Saquinavir
ব্যবহার
স্যাকুইনাভির একটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের এইচআইভি-১ সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি সবসময় অল্প মাত্রার রিটোনাভিরের সাথে (যা রক্তে স্যাকুইনাভিরের মাত্রা বাড়ায়) এবং অন্যান্য এইচআইভি ঔষধের সাথে মিলিয়ে সমন্বিত চিকিৎসা হিসেবে দেওয়া হয়। এটি এইচআইভি সারায় না এবং অন্যের মধ্যে ছড়ানোও বন্ধ করে না, তবে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রক্ষা করতে সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
স্যাকুইনাভির প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর গোত্রের ঔষধ। নতুন সংক্রামক ভাইরাস তৈরির জন্য এইচআইভির প্রোটিয়েজ নামের একটি এনজাইম দরকার হয়। স্যাকুইনাভির এই এনজাইমকে আটকে দেয়, ফলে যে নতুন ভাইরাস তৈরি হয় তা অপরিণত থাকে এবং অন্য কোষকে সংক্রমিত করতে পারে না। এতে রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ (ভাইরাল লোড) কমে এবং CD4 রোগ প্রতিরোধী কোষ আবার বাড়তে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এইচআইভি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যেভাবে বলেছেন ঠিক সেভাবে সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা হলো ১০০০ mg দিনে দুইবার, সাথে রিটোনাভির ১০০ mg দিনে দুইবার, খাবারের সাথে বা খাবারের পরপরই। প্রথমবার চিকিৎসা শুরু করলে চিকিৎসক প্রথম সপ্তাহে কম মাত্রা দিতে পারেন। প্রতিদিন একই সময়ে সেবন করুন এবং কখনো ডোজ বাদ দেবেন না বা বন্ধ করবেন না, কারণ ডোজ বাদ পড়লে ভাইরাস ঔষধ-প্রতিরোধী হয়ে যেতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিটোনাভিরসহ স্যাকুইনাভির অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। আপনি যত ঔষধ, ভেষজ ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন সব চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
- হৃদ্স্পন্দনের QT সময় বাড়ায় এমন ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, কুইনিডিন, সোটালল, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, ইরিথ্রোমাইসিন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন বা মক্সিফ্লক্সাসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া একসাথে খাবেন না।
- রিফাম্পিসিন, সেন্ট জনস ওয়ার্ট, সিমভাস্টাটিন, লোভাস্টাটিন, মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম, ট্রায়াজোলাম, আর্গোটামিন, ফুসফুসের উচ্চ রক্তচাপের জন্য সিলডেনাফিল বা লুরাসিডোনের সাথে ব্যবহার করবেন না।
- কিছু স্ট্যাটিন, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, ওয়ারফারিন, ফেন্টানিল, কোলচিসিন ও কিছু ছত্রাকনাশক ঔষধের মাত্রা রক্তে বেড়ে যেতে পারে।
- হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কম কার্যকর হতে পারে; বাড়তি একটি পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- স্যাকুইনাভির বা রিটোনাভিরে অ্যালার্জি থাকলে।
- জন্মগত বা অর্জিত দীর্ঘ QT, হৃদ্ছন্দের সমস্যা, খুব ধীর হৃদ্স্পন্দন বা রক্তে পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে।
- গুরুতর যকৃতের রোগ থাকলে।
- ওপরে উল্লেখিত যেসব ঔষধ একসাথে চলবে না, সেগুলো সেবনকালে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং রক্তের চর্বি বা শর্করার পরিবর্তন। কারও কারও শরীরে চর্বির বিন্যাস বদলাতে পারে বা ত্বকে ফুসকুড়ি হতে পারে।
কম দেখা গেলেও গুরুতর সমস্যার মধ্যে আছে হৃদ্ছন্দের পরিবর্তন, যকৃতের সমস্যা, নতুন বা বেড়ে যাওয়া ডায়াবেটিস এবং হিমোফিলিয়া রোগীদের রক্তপাত বেড়ে যাওয়া।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, বুক ধড়ফড়, তীব্র মাথা ঘোরা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, তীব্র পেটব্যথা, অথবা ফোসকাসহ তীব্র ফুসকুড়ি বা মুখ ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভকালে শিশুকে রক্ষা করতে এইচআইভি চিকিৎসা জরুরি, তবে স্যাকুইনাভির পছন্দের ঔষধ নয়; চিকিৎসক উপযুক্ত মনে করলেই কেবল ব্যবহার করা হয়। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা করলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান। বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে এইচআইভি ছড়াতে পারে, তাই শিশুকে খাওয়ানোর বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালে সাধারণত ইসিজি (হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা) করা হয়।
- হেপাটাইটিস বি বা সি সহ যকৃতের রোগ, ডায়াবেটিস বা হিমোফিলিয়া থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- নিয়মিত ভাইরাল লোড, CD4, যকৃতের কার্যক্ষমতা, রক্তের শর্করা ও চর্বির পরীক্ষা দরকার।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরতে থাকলে পুরোনো লুকানো সংক্রমণ জেগে উঠতে পারে; নতুন কোনো উপসর্গ হলে জানান।
- চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে এইচআইভির ঔষধ বদলাবেন বা বন্ধ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা এবং বিপজ্জনক হৃদ্ছন্দের পরিবর্তন হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই; হৃদ্যন্ত্র পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল, এইচআইভি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মূল পাত্রেই রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Saquinavir এর সব ব্র্যান্ড