Pirfenidone
ব্যবহার
পিরফেনিডোন ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস (আইপিএফ) এর চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, যাতে অজানা কারণে ফুসফুসের টিস্যু শক্ত ও দাগযুক্ত হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়। এই ঔষধ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার গতি ধীর করে। এটি রোগ সারায় না এবং আগে হয়ে যাওয়া ক্ষত ফিরিয়ে দেয় না। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এটি শুরু করেন।
কীভাবে কাজ করে
পিরফেনিডোন ফুসফুসে ক্ষত ও প্রদাহ তৈরিকারী উপাদানগুলোর (যেমন টিজিএফ-বিটা) উৎপাদন কমায়, ফলে নতুন ক্ষত টিস্যু ধীরে তৈরি হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। পেটের সমস্যা কমাতে মাত্রা প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় এবং দিনে ৩ বার খেতে হয়। সবসময় খাবারের সাথে বা খাওয়ার ঠিক পরে খান, এতে বমিভাব ও মাথা ঘোরা অনেক কমে। ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। একটানা ১৪ দিন বা তার বেশি ঔষধ বাদ গেলে পুরো মাত্রায় আবার শুরু করবেন না; ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, কারণ মাত্রা আবার ধীরে বাড়াতে হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে বা কিছুদিন বন্ধ রাখতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্লুভক্সামিন (একটি বিষণ্ণতার ঔষধ) এর সাথে খাবেন না, এটি পিরফেনিডোনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। সিপ্রোফ্লক্সাসিন, এনোক্সাসিন এবং লিভারের CYP1A2 এনজাইম আটকায় এমন আরও কিছু ঔষধও মাত্রা বাড়ায়, তাই ডোজ কমাতে হতে পারে। ধূমপান এবং রিফাম্পিসিন ও ওমিপ্রাজলের মতো ঔষধ মাত্রা কমাতে পারে। জাম্বুরার রস এড়িয়ে চলুন। ভেষজসহ সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
পিরফেনিডোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে; আগে পিরফেনিডোনে অ্যাঞ্জিওইডিমা (মুখ, ঠোঁট বা গলা হঠাৎ ফুলে যাওয়া) হয়ে থাকলে; লিভারের গুরুতর রোগে; কিডনির গুরুতর রোগে বা ডায়ালাইসিসে থাকলে; এবং ফ্লুভক্সামিন খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমিভাব, বদহজম, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, পাতলা পায়খানা, এবং রোদে গেলে র্যাশ বা ত্বক পোড়া (আলোক সংবেদনশীলতা)। পিরফেনিডোন লিভারের এনজাইম বাড়াতে পারে, তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা লাগে, সাধারণত প্রথম ৬ মাস প্রতি মাসে এবং তারপর ৩ মাস পর পর।
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, ফোসকাযুক্ত বা তীব্র র্যাশ বা চামড়া উঠে গেলে, অথবা লিভারের সমস্যার লক্ষণ (ত্বক বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব, পেটের ডান দিকের ওপরে ব্যথা) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য খুব কম, তাই বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন মনে না করলে এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
সতর্কতা
সরাসরি রোদ ও সানল্যাম্প এড়িয়ে চলুন: প্রতিদিন উচ্চ মাত্রার সানস্ক্রিন (SPF 50), টুপি ও লম্বা হাতার জামা ব্যবহার করুন। ধূমপান ছেড়ে দিন, কারণ এতে ঔষধের কাজ কমে যায়। লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান। এতে মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি হতে পারে, তাই গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন। রক্ত পরীক্ষার সময়সূচি মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, মাথা ঘোরা, পেটের সমস্যা ও লিভারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। ঔষধের প্যাকেট সাথে নিয়ে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিফাইব্রোটিক (ফুসফুসের ফাইব্রোসিসের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Pirfenidone এর সব ব্র্যান্ড