Peritoneal Dialysis Solutions
ব্যবহার
পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস সলিউশন হলো জীবাণুমুক্ত তরল, যা কিডনি বিকল হলে পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যাদের কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ও বাড়তি পানি বের করতে পারে না, তাদের জন্য এটি বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা (যেমন CAPD) অথবা হঠাৎ কিডনি বিকল হলে হাসপাতালে ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
একটি নরম নল (ক্যাথেটার) দিয়ে তরলটি পেটের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। পেটের ভেতরের আবরণ, যাকে পেরিটোনিয়াম বলে, প্রাকৃতিক ছাঁকনির মতো কাজ করে। ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য ও বাড়তি লবণ রক্ত থেকে তরলে চলে আসে, আর তরলের চিনি (ডেক্সট্রোজ) বাড়তি পানি টেনে বের করে। নির্দিষ্ট সময় পর ব্যবহৃত তরল বের করে নতুন তরল দেওয়া হয়। এতে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড ও ল্যাকটেটের মতো বাফার থাকে, যা শরীরের লবণ ও অম্লের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কোন সলিউশন, কত শক্তির, কত পরিমাণ, দিনে কতবার বদলাতে হবে এবং কতক্ষণ রাখতে হবে, তা কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে ঠিক করেন। হাসপাতালে প্রশিক্ষিত নার্স অথবা বাড়িতে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়া রোগী ও পরিচর্যাকারী এক্সচেঞ্জ করেন। সবসময় কঠোরভাবে জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি মেনে চলুন। নিজে থেকে প্রেসক্রিপশন বদলাবেন না। শেখানো পদ্ধতিতেই ব্যাগ গরম করুন, কখনো মাইক্রোওয়েভ বা গরম পানিতে নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডায়ালাইসিসে কিছু ঔষধ শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, তাই কিছু ঔষধের মাত্রা বদলাতে হতে পারে। তরলে চিনি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন বা অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে। রক্তে পটাশিয়ামের পরিবর্তন ডিগক্সিন সেবনকারীদের প্রভাবিত করতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ব্যাগে কোনো ঔষধ মেশানো যাবে না।
কারা খাবেন না
- সম্প্রতি পেটে অপারেশন, আঘাত বা পেটের দেয়ালে খোলা ক্ষত থাকলে
- পেটের ভেতরে ব্যাপক দাগ বা জোড়া লেগে যাওয়া (অ্যাডহেশন) থাকলে
- পেটের দেয়ালে এমন ত্রুটি বা হার্নিয়া থাকলে যা সারানো যায় না
- অন্ত্রের গুরুতর প্রদাহজনিত রোগ বা নির্দিষ্ট কিছু অন্ত্রের সমস্যা থাকলে
- পেটে তরল থাকলে খারাপ হতে পারে এমন গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে
- ল্যাকটেটযুক্ত সলিউশনের ক্ষেত্রে রক্তে ল্যাকটিক অ্যাসিড খুব বেশি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো পেরিটোনাইটিস, অর্থাৎ পেটের আবরণে সংক্রমণ। এ ছাড়া ক্যাথেটার বের হওয়ার জায়গায় সংক্রমণ, পেট ভরা লাগা বা অস্বস্তি, পিঠে ব্যথা, হার্নিয়া, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, ওজন বাড়া, রক্তে চর্বি বাড়া, অতিরিক্ত পানি জমে শরীর ফোলা, পানিশূন্যতা ও নিম্ন রক্তচাপ এবং পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো লবণের পরিবর্তন হতে পারে।
বের করা তরল ঘোলা হলে, অথবা পেটব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি, ক্যাথেটারের জায়গায় লালচে ভাব বা পুঁজ, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বেশি ফোলা বা মাথা ঘুরে অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত প্রেসক্রিপশনে পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস চালিয়ে যাওয়া যায়।
সতর্কতা
ব্যবহারের আগে প্রতিটি ব্যাগ দেখে নিন: ছিদ্র থাকলে বা তরল ঘোলা বা রং বদলানো হলে ব্যবহার করবেন না। পরামর্শ অনুযায়ী ওজন, রক্তচাপ ও তরলের হিসাব লিখে রাখুন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় লবণ, শর্করা ও ডায়ালাইসিস যথেষ্ট হচ্ছে কি না দেখা হয়। বের করা তরলে কোনো পরিবর্তন দেখলে দ্রুত জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি শক্তির সলিউশন বা বেশিবার এক্সচেঞ্জ করলে পানিশূন্যতা, নিম্ন রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে; কম হলে শরীরে পানি জমতে পারে। এক্সচেঞ্জ নিয়ে সন্দেহ থাকলে ডায়ালাইসিস ইউনিটে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস সলিউশন (কিডনির বিকল্প চিকিৎসা)
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ৩০°C-এর নিচে পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Peritoneal Dialysis Solutions এর সব ব্র্যান্ড