্ড