Glipizide
ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে গ্লিপিজাইড ব্যবহার হয়। এটি একা বা অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে দেওয়া হয়; মেটফরমিনের সাথে মিশ্র ট্যাবলেটও পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
এটি সালফোনাইলইউরিয়া গোত্রের ঔষধ। এটি অগ্ন্যাশয় থেকে বেশি ইনসুলিন বের করে রক্তের সুগার কমায়। অগ্ন্যাশয় কিছুটা ইনসুলিন তৈরি করতে পারলেই এটি কাজ করে, তাই টাইপ ১ ডায়াবেটিসে এটি ব্যবহার হয় না। কিছু পুরোনো সালফোনাইলইউরিয়ার চেয়ে এটি কম সময় কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ২.৫ থেকে ৫ mg দিয়ে শুরু, সকালের নাস্তার প্রায় ৩০ মিনিট আগে। সুগার পরীক্ষা দেখে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়াতে পারেন, সাধারণত দিনে সর্বোচ্চ ২০ mg পর্যন্ত; বেশি মাত্রা প্রায়ই খাবারের আগে দুই ভাগে দেওয়া হয়। এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট দিনে একবার নাস্তার সাথে খেতে হয় এবং না ভেঙে আস্ত গিলতে হয়। বয়স্ক এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকা রোগীদের কম মাত্রায় শুরু করা হয়। মেটফরমিনের সাথে মিশ্র ট্যাবলেট: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, খাবারের সাথে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও অন্যান্য ডায়াবেটিসের ঔষধে সুগার বেশি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ফ্লুকোনাজোল, মাইকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিক ও কিছু ব্যথানাশক এর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইইউরেটিক ও কিছু হরমোনের ঔষধ সুগার বাড়াতে পারে।
- প্রোপ্রানোললের মতো বিটা-ব্লকার সুগার কমে যাওয়ার লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
- মদ্যপানে সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস থাকলে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- গ্লিপিজাইড, অন্য সালফোনাইলইউরিয়া বা সালফোনামাইড ঔষধে এলার্জি থাকলে।
- পোরফাইরিয়া থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তের সুগার কমে যাওয়া: ঘাম, কাঁপুনি, খিদে, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা ঝাপসা দেখা। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি কিছু খান। এছাড়া বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি, ওজন বাড়া, মাথা ঘোরা ও র্যাশ হতে পারে।
চিনি খাওয়ার পরও সুগার না বাড়লে, অজ্ঞান হয়ে গেলে, খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। চামড়া বা চোখ হলুদ হলে, ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ হলে, অথবা অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত হলেও দ্রুত ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না; গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন ডায়াবেটিস রোগীকে সাধারণত ইনসুলিনে নেওয়া হয়, তাই আগেভাগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও সুপারিশ করা হয় না, কারণ শিশুর সুগার কমে যেতে পারে।
সতর্কতা
- নিয়মিত খাবার খান; ব্যায়াম, রোজা, অসুস্থতা বা মদ্যপানের সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন।
- বয়স্ক এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকা রোগীদের সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
- জি৬পিডি ঘাটতি থাকলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- কিছু এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেটের খালি খোসা পায়খানায় দেখা যেতে পারে; এটি স্বাভাবিক।
- নিয়মিত সুগার মাপুন এবং সাথে মিষ্টি জাতীয় খাবার রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে রক্তের সুগার মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। রোগী সজাগ থাকলে চিনি বা মিষ্টি পানীয় দিন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিন, কারণ সুগার আবার কমে যেতে পারে। রোগী ঝিমিয়ে পড়লে বা অজ্ঞান হলে মুখে কিছু দেবেন না; জরুরি সাহায্য ডাকুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সালফোনাইলইউরিয়া (মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Glipizide এর সব ব্র্যান্ড