Voriconazole
ব্যবহার
ভোরিকোনাজোল একটি শক্তিশালী ছত্রাকনাশক ঔষধ, যা সাধারণত হাসপাতালে বা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ছত্রাক সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- ইনভেসিভ অ্যাসপারজিলোসিস (গুরুতর ছত্রাক সংক্রমণ, প্রায়ই ফুসফুসে)।
- রক্ত ও শরীরের গভীর টিস্যুতে গুরুতর ক্যানডিডা সংক্রমণ এবং খাদ্যনালির ক্যানডিডা সংক্রমণ।
- সিডোস্পোরিয়াম ও ফিউজেরিয়ামের মতো বিরল ছত্রাকের গুরুতর সংক্রমণ।
- কিছু উচ্চ ঝুঁকির রোগীর, যেমন বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের পর, ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধে।
কীভাবে কাজ করে
ভোরিকোনাজোল আর্গোস্টেরল তৈরি বন্ধ করে, যা ছত্রাকের কোষঝিল্লির একটি অপরিহার্য অংশ। এটি ছাড়া ছত্রাক বাড়তে ও ছড়াতে পারে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সংক্রমণের ধরন, শরীরের ওজন ও রোগীর সাড়া অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন। সাধারণত প্রথম দিন বেশি মাত্রা (লোডিং ডোজ) দিয়ে শুরু করে পরে কম মাত্রায় চালানো হয়, ডাক্তারের নির্দেশমতো। ইনজেকশন হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স ধীরে ধীরে শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেন। ট্যাবলেট খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ১ ঘণ্টা পরে খেতে হয়। শিশু: ডাক্তারের নির্দেশমতো। মাত্রা ঠিক করতে রক্তে ঔষধের মাত্রা পরীক্ষা করা হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভোরিকোনাজোল অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। রিফামপিসিন, রিফাবিউটিন, কার্বামাজেপিন, ফেনোবারবিটালের মতো দীর্ঘক্রিয়াশীল বারবিচুরেট, বেশি মাত্রার রিটোনাভির, বেশি মাত্রার ইফাভিরেঞ্জ, সিরোলিমাস, পিমোজাইড, কুইনিডিন, আর্গট জাতীয় ঔষধ ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের সাথে এটি খাওয়া যাবে না। এটি সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ওয়ারফারিন, কিছু স্ট্যাটিন, ওমেপ্রাজল, মিডাজোলাম ও কিছু ক্যানসারের ঔষধের মাত্রা বাড়ায়, তাই মাত্রা বদলাতে হতে পারে। ফেনিটোইন এর মাত্রা কমায়। আপনি যত ঔষধ, ভেষজ ও সাপ্লিমেন্ট খান সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ভোরিকোনাজোল বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- যেসব ঔষধের সাথে একসাথে খাওয়া নিষেধ, সেগুলো চলাকালীন (উপরের প্রতিক্রিয়া অংশ দেখুন)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: দৃষ্টিতে সাময়িক পরিবর্তন (ঝাপসা দেখা, রং চিনতে সমস্যা, আলোতে অস্বস্তি), র্যাশ, জ্বর, বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, পা ফোলা এবং লিভার পরীক্ষার ফলে পরিবর্তন। কারও কারও হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রান্তি হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক রোদে খুব সংবেদনশীল হতে পারে এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি ত্বক বা চোখ হলুদ হয়, প্রস্রাব গাঢ় হয়, পেটে তীব্র ব্যথা হয়, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ হয়, অজ্ঞান হয়ে যান, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হয়, রোদে তীব্রভাবে পুড়ে যায়, অথবা মুখ বা গলা ফুলে শ্বাসকষ্ট হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে বলে, ডাক্তার যদি মনে না করেন যে উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, তবে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় লিভার, কিডনি ও রক্তের লবণ (পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম) পরীক্ষা করা হয়; হৃৎস্পন্দনের ছন্দ দেখতে ইসিজি করা হতে পারে।
- রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন; শরীর ঢেকে রাখুন ও বেশি এসপিএফের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- দৃষ্টিতে সমস্যা হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- লিভারের রোগ, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা বা কিডনির সমস্যা (ইনজেকশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ) থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- নির্দেশমতো পুরো কোর্স শেষ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে আলোতে অস্বস্তি, দৃষ্টির পরিবর্তন ও হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। এর চিকিৎসা হাসপাতালে করতে হয়। বেশি খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ট্রায়াজোল ছত্রাকনাশক।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। ইনজেকশনের ভায়াল লেবেলের নির্দেশমতো হাসপাতালের কর্মীরা সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Voriconazole এর সব ব্র্যান্ড