Sotalol Hydrochloride
ব্যবহার
সোটালল হাইড্রোক্লোরাইড কিছু গুরুতর অস্বাভাবিক হৃৎছন্দ (অ্যারিদমিয়া) চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে আছে হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠ থেকে উদ্ভূত জীবনসংশয়কারী দ্রুত ছন্দ (ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়া), এবং নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা এট্রিয়াল ফ্লাটার ঠিক করার পর স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখা।
কীভাবে কাজ করে
সোটালল দুইভাবে কাজ করে। এটি একটি বিটা ব্লকার, তাই হৃৎস্পন্দন কমায় এবং হৃৎপিণ্ডের ওপর অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব কমায়। এটি দুই স্পন্দনের মাঝে হৃৎপেশির কোষের সুস্থ হওয়ার সময়ও বাড়ায় (ক্লাস III অ্যান্টিঅ্যারিদমিক প্রভাব), ফলে অস্বাভাবিক ছন্দ শুরু হওয়া ও চলতে থাকা কঠিন হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সোটালল শুরু করেন, প্রায়ই প্রথম কয়েক দিন হাসপাতালে সার্বক্ষণিক ইসিজি (হৃৎস্পন্দনের রেকর্ড) পর্যবেক্ষণে, কারণ কারও কারও এটি বিপজ্জনক ছন্দ ঘটাতে পারে। মাত্রা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী, যা কিডনির কার্যকারিতা ও ইসিজি দেখে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। সাধারণত দিনে দুইবার, প্রতিদিন একই সময়ে ও খালি পেটে, খাবারের প্রায় ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে ট্যাবলেট খেতে হয়। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে বুকে ব্যথা বা ছন্দের সমস্যা বাড়তে পারে; প্রয়োজনে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হৃৎছন্দে প্রভাব ফেলে (QT বাড়ায়) এমন অন্য ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, কুইনিডিন, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (এরিথ্রোমাইসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন), কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট: বিপজ্জনক ছন্দের ঝুঁকি।
- পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমানো ডাইইউরেটিক: ছন্দের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ভেরাপামিল ও ডিলটিয়াজেমের মতো ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, ডিগক্সিন ও অন্য বিটা ব্লকার: হৃৎস্পন্দন খুব কমে যেতে ও রক্তচাপ নেমে যেতে পারে।
- অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড: সোটালল থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট: সোটালল রক্তে শর্করা কমার লক্ষণ লুকিয়ে ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
হাঁপানি বা শোঁ শোঁ শব্দসহ গুরুতর ফুসফুসের রোগ, খুব ধীর হৃৎস্পন্দন, পেসমেকার ছাড়া কিছু হার্ট ব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম, অনিয়ন্ত্রিত হার্ট ফেইলিওর, কার্ডিওজেনিক শক, দীর্ঘ QT ইন্টারভাল, পটাশিয়াম কম, গুরুতর কিডনি বিকলতা বা এই ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে সোটালল খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ক্লান্তি, ধীর হৃৎস্পন্দন, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, হাত-পা ঠান্ডা হওয়া, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, ঘুমের সমস্যা ও যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া।
অজ্ঞান বা অজ্ঞানের মতো অনুভূতি, খুব দ্রুত, অনিয়মিত বা জোরে স্পন্দন, বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা শোঁ শোঁ শব্দ, গোড়ালি ফোলাসহ দ্রুত ওজন বাড়া, অথবা তীব্র ডায়রিয়া বা বমি (যা পটাশিয়াম কমিয়ে ছন্দের ঝুঁকি বাড়ায়) হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সোটালল গর্ভফুল পেরিয়ে শিশুর হৃৎস্পন্দন বা বৃদ্ধি কমাতে পারে; ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে তবেই পর্যবেক্ষণসহ গর্ভাবস্থায় দেওয়া হয়। এটি বেশি পরিমাণে বুকের দুধে যায়, তাই সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো নিরুৎসাহিত করা হয়, অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়।
সতর্কতা
নিয়মিত ইসিজি এবং কিডনি, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের রক্ত পরীক্ষা দরকার। যেকোনো ডাক্তারকে, বিশেষ করে অপারেশনের আগে, জানান যে আপনি সোটালল খাচ্ছেন। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের রোগ, সোরিয়াসিস ও হাত-পায়ে রক্তসঞ্চালনের সমস্যা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবন করলে খুব ধীর হৃৎস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ, শোঁ শোঁ শ্বাস, রক্তে শর্করা কমা, বিপজ্জনক ছন্দ ও অজ্ঞান হওয়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, ক্লাস III কার্যকারিতাসহ বিটা ব্লকার।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Sotalol Hydrochloride এর সব ব্র্যান্ড