Propylthiouracil
ব্যবহার
প্রোপাইলথায়োইউরাসিল থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কার্যকারিতা (হাইপারথাইরয়েডিজম), যেমন গ্রেভস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। থাইরয়েড অপারেশন বা রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন চিকিৎসার আগে থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে আনতেও এটি দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এবং থাইরয়েড স্টর্মে (হঠাৎ মারাত্মকভাবে থাইরয়েড বেড়ে যাওয়া) এটি প্রায়ই প্রথম পছন্দ।
কীভাবে কাজ করে
থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন দিয়ে হরমোন তৈরি করে। প্রোপাইলথায়োইউরাসিল এই হরমোন তৈরির এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে হরমোন কম তৈরি হয়। এটি শরীরে জমা T4 হরমোনকে বেশি সক্রিয় T3 তে রূপান্তরও কমায়। এতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা ও ওজন কমার মতো উপসর্গ কমে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
থাইরয়েডের রক্ত পরীক্ষার ফল দেখে ডাক্তার মাত্রা ঠিক করবেন। সাধারণত শুরুতে মাত্রা বেশি থাকে, পরে কমিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রায় আনা হয়। ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দিনে কয়েক ভাগে ভাগ করে খাবারের আগে বা পরে সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না। থাইরয়েড, লিভার ও রক্তকণিকা দেখতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ: কার্যকারিতা বদলাতে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা লাগতে পারে।
- বিটা ব্লকার ও ডিগক্সিনের মতো হৃদস্পন্দনের ঔষধ: থাইরয়েড স্বাভাবিক হলে মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- থিওফাইলিন: থাইরয়েডের পরিবর্তনের সাথে রক্তে এর মাত্রা বদলাতে পারে।
- লিভারের ক্ষতি করতে পারে বা শ্বেত রক্তকণিকা কমাতে পারে এমন অন্যান্য ঔষধ।
আপনি যেসব ঔষধ, ভেষজ ও সাপ্লিমেন্ট নেন সবই ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
এই ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে, আগে এটি থেকে লিভারের গুরুতর ক্ষতি বা রক্তের গুরুতর সমস্যা (যেমন অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস) হয়ে থাকলে, অথবা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে প্রোপাইলথায়োইউরাসিল খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে চামড়ায় র্যাশ, চুলকানি, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, গাঁটে ব্যথা, মাথাব্যথা ও স্বাদের পরিবর্তন। কম হলেও গুরুতর সমস্যা হতে পারে: লিভারের ক্ষতি, শ্বেত রক্তকণিকা হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া (অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস), যাতে সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষমতা কমে যায়, এবং রক্তনালীর প্রদাহ।
গলা ব্যথা, জ্বর, মুখে ঘা বা সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ, চোখ বা চামড়া হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে পায়খানা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, খিদে কমে যাওয়া, পেটের ডান দিকের উপরে ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, অথবা গুরুতর র্যাশ হলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসা না করা হাইপারথাইরয়েডিজম গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে প্রায়ই এই ঔষধ বেছে নেওয়া হয়, পরে লিভারের ঝুঁকির কারণে ডাক্তার অন্য ঔষধে বদলাতে পারেন। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় গ্রহণযোগ্য, প্রয়োজনে শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা করা হয়। সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
এই ঔষধ লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, তাই লিভারের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জানান। ডাক্তার রক্তকণিকা ও লিভারের পরীক্ষা করবেন। মাত্রা বেশি হলে থাইরয়েড কম কাজ করতে পারে, তখন ক্লান্তি, ওজন বাড়া ও শীত শীত লাগা দেখা দেয়। যেকোনো অপারেশনের আগে ডাক্তারকে জানান। বয়স্ক ও লিভারের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবন করলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর ও গাঁটে ব্যথা হতে পারে, আর দীর্ঘ সময়ে থাইরয়েড কম কাজ করা বা অস্থিমজ্জার সমস্যা হতে পারে। দেরি না করে চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
থাইরয়েড বিরোধী ঔষধ (থায়োঅ্যামাইড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Propylthiouracil এর সব ব্র্যান্ড