Potassium Citrate
ব্যবহার
- যাদের প্রস্রাবে সাইট্রেট কম, তাদের কিডনির পাথর প্রতিরোধে, এবং ক্যালসিয়াম অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিড পাথর প্রতিরোধে।
- ডাক্তার পরামর্শ দিলে প্রস্রাবের অম্লতা কমাতে, যেমন গেঁটেবাতে বা কিছু ঔষধের সাথে।
- সাইট্রিক অ্যাসিডের সাথে মিশ্রিত খাওয়ার দ্রবণ: হালকা মূত্রনালির সংক্রমণে প্রস্রাবের জ্বালা কমাতেও ব্যবহার হয়, তবে এটি সংক্রমণ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
পটাশিয়াম সাইট্রেট শরীরে বাইকার্বোনেটে পরিণত হয়, যা প্রস্রাবের অম্লতা কমায়। এটি প্রস্রাবে সাইট্রেটের পরিমাণও বাড়ায়। সাইট্রেট ক্যালসিয়ামকে আটকে রাখে এবং দানা জুড়ে পাথর হতে দেয় না; কম অম্লীয় প্রস্রাবে ইউরিক অ্যাসিড গলে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ট্যাবলেট (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ১০৮০ mg (১০ mEq) দিনে ২ বা ৩ বার খাবারের সাথে, অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা দেখে ডাক্তার মাত্রা ঠিক করেন।
- খাবারের সময় বা ঠিক পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। ভাঙবেন, চিবাবেন বা চুষবেন না।
- খাওয়ার দ্রবণ: মাপা ডোজ এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবারের পর খান, ডাক্তারের পরামর্শ বা প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী।
ডাক্তার নিষেধ না করলে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, ট্রায়ামটেরিন, ACE ইনহিবিটর (যেমন এনালাপ্রিল), ARB (যেমন লসার্টান), পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট ও লবণের বিকল্প: রক্তে পটাশিয়াম বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
- ডাইক্লোফেনাক বা আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID ও পটাশিয়াম বাড়াতে ও কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
- অ্যান্টিকোলিনার্জিকের মতো পেটের গতি কমায় এমন ঔষধে ট্যাবলেট পাকস্থলীতে ক্ষত করার সম্ভাবনা বাড়ে।
- অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড: সাইট্রেট অ্যালুমিনিয়াম শোষণ বাড়ায়; আলাদা সময়ে খান।
কারা খাবেন না
- রক্তে পটাশিয়াম বেশি থাকলে, বা যেসব অবস্থায় তা হয়, যেমন কিডনি বিকল, অ্যাডিসনস রোগ বা তীব্র পানিশূন্যতা।
- ট্যাবলেট: পাকস্থলীতে সক্রিয় আলসার, খাদ্যনালি সরু হওয়া বা পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ার সমস্যা থাকলে।
- পাথর তৈরি করে এমন জীবাণুর সক্রিয় মূত্রনালির সংক্রমণে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা। খাবারের সাথে খেলে কম হয়।
কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি বা তীব্র পেটব্যথা (পাকস্থলীর ক্ষতির লক্ষণ), অথবা মাংসপেশি দুর্বলতা, ঝিনঝিন বা অবশ ভাব, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা বিভ্রান্তি (পটাশিয়াম বেশির লক্ষণ) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শকৃত মাত্রায় পটাশিয়াম সাইট্রেট শিশুর ক্ষতি করবে বলে আশঙ্কা করা হয় না। পটাশিয়াম বুকের দুধের স্বাভাবিক উপাদান, তাই সাধারণ মাত্রায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া চলে বলে ধরা হয়।
সতর্কতা
ডাক্তার নিয়মিত রক্তের পটাশিয়াম, কিডনির কার্যকারিতা ও প্রস্রাব পরীক্ষা করবেন। কিডনির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা পাকস্থলীতে আলসার থাকলে ডাক্তারকে জানান। কখনো পায়খানায় ট্যাবলেটের খোসা দেখা যেতে পারে; এটি স্বাভাবিক। পরামর্শ ছাড়া আলাদা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে রক্তে পটাশিয়াম বিপজ্জনকভাবে বেড়ে মাংসপেশি দুর্বলতা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ও মূর্ছা হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রস্রাব ক্ষারীয়কারক; পটাশিয়াম লবণ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Potassium Citrate এর সব ব্র্যান্ড