Pyridostigmine
ব্যবহার
পাইরিডোস্টিগমিন মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা স্নায়ু ও পেশির মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে বাধা দেয়, ফলে পেশি দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে, চোখের পাতা ঝুলে যায়, দুটি করে দেখা যায় এবং গিলতে কষ্ট হয়। অস্ত্রোপচারের পর কিছু পেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব কাটাতে এবং কখনো কখনো পেশির দুর্বল নড়াচড়ার কারণে অন্ত্র বা মূত্রথলির সমস্যায়ও চিকিৎসক এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
স্নায়ু অ্যাসিটাইলকোলিন নামের একটি রাসায়নিকের মাধ্যমে পেশিতে বার্তা পাঠায়। পাইরিডোস্টিগমিন অ্যাসিটাইলকোলিন ভেঙে ফেলা এনজাইম (কোলিনএস্টারেজ) বন্ধ করে, ফলে স্নায়ু ও পেশির সংযোগস্থলে এটি বেশি পরিমাণে থাকে এবং পেশির শক্তি বাড়ে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
উপসর্গ অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য মাত্রা আলাদাভাবে ঠিক করা হয় এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করতে হয়, সাধারণত জেগে থাকার সময়ে দিনে কয়েকবার ভাগ করে। চিবানো ও গেলায় সুবিধার জন্য কাউকে কাউকে খাবারের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ডোজ নিতে বলা হয়। ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স দেন।
- পরামর্শমতো সমান বিরতিতে ডোজ নিন।
- নিজে থেকে মাত্রা বাড়াবেন না, কারণ বেশি হলে এমন দুর্বলতা হতে পারে যা রোগ বেড়ে যাওয়ার মতো মনে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে বা মায়াস্থেনিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (জেন্টামাইসিন ও অন্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্য ফ্লুরোকুইনোলোন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন), কুইনিন, প্রোকেইনামাইড, বিটা ব্লকার, লিথিয়াম এবং ইনজেকশনে দেওয়া ম্যাগনেসিয়াম। অ্যাট্রোপিন ও অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ এর বিপরীত কাজ করে। অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব বদলে দিতে পারে, তাই অ্যানেস্থেটিস্টকে জানান। কর্টিকোস্টেরয়েড শুরুতে দুর্বলতা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- পাইরিডোস্টিগমিন বা ব্রোমাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- অন্ত্র বা মূত্রনালিতে প্রতিবন্ধকতা থাকলে।
- অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানিতে এড়িয়ে চলুন বা খুব সাবধানে ব্যবহার করুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অ্যাসিটাইলকোলিনের বাড়তি প্রভাবের কারণে সাধারণত পেট কামড়ানো, ডায়রিয়া, বমিভাব, লালা ও ঘাম বেড়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং পেশি কাঁপা হতে পারে। হৃদস্পন্দন ধীর হওয়া ও রক্তচাপ কমে যাওয়াও হতে পারে।
পেশির তীব্র দুর্বলতা, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট, খুব ধীর হৃদস্পন্দন, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অথবা র্যাশ, মুখ ফোলা বা শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়ও মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে প্রায়ই পাইরিডোস্টিগমিন ব্যবহার করা হয়, তবে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে পরামর্শ ছাড়া ইনজেকশন এড়িয়ে চলা উচিত। খুব সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো যায়, তবে শিশুর অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা খাওয়ার সমস্যা লক্ষ করুন এবং চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
হাঁপানি, হৃদছন্দের সমস্যা, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, মৃগী, পারকিনসন রোগ, পাকস্থলীর আলসার, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা এবং কিডনির সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন (কম মাত্রা লাগতে পারে)। অতিরিক্ত ঔষধে কোলিনার্জিক ক্রাইসিস হয়ে দুর্বলতা বাড়তে পারে, যা মায়াস্থেনিক ক্রাইসিস থেকে আলাদা করা কঠিন; দুটিতেই জরুরি চিকিৎসা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে তীব্র পেট কামড়ানো, ডায়রিয়া, প্রচুর ঘাম ও লালা, চোখের মণি ছোট হয়ে যাওয়া, ধীর হৃদস্পন্দন, পেশি কাঁপা এবং শ্বাসের পেশির মারাত্মক দুর্বলতা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে অ্যাট্রোপিন ও শ্বাসের সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কোলিনএস্টারেজ ইনহিবিটর (প্যারাসিমপ্যাথোমিমেটিক ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Pyridostigmine এর সব ব্র্যান্ড