Pomalidomide
ব্যবহার
পমালিডোমাইড একটি ক্যানসারের ঔষধ, যা মাল্টিপল মায়েলোমা (অস্থিমজ্জার প্লাজমা কোষের ক্যানসার) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আগের চিকিৎসা কাজ না করলে সাধারণত ডেক্সামেথাসোন এবং কখনো কখনো অন্য ঔষধের সাথে এটি দেওয়া হয়। কিছু দেশে কাপোসি সারকোমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
পমালিডোমাইড থ্যালিডোমাইডের সমগোত্রীয় একটি ইমিউনোমডুলেটরি ঔষধ। এটি কয়েকভাবে কাজ করে: সরাসরি মায়েলোমা কোষের বৃদ্ধি ধীর করে ও তাদের মৃত্যু ঘটায়, ক্যানসারকে আক্রমণকারী কিছু রোগপ্রতিরোধক কোষ (T-কোষ ও ন্যাচারাল কিলার কোষ) সক্রিয় করে, এবং টিউমারের বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নতুন রক্তনালী তৈরি কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যানসার বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খান। সাধারণত প্রতিটি ২৮ দিনের চক্রের প্রথম ২১ দিন দিনে একবার, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে, খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খাওয়া হয়। ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান; খুলবেন, ভাঙবেন বা চিবাবেন না। রক্তকণিকার মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ডোজ বদলানো হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্লুভোক্সামিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো শক্তিশালী CYP1A2 প্রতিরোধক এর মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই ডোজ কমানো লাগতে পারে। ধূমপান এর মাত্রা কমাতে পারে। হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ বা এরিথ্রোপোয়েটিনের মতো রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায় এমন ঔষধে সাবধানতা দরকার। সব ঔষধ ও ভেষজ পণ্যের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায়
- গর্ভধারণে সক্ষম নারী, যদি গর্ভধারণ প্রতিরোধের সব শর্ত পূরণ না করা হয়
- যেসব পুরুষ প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মানতে পারবেন না
- পমালিডোমাইড, থ্যালিডোমাইড, লেনালিডোমাইড বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্তকণিকা (নিউট্রোফিল, প্লেটলেট, লোহিত কণিকা) কমে যাওয়া, নিউমোনিয়াসহ সংক্রমণ, ক্লান্তি, দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশিতে টান, পা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, স্নায়ুর ক্ষতিতে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব এবং র্যাশ। এটি পা ও ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। নতুন ক্যানসার ও লিভারের সমস্যাও দেখা গেছে।
জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, হঠাৎ দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো স্ট্রোকের লক্ষণ, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়াসহ তীব্র ত্বকের প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
পমালিডোমাইড গর্ভের শিশুর গুরুতর জন্মগত ত্রুটি বা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে ধরা হয়। গর্ভাবস্থায় কখনোই খাওয়া যাবে না। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার আগে, চলাকালে ও পরে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণসহ কঠোর গর্ভধারণ প্রতিরোধ কর্মসূচি মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত গর্ভধারণ পরীক্ষা করতে হবে। পুরুষদের চিকিৎসার সময় ও পরামর্শ অনুযায়ী পরের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে এবং শুক্রাণু দান করা যাবে না। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাস ঘন ঘন রক্তকণিকা পরীক্ষা করা হয়। বেশিরভাগ রোগীর রক্ত জমাট প্রতিরোধের ঔষধ লাগে। চিকিৎসার সময় ও কিছু সময় পর্যন্ত রক্তদান করবেন না। ক্যাপসুল অন্য কাউকে দেবেন না; অব্যবহৃত ক্যাপসুল ফার্মেসিতে ফেরত দিন। ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাপসুল ধরার সময় পরিচর্যাকারীরা গ্লাভস পরবেন। মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি গাড়ি চালানোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে রক্তকণিকা অনেক কমে যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যানসাররোধী ঔষধ, ইমিউনোমডুলেটরি ঔষধ
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Pomalidomide এর সব ব্র্যান্ড