Yellow Fever Vaccine
ব্যবহার
ইয়েলো ফিভার ভ্যাকসিন পীতজ্বর থেকে সুরক্ষা দেয়, যা আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে মশাবাহিত একটি গুরুতর ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। যাঁরা এসব এলাকায় থাকেন বা ভ্রমণ করেন, এবং যেসব দেশে প্রবেশে টিকার প্রমাণ লাগে সেখানে যাত্রীদের, ৯ মাস বা তার বেশি বয়সীদের এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি জীবন্ত টিকা, যাতে দুর্বল করা পীতজ্বর ভাইরাস থাকে। এটি খুব হালকা সংক্রমণ ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শেখায়, ফলে আসল ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে শরীর তাকে প্রতিহত করতে পারে। টিকার প্রায় ১০ দিন পর সুরক্ষা তৈরি হয় এবং সাধারণত একটি ডোজেই আজীবন সুরক্ষা পাওয়া যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক বা নার্স সাধারণত অনুমোদিত টিকাকেন্দ্রে সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী ত্বকের নিচে বা পেশিতে একটি ইনজেকশন হিসেবে এটি দেন। সাধারণত বুস্টার লাগে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। টিকার সনদ ডোজের ১০ দিন পর কার্যকর হয়, তাই ভ্রমণের অন্তত ১০ দিন আগে টিকা নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এমন ঔষধ (উচ্চ মাত্রার কর্টিকোস্টেরয়েড, কেমোথেরাপি, মেথোট্রেক্সেট, বায়োলজিকস, প্রতিস্থাপনের ঔষধ) টিকাকে অনিরাপদ বা কম কার্যকর করতে পারে।
- অন্য জীবন্ত টিকা (যেমন MMR) একই দিনে অথবা অন্তত ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে দেওয়া উচিত।
- ইমিউনোগ্লোবুলিন বা সাম্প্রতিক রক্তজাত পণ্য নিলে চিকিৎসক সময় ঠিক করতে তা বিবেচনা করতে পারেন।
কারা খাবেন না
- ৬ মাসের কম বয়সী শিশু।
- ডিম, মুরগির প্রোটিন, জেলাটিন বা টিকার কোনো উপাদানে, বা আগের ডোজে গুরুতর অ্যালার্জি হলে।
- অসুখ (যেমন লক্ষণযুক্ত HIV বা কম CD4, লিউকেমিয়া, লিমফোমা) বা চিকিৎসার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে।
- থাইমাস গ্রন্থির রোগ বা থাইমাস অপসারণের ইতিহাস থাকলে।
- উচ্চ জ্বরসহ তীব্র অসুস্থতায় (টিকা পিছিয়ে দেওয়া হয়)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা, মাথাব্যথা, হালকা জ্বর, পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি সাধারণ, সাধারণত কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে। খুব কম ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে: তীব্র অ্যালার্জি, মস্তিষ্ক বা স্নায়ুর প্রদাহ, এবং অনেক অঙ্গে প্রভাব ফেলা পীতজ্বরসদৃশ অসুখ। এই বিরল প্রতিক্রিয়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং প্রথম ডোজ নেওয়া মানুষের মধ্যে বেশি।
টিকার পরের সপ্তাহগুলোতে শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, ঘাড় শক্ত হওয়া, খিঁচুনি, দুর্বলতা বা অবশ ভাব, ত্বক হলুদ হওয়া, অথবা প্রস্রাব কমে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ পিছানো না গেলে তবেই দেওয়া হয়। স্তন্যদানকারী মায়েরা, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশু থাকলে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ অপরিহার্য না হলে টিকা এড়িয়ে চলবেন, কারণ খুব কম ক্ষেত্রে বুকের দুধের মাধ্যমে টিকার ভাইরাস শিশুর শরীরে গেছে। চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশু এবং লক্ষণহীন HIV আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- অ্যালার্জি, অসুখ ও সব ঔষধের কথা টিকাদানকারীকে জানান।
- মশার কামড় এড়িয়ে চলুন, কারণ এই টিকা মশাবাহিত অন্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় না।
- টিকার পর ৪ সপ্তাহ রক্তদান করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মী একটি ডোজ দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সম্ভাবনা কম। অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টিকা (জীবন্ত দুর্বল ভাইরাস টিকা)।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন; জমাবেন না। আলো থেকে দূরে রাখুন। মেশানোর পর প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Yellow Fever Vaccine এর সব ব্র্যান্ড