Chlorthalidone
ব্যবহার
- উচ্চ রক্তচাপে, একা বা রক্তচাপের অন্য ঔষধের সাথে।
- হার্ট ফেইলিওর, লিভারের রোগ, কিডনির রোগ বা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়ার কারণে শরীরে পানি জমে ফোলা (ইডিমা) হলে।
বিশেষজ্ঞরা কখনো কখনো অন্য রোগেও এটি দেন, যেমন কিছু ধরনের কিডনির পাথর প্রতিরোধে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
কীভাবে কাজ করে
ক্লোরথ্যালিডোন থায়াজাইডের মতো কাজ করা একটি ডাইইউরেটিক (প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ)। এটি কিডনিকে শরীর থেকে বেশি লবণ ও পানি বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে রক্তনালিতে তরল কমে এবং রক্তচাপ কমে। এর প্রভাব এক দিনের বেশি থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
উচ্চ রক্তচাপ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত সকালে দিনে একবার ১২.৫ mg থেকে ২৫ mg। প্রয়োজনে ডাক্তার ৫০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।
পানি জমে ফোলা, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার বা একদিন পরপর ২৫ mg থেকে ৫০ mg, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। এর বেশি মাত্রা শুধু নিবিড় তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়।
রাতে যেন প্রস্রাবের জন্য উঠতে না হয়, তাই সকালে খাবারের সাথে খান। বয়স্কদের কম মাত্রা দিয়ে শুরু করা হতে পারে। শিশু: শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
কোনো ডোজ বাদ পড়লে সেদিন সকালেই মনে পড়লে খেয়ে নিন; দিনের শেষ দিকে মনে পড়লে বাদ দিন। একসাথে দুই ডোজ খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- লিথিয়াম: রক্তে এর মাত্রা ক্ষতিকর পর্যায়ে বাড়তে পারে।
- রক্তচাপের অন্য ঔষধ: শুরুতে রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে।
- ডাইক্লোফেনাক বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথার ঔষধ: এর কাজ কমায় এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- ডিগক্সিন: ক্লোরথ্যালিডোনে পটাশিয়াম কমে গেলে ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- স্টেরয়েড ও জোলাপ: পটাশিয়াম আরও কমে।
- ডায়াবেটিসের ঔষধ: রক্তে শর্করা বাড়তে পারে বলে মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ক্লোরথ্যালিডোন বা সালফোনামাইড ("সালফা") জাতীয় ঔষধে এলার্জি থাকলে
- গুরুতর কিডনি বিকল বা প্রস্রাব তৈরি না হলে
- গুরুতর লিভার বিকল
- রক্তে পটাশিয়াম বা সোডিয়াম কম যা ঠিক হচ্ছে না, বা রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি
- গেঁটেবাত (গাউট) সক্রিয় থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পটাশিয়াম কমে যাওয়া (দুর্বলতা, পেশিতে টান), সোডিয়াম কমে যাওয়া, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ইউরিক অ্যাসিড বাড়া বা গাউট, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল বাড়া, পেটের সমস্যা, রোদে ত্বক বেশি সংবেদনশীল হওয়া এবং লিঙ্গোত্থানের সমস্যা।
পেশিতে তীব্র দুর্বলতা বা টান, অনিয়মিত বা খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া, খুব পিপাসার সাথে খুব কম প্রস্রাব, ত্বকে গুরুতর র্যাশ, অথবা মুখ ফুলে শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সাধারণ ফোলা বা নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ক্লোরথ্যালিডোন ব্যবহার হয় না; ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলেই কেবল দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায় এবং দুধ কমিয়ে দিতে পারে, তাই ডাক্তার না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় না খাওয়াই ভালো।
সতর্কতা
- মাঝে মাঝে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও কিডনির রক্ত পরীক্ষা দরকার।
- ডায়াবেটিস, গাউট, লুপাস বা লিভারের রোগ থাকলে সাবধান থাকুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন; বমি, ডায়রিয়া বা খুব ঘাম হলে ডাক্তারকে জানান।
- মাথা ঘোরা এড়াতে ধীরে উঠে দাঁড়ান, বিশেষ করে বয়স্করা।
- রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ অনেক কমে যাওয়া ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। দেরি না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (থায়াজাইডের মতো ডাইইউরেটিক) ও উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Chlorthalidone এর সব ব্র্যান্ড