Ritonavir
ব্যবহার
- এইচআইভি-১ সংক্রমণে, সবসময় অন্য এইচআইভি ঔষধের সাথে। এখন এটি মূলত কম মাত্রায় "বুস্টার" হিসেবে ব্যবহার হয়, যা লোপিনাভির, দারুনাভির বা অ্যাটাজানাভিরের মতো অন্য প্রোটিয়েজ ইনহিবিটরের মাত্রা বাড়ায়।
- গুরুতর অসুস্থতার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এটি নিরমাট্রেলভিরের সাথে একই প্যাকে থাকে।
এইচআইভি বা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এটি দেন ও পর্যবেক্ষণ করেন।
কীভাবে কাজ করে
রিটোনাভির একটি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর, অর্থাৎ নতুন কার্যকর ভাইরাস তৈরিতে এইচআইভির যে এনজাইম লাগে, এটি তা আটকে দেয়। কম মাত্রায় এর মূল কাজ হলো লিভারে (CYP3A4 এনজাইমের মাধ্যমে) সঙ্গের ঔষধটির ভাঙন ধীর করা, যাতে সেটি রক্তে কার্যকর মাত্রায় থাকে। এটি এইচআইভি সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খান। বুস্টার হিসেবে সাধারণত দিনে একবার বা দুইবার ১০০ mg, অন্য এইচআইভি ঔষধের সাথে একই সময়ে।
- খাবারের সাথে খান। ট্যাবলেট পুরোটা গিলে খান; চিবাবেন না, ভাঙবেন না বা গুঁড়া করবেন না।
- কোভিড-১৯ এর জন্য এটি শুধু যৌথ প্যাকের অংশ হিসেবে ৫ দিন খাওয়া হয়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- শিশু: ওজন বা শরীরের আকার অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শে।
- ডোজ বন্ধ বা বাদ দেবেন না, কারণ এতে এইচআইভি ঔষধের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে যেতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিটোনাভির অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে, কিছু মিশ্রণ বিপজ্জনক। নতুন কোনো ঔষধ, ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে অবশ্যই ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।
- অ্যামিওডারোন, সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, অ্যালফুজোসিন, আরগোটামিন, পিমোজাইড, লুরাসিডোন, মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম, ট্রায়াজোলাম, রিফামপিসিন বা সেন্ট জনস ওয়ার্টের সাথে কখনোই খাওয়া যাবে না।
- এটি অনেক ঔষধের মাত্রা বাড়ায়, যেমন কিছু হৃদরোগ, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ঘুম, খিঁচুনি ও ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ঔষধ এবং রক্ত পাতলা করার ঔষধ; মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- ফ্লুটিকাসোনের মতো নিঃশ্বাসে বা নাকে নেওয়া স্টেরয়েড শরীরে জমে স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
- এটি জন্মনিরোধক বড়ির কার্যকারিতা কমাতে পারে; কনডমের মতো বাড়তি পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- রিটোনাভির বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- এর সাথে নিষিদ্ধ কোনো ঔষধ খেলে (উপরের তালিকা দেখুন)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, স্বাদের পরিবর্তন, মুখের চারপাশে বা হাত-পায়ে ঝিমঝিম বা অবশ ভাব, ক্লান্তি, র্যাশ, এবং কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, রক্তে শর্করা বা লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া।
নিচের যে কোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- পিঠে ছড়িয়ে পড়া তীব্র পেটব্যথা, সাথে বমি বমি ভাব ও বমি (অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে)।
- ত্বক বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব বা ফ্যাকাসে পায়খানা।
- ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘাসহ তীব্র র্যাশ, বা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া।
- অজ্ঞান হওয়া, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর, দ্রুত বা অনিয়মিত হওয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
বিশেষজ্ঞ উপযুক্ত মনে করলে গর্ভাবস্থায় এইচআইভি চিকিৎসার অংশ হিসেবে রিটোনাভির ব্যবহার করা হয়; কার্যকর চিকিৎসা চালিয়ে গেলে শিশুকে এইচআইভি থেকে রক্ষা করা যায়। এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ চিকিৎসা ও স্থানীয় নির্দেশনার উপর নির্ভর করে, তাই এইচআইভি বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- নিয়মিত লিভার, রক্তের চর্বি ও শর্করা পরীক্ষা করা হয়; হেপাটাইটিস বি বা সি থাকলে বাড়তি সতর্কতা।
- হিমোফিলিয়া থাকলে সহজে রক্তপাত হতে পারে।
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে এলে পুরোনো সংক্রমণ আবার ভেসে উঠতে পারে; নতুন কোনো লক্ষণ হলে জানান।
- চিকিৎসা এইচআইভি ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক কমায়, তবে একা সব ঝুঁকি দূর করে না; বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ঝিমঝিম ভাব, বমি বমি ভাব, বমি এবং হৃৎপিণ্ড ও লিভারের উপর প্রভাব পড়তে পারে। সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধ; এইচআইভি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর ও ফার্মাকোকাইনেটিক এনহ্যান্সার (বুস্টার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মূল পাত্রেই রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Ritonavir এর সব ব্র্যান্ড