Flutamide
ব্যবহার
ফ্লুটামাইড অগ্রসর প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, সাধারণত টেস্টোস্টেরন কমানোর ঔষধ বা অস্ত্রোপচারের (যেমন LHRH অ্যাগোনিস্ট বা অণ্ডকোষ অপসারণ) সাথে। সীমাবদ্ধ প্রোস্টেট ক্যান্সারে রেডিওথেরাপির আগে ও সময়ও এটি দেওয়া হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
অনেক প্রোস্টেট ক্যান্সার বাড়তে পুরুষ হরমোন (টেস্টোস্টেরনের মতো অ্যান্ড্রোজেন) প্রয়োজন হয়। ফ্লুটামাইড একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন: এটি ক্যান্সার কোষের অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর আটকে দেয়, ফলে হরমোন কোষগুলোর বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। টেস্টোস্টেরন কমানোর চিকিৎসার সাথে মিলিয়ে দিলে হরমোন আরও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বা ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ফ্লুটামাইড দেন ও পর্যবেক্ষণ করেন। ঠিক চিকিৎসকের নির্দেশমতো, সাধারণত দিনে নিয়মিত সময় ভাগ করে, খাবারের সাথে বা ছাড়া খান। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে ঔষধ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফ্লুটামাইড ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা দরকার। এটি থিওফাইলিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। চিকিৎসক অনুমতি না দিলে অ্যালকোহল ও লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ, যেমন বেশি মাত্রায় প্যারাসিটামল, এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- ফ্লুটামাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- উল্লেখযোগ্য লিভারের রোগ থাকলে বা চিকিৎসার আগেই লিভার এনজাইম বেশি থাকলে।
- নারী ও শিশু: ব্যবহারের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো স্তন ফোলা বা ব্যথা, হঠাৎ গরম লাগা, ডায়রিয়া, বমিভাব, যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া ও লিঙ্গোত্থানের সমস্যা এবং ক্লান্তি। প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা হলদে সবুজ হতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়। ফ্লুটামাইড গুরুতর, কখনো প্রাণঘাতী লিভারের ক্ষতি করতে পারে, সাধারণত প্রথম কয়েক মাসে।
ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে পায়খানা, বমিভাবসহ খাবারে অরুচি, পেটের ডান উপরের দিকে ব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ফ্লুর মতো লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট বা তীব্র ডায়রিয়া হলেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ফ্লুটামাইড কেবল পুরুষদের জন্য। নারীরা, বিশেষ করে গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীরা এটি ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি ছেলে শিশুর বিকাশে ক্ষতি করতে পারে।
সতর্কতা
শুরুর আগে, প্রথম ৪ মাস প্রতি মাসে এবং পরে নিয়মিত লিভারের রক্ত পরীক্ষা দরকার; লিভারের ক্ষতি দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করা হয়। হৃদরোগে সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ শরীরে পানি জমতে পারে। শুক্রাণুর উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে স্তনে ব্যথা, লিভারের ক্ষতি, ঘুম ঘুম ভাব, বমি ও শ্বাস ধীর হয়ে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী হরমোন থেরাপি, নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Flutamide এর সব ব্র্যান্ড