Sulfinpyrazone
ব্যবহার
সালফিনপাইরাজোন দীর্ঘমেয়াদি গেঁটে বাত (গাউট) এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকার (হাইপারইউরিসেমিয়া) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত খেলে এটি নতুন গাউটের আক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে এবং চামড়ার নিচে জমা ইউরিক অ্যাসিডের শক্ত দানা (টোফাই) ধীরে ধীরে ছোট করতে পারে। ইতিমধ্যে শুরু হওয়া গাউটের ব্যথা এটি কমায় না।
কীভাবে কাজ করে
ইউরিক অ্যাসিড প্রধানত কিডনি দিয়ে শরীর থেকে বের হয়। সালফিনপাইরাজোন একটি ইউরিকোসিউরিক ঔষধ: এটি কিডনিকে ইউরিক অ্যাসিড আবার রক্তে ফিরিয়ে নিতে বাধা দেয়, ফলে প্রস্রাবের সাথে বেশি ইউরিক অ্যাসিড বের হয়ে যায়। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড কমলে গাঁটে কম দানা তৈরি হয়। এটি রক্তের প্লেটলেটকেও কিছুটা কম আঠালো করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। সাধারণত কম মাত্রায় শুরু করে কয়েক সপ্তাহে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, পরে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো সবচেয়ে কম মাত্রায় আনা হয়। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবার বা দুধের সাথে খান। কিডনিতে পাথর ঠেকাতে ডাক্তার অন্য কিছু না বললে দিনে অন্তত ২ লিটার পানি পান করুন। গাউটের তীব্র ব্যথার সময় এটি শুরু করা হয় না; প্রথম কয়েক মাস ব্যথা ঠেকাতে ডাক্তার কোলচিসিন বা ব্যথানাশক দিতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাসপিরিন ও অন্যান্য স্যালিসাইলেট: সালফিনপাইরাজোনের কাজ বন্ধ করে দেয়, তাই এড়িয়ে চলুন।
- ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- গ্লিবেনক্লামাইডের মতো ডায়াবেটিসের সালফোনাইলইউরিয়া: রক্তে শর্করা বেশি কমে যেতে পারে।
- ফেনিটোইন ও থিওফাইলিন: রক্তে এদের মাত্রা বদলাতে পারে।
- পেনিসিলিন ও কিডনি দিয়ে বের হওয়া আরও কিছু ঔষধ: এদের মাত্রা বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
এই ঔষধ বা একই ধরনের ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে, পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় আলসার থাকলে, কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে, রক্তের রোগ বা পরফাইরিয়া থাকলে, অথবা ইউরিক অ্যাসিডের কিডনি পাথর থাকলে সালফিনপাইরাজোন খাবেন না। গাউটের তীব্র আক্রমণের সময় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বদহজম এবং চিকিৎসার শুরুতে গাউটের আক্রমণ বেড়ে যাওয়া। র্যাশ, শরীরে পানি জমা ও কিডনিতে পাথর হতে পারে। কদাচিৎ রক্তকণিকা বা কিডনির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত বা কোমর ও পাশে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, জ্বরসহ গলা ব্যথা, অথবা চামড়ায় গুরুতর প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে করলে তবেই ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ডাক্তার মাঝে মাঝে রক্তকণিকা ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পারেন। পাকস্থলীর আলসারের ইতিহাস, কিডনির সমস্যা বা হার্ট ফেইলিওর থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। পর্যাপ্ত পানি পান চালিয়ে যান। ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন খাবেন না; বিকল্পের জন্য ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবন করলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ভারসাম্যহীনতা ও খিঁচুনি হতে পারে। দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউরিকোসিউরিক ঔষধ (গাউট প্রতিরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Sulfinpyrazone এর সব ব্র্যান্ড