Rifampicin
ব্যবহার
- যক্ষ্মা (TB), সবসময় আইসোনায়াজিড, পাইরাজিনামাইড ও ইথাম্বুটলের মতো অন্য যক্ষ্মার ঔষধের সাথে
- কুষ্ঠরোগ, ড্যাপসোন ও ক্লোফাজিমিনের মতো অন্য ঔষধের সাথে
- রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা মানুষদের মেনিঙ্গোককাল সংক্রমণ প্রতিরোধে
- কিছু গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে (যেমন কিছু স্ট্যাফিলোককাস সংক্রমণ ও ব্রুসেলোসিস), সবসময় অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে, ডাক্তারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
কীভাবে কাজ করে
রিফামপিসিন রিফামাইসিন গ্রুপের একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন তৈরির জন্য দরকারি একটি এনজাইম (RNA পলিমারেজ) এটি আটকে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। অন্য ঔষধের সাথে দিলে ব্যাকটেরিয়া ঔষধ প্রতিরোধী হতে পারে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
যক্ষ্মা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণত জাতীয় যক্ষ্মা কর্মসূচির অধীনে। সাধারণ দৈনিক মাত্রা শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ mg, দিনে ১ বার; প্রাপ্তবয়স্কের ওজন ৫০ কেজির কম হলে সাধারণত ৪৫০ mg এবং ৫০ কেজি বা বেশি হলে ৬০০ mg, প্রায়ই মিশ্র ট্যাবলেট হিসেবে। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ডাক্তার ঠিক করবেন। কুষ্ঠরোগ, মেনিঙ্গোককাল প্রতিরোধ ও অন্য সংক্রমণ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- খালি পেটে খান: সকালের নাস্তার অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা খাবারের ২ ঘণ্টা পরে, এক গ্লাস পানি দিয়ে।
- ভালো লাগলেও প্রতিদিন পুরো কোর্স (যক্ষ্মায় সাধারণত ৬ মাস বা বেশি) শেষ করুন। ডোজ বাদ দিলে যক্ষ্মার চিকিৎসা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফামপিসিন অনেক ঔষধ দ্রুত ভেঙে ফেলে, ফলে সেগুলো কাজ নাও করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:
- হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ (বড়ি, ইমপ্ল্যান্ট, ইনজেকশন) নির্ভরযোগ্য থাকে না; চিকিৎসার সময় ও পরের ৪ সপ্তাহ কনডম বা কপার কয়েল ব্যবহার করুন।
- ওয়ারফারিন, ডায়াবেটিসের ঔষধ, প্রেডনিসোলন ও অন্য স্টেরয়েড, মেথাডন, ডিগক্সিন, ফেনিটোইন, কার্বামাজেপিন, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ফ্লুকোনাজলের মতো অ্যাজোল ছত্রাকনাশক এবং অনেক HIV ঔষধ।
- অ্যান্টাসিড এর শোষণ কমায়; অন্তত ১ ঘণ্টা আগে-পরে খান।
সব ডাক্তার, দাঁতের ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টকে জানান যে আপনি রিফামপিসিন খান।
কারা খাবেন না
- রিফামপিসিন বা অন্য রিফামাইসিনে এলার্জি
- জন্ডিস (ত্বক বা চোখ হলুদ)
- সাকুইনাভির ও রিটোনাভির, বা কিছু অন্য HIV প্রোটিয়েজ ইনহিবিটরের সাথে একসাথে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রিফামপিসিনের কারণে প্রস্রাব, ঘাম, চোখের পানি ও লালা কমলা-লাল রঙের হয়; এটি ক্ষতিকর নয়, তবে সফট কন্টাক্ট লেন্স ও কাপড়ে স্থায়ী দাগ পড়তে পারে। অন্যান্য সাধারণ প্রতিক্রিয়া: বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, বুক জ্বালা, পেট মোচড়ানো, পাতলা পায়খানা, চুলকানি বা র্যাশ, এবং ফ্লুর মতো লক্ষণ (জ্বর, কাঁপুনি, গা ব্যথা), বিশেষ করে ডোজ বাদ পড়লে বা অনিয়মিত খেলে।
ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, বারবার বমি, তীব্র ক্লান্তি বা পেটের ডান দিকের ওপরে ব্যথা (লিভারের ক্ষতি হতে পারে); অস্বাভাবিক রক্তপাত, কালশিটে দাগ বা ত্বকে ছোট বেগুনি ফোঁটা; ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া তীব্র র্যাশ; শ্বাসকষ্ট; প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া; অথবা তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় যক্ষ্মার চিকিৎসা অবশ্যই করতে হবে, এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে রিফামপিসিন মানসম্মত চিকিৎসার অংশ। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহে খেলে রক্তপাত প্রতিরোধে মা ও নবজাতককে ভিটামিন K দেওয়া হতে পারে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালে সাধারণত লিভারের রক্ত পরীক্ষা করা হয়, বিশেষ করে লিভারের রোগ, অতিরিক্ত মদ্যপান বা বেশি বয়স হলে। মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
- ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করে চিকিৎসা বন্ধ করবেন না বা বিরতি দেবেন না; এতে ঔষধ প্রতিরোধী হতে পারে এবং আবার শুরু করলে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
- ডায়াবেটিস রোগীদের শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।
- পরফাইরিয়া থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, চুলকানি, ত্বক কমলা-লাল হয়ে যাওয়া, ঝিমুনি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতি বা খিঁচুনি হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রিফামাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক (যক্ষ্মা ও কুষ্ঠরোগের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপ ব্যবহারের আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Rifampicin এর সব ব্র্যান্ড