Remifentanil
ব্যবহার
রেমিফেন্টানিল খুব অল্প সময় কাজ করা একটি ওপিওয়েড ব্যথানাশক। হাসপাতালে জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার সময় অপারেশনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শ্বাসযন্ত্রে থাকা রোগীর ব্যথা কমাতে ও ঘুম পাড়িয়ে রাখতে, এবং কখনো কখনো বিশেষজ্ঞের কড়া তত্ত্বাবধানে প্রসবের ব্যথা কমাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
রেমিফেন্টানিল মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ওপিওয়েড রিসেপ্টরের (মিউ রিসেপ্টর) সাথে যুক্ত হয়ে ব্যথার সংকেত চলাচল আটকে দেয়। রক্ত ও টিস্যুর এনজাইম এটিকে খুব দ্রুত ভেঙে ফেলে, তাই প্রায় এক মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু হয় এবং ইনফিউশন বন্ধ করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রভাব শেষ হয়। এতে অ্যানেস্থেটিস্ট ব্যথা নিয়ন্ত্রণ সূক্ষ্মভাবে ঠিক করতে পারেন।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু অ্যানেস্থেটিস্ট বা প্রশিক্ষিত আইসিইউ দল নিয়ন্ত্রিত পাম্পের মাধ্যমে শিরায় ইনজেকশন বা ধীর ইনফিউশন হিসেবে রেমিফেন্টানিল দেন। মাত্রা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী, যা শরীরের ওজন, অপারেশনের ধরন ও রোগীর সাড়া দেখে ঠিক করা হয়। প্রভাব দ্রুত শেষ হয় বলে ইনফিউশন বন্ধের আগে সাধারণত দীর্ঘক্ষণ কাজ করা অন্য ব্যথানাশক দেওয়া হয়, যাতে অপারেশনের পর হঠাৎ ব্যথা ফিরে না আসে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্যান্য অ্যানেস্থেটিক, ঘুমের ঔষধ ও মিডাজোলামের মতো বেনজোডায়াজেপিন: ঝিমুনি ও শ্বাস ধীর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- অন্য ওপিওয়েড ও অ্যালকোহল: শ্বাসের ওপর প্রভাব আরও বাড়ায়।
- বিটা ব্লকার ও ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার: হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ আরও কমাতে পারে।
- এমএও ইনহিবিটর: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আগেই বন্ধ করতে হয়।
আপনি যেসব ঔষধ খান সবই চিকিৎসা দলকে জানান।
কারা খাবেন না
রেমিফেন্টানিল বা ফেন্টানিল জাতীয় ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা হয় না। এতে গ্লাইসিন থাকায় মেরুদণ্ডে (এপিডুরাল বা ইন্ট্রাথেকাল) ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া যায় না। শুধু যেখানে শ্বাস সহায়তা ও পূর্ণ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আছে সেখানেই এটি ব্যবহৃত হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রভাবের মধ্যে আছে শ্বাস ধীর বা অগভীর হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন ধীর হওয়া, বমি বমি ভাব ও বমি, অপারেশনের পর কাঁপুনি, চুলকানি এবং পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে বুকের দেয়ালে। ইনফিউশন বন্ধ হলে ব্যথা দ্রুত ফিরে আসতে পারে।
চিকিৎসা দল পুরো সময় শ্বাস, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ি ফেরার পর শ্বাস নিতে কষ্ট, প্রচণ্ড ঝিমুনি, বুকে ব্যথা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা সারা শরীরে র্যাশের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
রেমিফেন্টানিল গর্ভফুল পেরিয়ে শিশুর শ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ডাক্তার উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থা ও প্রসবে শিশুকে পর্যবেক্ষণে রেখে এটি দেওয়া হয়। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; সাধারণত এটি পাওয়ার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে বুকের দুধ খাওয়াতে বলা হয়, অথবা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
শুধু প্রশিক্ষিত কর্মী পুনরুজ্জীবনের সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখে এটি ব্যবহার করেন। বয়স্ক, দুর্বল বা গুরুতর অসুস্থ রোগীর প্রায়ই কম মাত্রা লাগে। দীর্ঘ ইনফিউশনের পর হঠাৎ বন্ধ করলে সহনশীলতা বা প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ হতে পারে। অ্যানেস্থেসিয়ার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালাবেন না, যন্ত্র চালাবেন না এবং অ্যালকোহল পান করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত রেমিফেন্টানিলে শ্বাস মারাত্মকভাবে ধীর হয়, পেশি শক্ত হয়ে যায়, রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন অনেক কমে যায়। চিকিৎসা দল ইনফিউশন বন্ধ করে শ্বাস সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনে ন্যালোক্সোনের মতো ওপিওয়েড প্রতিরোধী ঔষধ দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত ওপিওয়েড ব্যথানাশক (নিয়ন্ত্রিত ঔষধ)।
সংরক্ষণ
প্যাকে লেখা নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত ২৫°C এর নিচে, হাসপাতালের সুরক্ষিত নিয়ন্ত্রিত ঔষধের আলমারিতে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Remifentanil এর সব ব্র্যান্ড