Vortioxetine
ব্যবহার
ভরটিওক্সেটিন প্রাপ্তবয়স্কদের মেজর ডিপ্রেশন (বিষণ্নতার রোগ) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। বিষণ্নতার সাথে থাকা মন খারাপ, কোনো কিছুতে আগ্রহ না থাকা, ঘুম ও শক্তির সমস্যা এবং মনোযোগের অভাব কমাতে এটি সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
ভরটিওক্সেটিন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের পরিমাণ বাড়ায়, যা মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে। এটি সেরোটোনিনের কয়েকটি রিসেপ্টরেও কাজ করে, তাই একে মাল্টিমোডাল অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বলা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ১০ mg। উপকার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখে ডাক্তার এটি দিনে ৫ mg থেকে ২০ mg এর মধ্যে বদলাতে পারেন।
- ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী: সাধারণত দিনে একবার ৫ mg দিয়ে শুরু।
- ১৮ বছরের কম বয়সী: পরামর্শ দেওয়া হয় না।
দিনের যেকোনো সময়ে খাবারের আগে বা পরে পানি দিয়ে গিলে খান। কাজ শুরু হতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে। ভালো বোধ করার পরও সাধারণত অন্তত ৬ মাস চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে খাওয়া বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফেনেলজিন, মোক্লোবেমাইড, সেলেজিলিন বা লিনেজোলিডের মতো এমএও ইনহিবিটরের সাথে, বা সেগুলো বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে এটি খাবেন না। ট্রামাডল, সুমাট্রিপটান, অন্য বিষণ্নতার ঔষধ, লিথিয়াম, ট্রিপটোফান বা সেন্ট জনস ওয়োর্টের মতো সেরোটোনিন বাড়ানো ঔষধের সাথে খেলে সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে। বুপ্রোপিয়ন, ফ্লুওক্সেটিন ও প্যারোক্সেটিন এর মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন; রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন ও ফেনিটোইন এটি কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক ও ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- ভরটিওক্সেটিন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- এখন বা গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খুব সাধারণ: বমি বমি ভাব, সাধারণত হালকা এবং প্রথম ২ সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়। সাধারণ: বমি, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, চুলকানি, অস্বাভাবিক স্বপ্ন ও যৌন সমস্যা।
নিজেকে আঘাত করা বা জীবন শেষ করার চিন্তা এলে, অস্থিরতা, বেশি জ্বর, ঘাম, কাঁপুনি ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন (সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ), খিঁচুনি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, অতিরিক্ত উৎফুল্ল ভাব বা অস্বাভাবিক সক্রিয়তা, বিভ্রান্তি ও দুর্বলতা (সোডিয়াম কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের), অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই খাবেন। গর্ভাবস্থার শেষদিকে এ ধরনের ঔষধ খেলে নবজাতকের শ্বাসের সমস্যা, অস্থিরতা বা খাওয়ার সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী হলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। এটি বুকের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
প্রথম কয়েক সপ্তাহে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের আত্মঘাতী চিন্তা বাড়তে পারে; পরিবারের সদস্যদের মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তন খেয়াল রাখা উচিত। মৃগী, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, রক্তক্ষরণের সমস্যা, তীব্র লিভারের রোগ, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমার ঝুঁকি এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। মাথা ঘোরা হতে পারে, তাই ঔষধটি আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরা, চুলকানি, ঝিমুনি ও মুখ লাল হতে পারে; খুব বেশি খেলে খিঁচুনি হতে পারে। দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিষণ্নতার ঔষধ (সেরোটোনিন মডিউলেটর ও স্টিমুলেটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Vortioxetine এর সব ব্র্যান্ড