Ticagrelor
ব্যবহার
যাদের অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (হার্ট অ্যাটাক বা আনস্টেবল এনজাইনা) হয়েছে, স্টেন্ট বসানো রোগীসহ, তাদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে কম মাত্রার অ্যাসপিরিনের সাথে টিকাগ্রেলর ব্যবহার হয়। অন্তত এক বছর আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং এখনও ঝুঁকি বেশি, এমন কিছু রোগীকে দীর্ঘমেয়াদেও দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ। প্লেটলেট হলো রক্তের ছোট কণিকা যেগুলো জমাট বেঁধে রক্ত জমাট তৈরি করে। এটি প্লেটলেটের পি২ওয়াই১২ রিসেপ্টর আটকে দেয়, ফলে হৃদ্পিণ্ডের ধমনী ও স্টেন্টে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমের পর: শুরুতে একবারে ১৮০ mg (দুটি ৯০ mg ট্যাবলেট), তারপর দিনে দুবার ৯০ mg, সাধারণত ১২ মাস, ডাক্তার অন্য কিছু না বললে দিনে ৭৫ থেকে ১০০ mg অ্যাসপিরিনের সাথে। আগের হার্ট অ্যাটাকের পর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার: সাধারণত দিনে দুবার ৬০ mg, ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী। খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। গিলতে কষ্ট হলে ট্যাবলেট গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। কোনো ডোজ বাদ পড়লে পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে খান; দ্বিগুণ খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজোল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন বা রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী এনজাইম-বাধাদানকারী ঔষধের সাথে খাবেন না, এগুলো এর মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও ফেনোবার্বিটাল এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- দিনে ১০০ mg এর বেশি অ্যাসপিরিন এর উপকার কমিয়ে দেয়।
- দিনে ৪০ mg এর বেশি সিমভাস্টাটিন বা লোভাস্টাটিন এর সাথে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
- ওয়ারফারিন, অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক এবং ফ্লুক্সেটিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়তে পারে, পর্যবেক্ষণ দরকার। মরফিন এর কাজ শুরু হতে দেরি করাতে পারে।
কারা খাবেন না
- সক্রিয় রক্তপাত, যেমন পাকস্থলীর আলসার থেকে রক্তপাত।
- আগে কখনও মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে।
- লিভারের গুরুতর রোগ।
- শক্তিশালী এনজাইম-বাধাদানকারী ঔষধ (ওপরে উল্লেখিত) চললে।
- টিকাগ্রেলর বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: সহজে রক্তপাত ও কালশিটে পড়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, শ্বাসকষ্ট (প্রায়ই হালকা এবং কমে যেতে পারে), মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া এবং ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া, যা গেঁটেবাত ঘটাতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন:
- কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, বা প্রস্রাবে রক্ত।
- রক্তপাত যা থামছে না।
- হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, বিভ্রান্তি বা কথা বলতে সমস্যা (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে)।
- তীব্র বা বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট, বা বুকে ব্যথা।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হওয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না; গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা না বলে বন্ধ করবেন না, কারণ আগেভাগে বন্ধ করলে হার্ট অ্যাটাক বা স্টেন্টে রক্ত জমাটের ঝুঁকি বাড়ে।
- দাঁতের ডাক্তার বা সার্জনকে জানান যে আপনি এটি খাচ্ছেন; পরিকল্পিত অপারেশনের প্রায় ৫ দিন আগে ডাক্তার এটি বন্ধ রাখতে বলতে পারেন।
- হাঁপানি বা সিওপিডি, ধীর হৃৎস্পন্দন, গেঁটেবাত বা আগে রক্তপাতের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
প্রধান ঝুঁকি হলো গুরুতর রক্তপাত। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ (পি২ওয়াই১২ রিসেপ্টর ব্লকার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Ticagrelor এর সব ব্র্যান্ড