Sulfasalazine
ব্যবহার
সালফাসালাজিন আলসারেটিভ কোলাইটিসের চিকিৎসায় এবং রোগ শান্ত রাখতে ব্যবহার হয়, আর বড় অন্ত্রের ক্রোনস ডিজিজেও দেওয়া হয়। সাধারণ ব্যথানাশকে কাজ না হলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও কিছু প্রদাহজনিত গিঁটের রোগেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া এটিকে দুই ভাগে ভাঙে: মেসালাজিন, যা অন্ত্রের ভেতরের প্রদাহ কমায়, এবং সালফাপাইরিডিন, যা গিঁটের প্রদাহ সৃষ্টিকারী রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া শান্ত করে। এটি রোগ নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধ (DMARD), তাই আর্থ্রাইটিসে পুরো উপকার পেতে প্রায় ৬ থেকে ১২ সপ্তাহ লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- আলসারেটিভ কোলাইটিস, প্রাপ্তবয়স্ক: রোগ বাড়লে ডাক্তার সাধারণত দিনে ২ থেকে ৪ g কয়েক ভাগে দেন, তারপর রোগ ফিরে আসা ঠেকাতে সাধারণত দিনে ২ g।
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ৫০০ mg দিয়ে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে দিনে ২ থেকে ৩ g কয়েক ভাগে, এন্টেরিক-কোটেড ট্যাবলেট হিসেবে।
- খাবারের পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। এন্টেরিক-কোটেড ট্যাবলেট না ভেঙে আস্ত গিলে খান।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি ডিগক্সিন ও ফলিক এসিডের শোষণ কমাতে পারে। মিথোট্রেক্সেট, অ্যাজাথায়োপ্রিন বা মারক্যাপটোপিউরিনের সাথে খেলে রক্তের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, তাই বাড়তি রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে। যেসব ঔষধ খাচ্ছেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- সালফাসালাজিন, সালফোনামাইড ("সালফা") জাতীয় ঔষধ বা অ্যাসপিরিনের মতো স্যালিসিলেটে এলার্জি থাকলে।
- একিউট পোরফাইরিয়া থাকলে।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, পেটের গোলমাল ও হালকা র্যাশ। প্রস্রাব, কখনও চামড়া ও ঘাম কমলা-হলুদ হতে পারে; এটি ক্ষতিকর নয়, তবে নরম কন্টাক্ট লেন্সে দাগ পড়তে পারে। পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমতে পারে, যা ঔষধ বন্ধ করলে ঠিক হয়ে যায়।
গলা ব্যথা, জ্বর, মুখে ঘা বা বারবার সংক্রমণ, অকারণে কালশিটে বা রক্তপাত, গুরুতর বা ফোসকাযুক্ত র্যাশ, চোখ বা চামড়া হলুদ হওয়া, অথবা নতুন শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন। এগুলো রক্ত, চামড়া, লিভার বা ফুসফুসের প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় সাধারণত চালিয়ে যাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শে বাড়তি ফলিক এসিডসহ। সুস্থ, পূর্ণ মেয়াদে জন্মানো শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত চলে; শিশু অপরিণত, জন্ডিসে আক্রান্ত বা অসুস্থ হলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, আর শিশুর পাতলা পায়খানা হলে জানান।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (ব্লাড কাউন্ট ও লিভার পরীক্ষা) দরকার, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে। কিডনি বা লিভারের রোগ, হাঁপানি ও G6PD ঘাটতি থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঝিমুনি বা খিঁচুনি হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রদাহজনিত অন্ত্ররোগের অ্যামিনোস্যালিসিলেট; রোগ নিয়ন্ত্রণকারী বাতের ঔষধ (DMARD)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Sulfasalazine এর সব ব্র্যান্ড