Iron Hydroxide Polymaltose
ব্যবহার
আয়রন হাইড্রক্সাইড পলিম্যাল্টোজ একটি আয়রন সাপ্লিমেন্ট, যা আয়রনের ঘাটতি ও আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত মাসিক, অপুষ্টি, রক্তক্ষরণ এবং শিশুদের দ্রুত বেড়ে ওঠা এর সাধারণ কারণ।
কীভাবে কাজ করে
এটি শর্করার (পলিম্যাল্টোজ) সাথে যুক্ত আয়রন। অন্ত্রে আয়রন ধীরে ধীরে মুক্ত ও শোষিত হয়, তাই পুরনো আয়রন লবণের চেয়ে সাধারণত পেটের সমস্যা কম হয়। শরীর এই আয়রন দিয়ে হিমোগ্লোবিন (লোহিত কণিকার অক্সিজেন বহনকারী অংশ) তৈরি করে এবং আয়রনের মজুদ পূরণ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা আয়রনের পরিমাণ হিসেবে দেওয়া হলো।
- প্রাপ্তবয়স্ক, আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা: সাধারণত দিনে ১০০ থেকে ২০০ mg আয়রন, ১ বা ২ ভাগে।
- প্রাপ্তবয়স্ক, প্রতিরোধ: সাধারণত দিনে ৫০ থেকে ১০০ mg।
- গর্ভাবস্থা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- শিশু ও বাচ্চা: বয়স ও ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো। সঙ্গে দেওয়া ড্রপার বা চামচ দিয়ে মেপে দিন।
খাবারের সাথে বা পরপরই খান। ড্রপ ও সিরাপ ফলের রস বা খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া যায়। সাধারণত কয়েক মাস চিকিৎসা চলে, রক্তের মান স্বাভাবিক হওয়ার পরও কিছুদিন, যাতে শরীরের আয়রনের মজুদ পূরণ হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পুরনো আয়রন লবণের চেয়ে খাবারের সাথে এর প্রতিক্রিয়া কম। তবু সাবধানতা হিসেবে টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোথাইরক্সিন ও অ্যান্টাসিডের সাথে ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আয়রন ইনজেকশন বা অন্য আয়রন সাপ্লিমেন্টের সাথে একসাথে খাবেন না।
কারা খাবেন না
- আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা, যেমন মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বা আয়রনের ঘাটতি ছাড়া থ্যালাসেমিয়া।
- শরীরে অতিরিক্ত আয়রন (হিমোক্রোমাটোসিস বা হিমোসিডেরোসিস) বা ঘন ঘন রক্ত নিতে হলে।
- ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত হালকা: পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানা। পায়খানা প্রায়ই গাঢ় বা কালো হয়, এটি ক্ষতিকর নয়। তরল ঔষধে দাঁতে দাগ পড়তে পারে।
অ্যালার্জির লক্ষণ (র্যাশ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে, অথবা আলকাতরার মতো কালো পায়খানার সাথে পেটব্যথা বা রক্তবমি হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন, কারণ এটি আয়রনের কারণে না হয়ে রক্তক্ষরণের কারণে হতে পারে। শিশু বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললেও দ্রুত সাহায্য নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আয়রনের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি প্রায়ই ব্যবহার হয়। ডাক্তারের পরামর্শমতো খান।
সতর্কতা
দীর্ঘদিন খাওয়ার আগে ডাক্তার দিয়ে রক্তস্বল্পতার কারণ নিশ্চিত করুন। একই সময়ে অন্য আয়রন ঔষধ খাবেন না। কিছু সিরাপে চিনি থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তরল ঔষধ খাওয়ার পর দাঁত মাজুন। ক্লান্তি বা ফ্যাকাশে ভাব না কমলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
এই রূপটি পুরনো আয়রন লবণের চেয়ে কম বিষাক্ত, তবু বেশি খেলে বমি, পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন প্রিপারেশন (হিমাটিনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তরল ঔষধ জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Iron Hydroxide Polymaltose এর সব ব্র্যান্ড