Vasopressin
ব্যবহার
ভ্যাসোপ্রেসিন একটি হাসপাতালভিত্তিক ঔষধ। এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের ভাসোডাইলেটরি শক (যেমন সেপটিক শক) এ বিপজ্জনকভাবে কম রক্তচাপ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়, যখন তরল ও অন্য রক্তচাপ বাড়ানোর ঔষধ (ক্যাটেকোলামিন) যথেষ্ট নয়। সেন্ট্রাল ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে এবং কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যনালীর ফোলা শিরা (ইসোফাজিয়াল ভ্যারিসেস) থেকে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে
ভ্যাসোপ্রেসিন হলো অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোনের কৃত্রিম রূপ, যা স্বাভাবিকভাবে পিটুইটারি গ্রন্থিতে তৈরি হয়। এটি রক্তনালির দেয়ালের V1 রিসেপ্টরে কাজ করে রক্তনালি সঙ্কুচিত করে, ফলে রক্তচাপ বাড়ে। এটি কিডনির V2 রিসেপ্টরেও কাজ করে, যাতে শরীর পানি ধরে রাখে এবং ঘন প্রস্রাব তৈরি হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতালে, সাধারণত আইসিইউতে, চিকিৎসক বা নার্স পাম্পের মাধ্যমে শিরায় ধারাবাহিক ইনফিউশন হিসেবে এটি দেন। রক্তচাপ ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সাবধানে মাত্রা সমন্বয় করা হয় এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো দেওয়া হয়। রক্তচাপ, হৃদছন্দ, তরলের ভারসাম্য ও রক্তের সোডিয়াম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রক্তচাপ বাড়ানোর অন্য ঔষধ (যেমন নরঅ্যাড্রিনালিন) এর প্রভাব বাড়ায়; মাত্রা একসাথে সমন্বয় করা হয়।
- কার্বামাজেপিন, ক্লোরপ্রোপামাইড, ক্লোফাইব্রেট ও ফ্লুড্রোকর্টিসোন এর পানি ধরে রাখার প্রভাব বাড়াতে পারে।
- লিথিয়াম, ডেমেক্লোসাইক্লিন ও হেপারিন কিডনিতে এর প্রভাব কমাতে পারে।
- হৃৎস্পন্দন কমানো ঔষধ হৃৎস্পন্দন আরও কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- ভ্যাসোপ্রেসিন বা কোনো উপাদানে, যেমন কিছু পণ্যে থাকা ক্লোরোবিউটানলে, অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর করোনারি আর্টারি রোগে খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হয় বা এড়িয়ে চলতে হয়, কারণ রক্তনালি সঙ্কুচিত হলে হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে আঙুল, ত্বক, অন্ত্র বা হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া (যাতে হাত-পা ফ্যাকাশে বা ঠাণ্ডা হওয়া, পেটব্যথা বা বুকে ব্যথা হতে পারে), ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, পানি জমে রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটে খিঁচুনি এবং ইনফিউশনের জায়গায় ত্বকের প্রতিক্রিয়া।
রোগীর বুকে ব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, আঙুল নীল বা খুব ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, অথবা ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ভ্যাসোপ্রেসিন জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে। গর্ভাবস্থায় উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটি ব্যবহার করা হয়। বুকের দুধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যায় কিনা জানা নেই; চিকিৎসা দল বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- শুধু হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেওয়া হয়।
- হৃদরোগ, মৃগী, মাইগ্রেন, হাঁপানি ও কিডনির রোগে সাবধানে ব্যবহার করা হয়।
- পানির বিষক্রিয়া এড়াতে তরল গ্রহণ ও রক্তের সোডিয়াম লক্ষ্য রাখা হয়।
- ইনফিউশন হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমানো হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত ভ্যাসোপ্রেসিনে খুব উচ্চ রক্তচাপ, অঙ্গ ও হাত-পায়ে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া, ধীর হৃৎস্পন্দন এবং পানির বিষক্রিয়া (বিভ্রান্তি বা খিঁচুনিসহ কম সোডিয়াম) হতে পারে। হাসপাতালে ইনফিউশন বন্ধ বা কমানো হয় এবং সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভ্যাসোপ্রেসর; অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোন অ্যানালগ।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না। হাসপাতালের কর্মীরা এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Vasopressin এর সব ব্র্যান্ড