Sulphadiazine
ব্যবহার
সালফাডায়াজিন মুখে খাওয়ার একটি সালফোনামাইড জীবাণুনাশক। বর্তমানে এটি মূলত পাইরিমেথামিন ও ফোলিনিক অ্যাসিডের সাথে টক্সোপ্লাজমোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এটি একটি পরজীবীজনিত সংক্রমণ, যা চোখ, মস্তিষ্ক বা গর্ভের শিশুকে আক্রান্ত করতে পারে। নোকার্ডিওসিসের মতো আরও কিছু সংক্রমণে, এবং যারা পেনিসিলিন খেতে পারেন না তাদের বাতজ্বর আবার হওয়া ঠেকাতেও এটি ব্যবহার হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
জীবাণুর বেড়ে ওঠার জন্য ফলিক অ্যাসিড দরকার। সালফাডায়াজিন জীবাণুর ফলিক অ্যাসিড তৈরির ক্ষমতা বন্ধ করে দেয়, ফলে জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমণ দূর করতে পারে। একই পথের পরের একটি ধাপ আটকে দেওয়া পাইরিমেথামিনের সাথে দিলে কাজ অনেক বেশি হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন, রোগীর ওজন ও কিডনির অবস্থার ওপর, তাই ডাক্তারের নির্দেশমতো খেতে হয়। টক্সোপ্লাজমোসিসের চিকিৎসা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ চলে এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হয়। এক গ্লাস ভর্তি পানি দিয়ে খান এবং কিডনি রক্ষায় প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন (প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার)। পুরো কোর্স শেষ করুন। শিশু ও নবজাতক: শুধু বিশেষজ্ঞের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি ওয়ারফারিন (রক্তপাত বেশি), ফেনিটোইন, মেথোট্রেক্সেট এবং গ্লিবেনক্লামাইডের মতো সালফোনাইলইউরিয়া ডায়াবেটিসের ঔষধের (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া) প্রভাব বাড়াতে পারে। ট্রাইমেথোপ্রিম, পাইরিমেথামিন বা মেথোট্রেক্সেটের সাথে দিলে রক্তের কণিকা কমার ঝুঁকি বাড়ে, তাই রক্ত পরীক্ষা দরকার। মেথেনামিনের সাথে খাবেন না। জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত কিছু টিকার (যেমন মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকা) কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- সালফোনামাইড ("সালফা ঔষধ") এ এলার্জি থাকলে, আগে ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়াসহ।
- পোরফাইরিয়া থাকলে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- ২ মাসের কম বয়সী শিশু (জন্মগত টক্সোপ্লাজমোসিসে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ছাড়া)।
- গর্ভাবস্থার শেষ দিকে, এবং নবজাতক, অপরিণত বা জন্ডিস আক্রান্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা, চামড়ায় র্যাশ ও রোদে সংবেদনশীলতা। কম দেখা যায়: প্রস্রাবে দানা বা কিডনিতে পাথর (কোমরের পাশে ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত), রক্তের কণিকা কমে যাওয়া, জ্বর ও গিঁটে ব্যথা।
খাওয়া বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: সারা শরীরে র্যাশ, ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখ, চোখ বা যৌনাঙ্গে ঘা; মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; গলাব্যথা, জ্বর বা মুখে ঘা, যা শ্বেতকণিকা কমার লক্ষণ হতে পারে; অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে; প্রস্রাব খুব কম হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত বা কোমরের পাশে তীব্র ব্যথা।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
বিশেষজ্ঞ যখন মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, যেমন গর্ভের শিশুকে টক্সোপ্লাজমোসিস থেকে রক্ষা করতে, শুধু তখনই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার হয়। সাধারণত সাথে ফোলিনিক অ্যাসিড দেওয়া হয়। প্রসবের কাছাকাছি সময়ে এড়িয়ে চলা হয়, কারণ নবজাতকের জন্ডিস বাড়াতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; নবজাতক, অপরিণত, অসুস্থ, জন্ডিস আক্রান্ত বা G6PD ঘাটতিযুক্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- দীর্ঘ চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্তের কণিকা এবং কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা করা হয়।
- G6PD ঘাটতি, হাঁপানি, তীব্র এলার্জি, কিডনি বা লিভারের রোগ, অথবা ফোলেটের ঘাটতি থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- প্রচুর পানি পান করুন এবং কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন।
- বয়স্ক ও এইচআইভি আক্রান্তদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বেশি।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, প্রস্রাবে রক্ত, কিডনির সমস্যা ও ত্বক হলুদ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সালফোনামাইড জীবাণুনাশক।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Sulphadiazine এর সব ব্র্যান্ড