Desogestrel
ব্যবহার
ডেসোজেস্ট্রেল একটি প্রোজেস্টোজেন (প্রোজেস্টেরন হরমোনের কৃত্রিম রূপ), যা গর্ভধারণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি দুই ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলে থাকে:
- কম্বাইন্ড পিল, যেখানে এটি ইথিনাইলএস্ট্রাডিওলের সাথে থাকে।
- শুধু প্রোজেস্টোজেনযুক্ত পিল (শুধু ডেসোজেস্ট্রেল), যা ইস্ট্রোজেন খেতে পারেন না এমন অনেক নারীর জন্য উপযোগী, বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরাও এর মধ্যে আছেন।
কীভাবে কাজ করে
ডেসোজেস্ট্রেল মূলত ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে ডিম্বাণু বের হওয়া বন্ধ রাখে। এটি জরায়ুমুখের শ্লেষ্মা ঘন করে, ফলে শুক্রাণু ভেতরে ঢুকতে বাধা পায়, এবং জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ পাতলা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্যাকেটের নির্দেশনা ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
- কম্বাইন্ড পিল: সাধারণত ২১ দিন প্রতিদিন একই সময়ে ১টি করে, এরপর ৭ দিন বিরতি (বা নিষ্ক্রিয় ট্যাবলেট), যে সময় সাধারণত মাসিক হয়, তারপর নতুন প্যাকেট।
- শুধু প্রোজেস্টোজেনযুক্ত পিল (৭৫ মাইক্রোগ্রাম): প্রতিদিন একই সময়ে ১টি, প্যাকেটের মাঝে কোনো বিরতি ছাড়া।
সাধারণত মাসিকের প্রথম দিন থেকে শুরু করা হয়। পিল বাদ পড়লে, খাওয়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে বমি হলে বা তীব্র পাতলা পায়খানা হলে লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন, সুরক্ষা ফিরে না আসা পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করুন, এবং অরক্ষিত সহবাস হয়ে থাকলে জরুরি গর্ভনিরোধক নিয়ে ফার্মাসিস্ট বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু ঔষধ পিলের কার্যকারিতা কমিয়ে গর্ভধারণের কারণ হতে পারে, যেমন রিফামপিসিন, রিফাবিউটিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন, ফেনোবারবিটাল, টোপিরামেট, কিছু এইচআইভির ঔষধ (যেমন এফাভিরেনজ ও রিটোনাভির), গ্রিসিওফুলভিন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট। কম্বাইন্ড পিল ল্যামোট্রিজিনের মাত্রা কমাতে পারে। আপনি পিল খান, তা সবসময় ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের সন্দেহ থাকলে।
- শিরা বা ফুসফুসে বর্তমানে রক্ত জমাট থাকলে; কম্বাইন্ড পিলের ক্ষেত্রে আগে রক্ত জমাট হয়ে থাকলে বা এর উচ্চ ঝুঁকি থাকলেও।
- গুরুতর লিভারের রোগ বা লিভারের টিউমার।
- স্তন ক্যান্সার বা হরমোন-সংবেদনশীল অন্য ক্যান্সার।
- কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত।
- শুধু কম্বাইন্ড পিল: অরাসহ মাইগ্রেন, ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ধূমপায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা স্ট্রোক, এবং রক্তনালির ক্ষতিসহ ডায়াবেটিস।
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: অনিয়মিত রক্তপাত বা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত (বিশেষ করে শুধু প্রোজেস্টোজেনযুক্ত পিলে), স্তনে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব, মেজাজের পরিবর্তন, ব্রণ ও ওজনের পরিবর্তন।
রক্ত জমাটের লক্ষণ (এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা কাশির সাথে রক্ত), স্ট্রোকের লক্ষণ (হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল, কথা বলতে কষ্ট বা হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা), পেটে তীব্র ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা স্তনে নতুন চাকা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য নয়; গর্ভধারণ হলে খাওয়া বন্ধ করুন (শুরুর দিকে ভুলবশত খেয়ে থাকলে ক্ষতির প্রমাণ নেই)। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু প্রোজেস্টোজেনযুক্ত পিল ব্যবহার করা যায়। কম্বাইন্ড পিল দুধের পরিমাণ কমাতে পারে এবং প্রসবের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- পিল যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে না; এর জন্য কনডম ব্যবহার করুন।
- কম্বাইন্ড পিলের সাথে ধূমপান হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও রক্ত জমাটের ঝুঁকি বাড়ায়।
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করান।
- বড় অপারেশনের আগে বা দীর্ঘ সময় নড়াচড়া করতে না পারলে ডাক্তারকে জানান।
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, বিষণ্নতা, লিভার বা পিত্তথলির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একসাথে কয়েকটি পিল খেলে সাধারণত বিপদ হয় না। বমিভাব, বমি বা কিছুটা যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে কোনো শিশু ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রক (প্রোজেস্টোজেন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Desogestrel এর সব ব্র্যান্ড